ভৈরবে  ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ট্রেনের বগিতে  আটকা পড়া ৮ বিদেশী যাত্রীকে মানবিক কারনে বিকল্প পথে বিমানবন্দরে  পাঠিয়ে দিল যুবকরা। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • ১৩১ Time View

৬ জুন, নিজস্ব  প্রতিনিধি

কথায় আছে মানুষ মানুষের জন্য। ভৈরবের কয়েকজন যুবক তা প্রমান করে দিলেন। বিপদে মোড় সহায় কর আল্লাহ। এমন একটি মানবিক  ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। যুবকদের সহায়তায় ৮ জন প্রবাসী যাত্রী বিদেশে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে তথ্যসূত্রে  জানা গেছে। 

গত বৃহস্পতিবার ( ৪ জুন)   রাত ৮ টায় ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে শহরের আমলাপাড়া ও জগনাথপুর গ্রামবাসীর মধ্য এক সংঘর্ষ হয়। এসময় দুই পক্ষ ভৈরব রেলস্টেশনের ১ নং ও ২ নং  প্লাটফরম দখল করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। হামলাকারীরা স্টেশন মাস্টারের রুম ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশ, থানা পুলিশ, Rab, সেনাবাহিনীর প্রায় শতাধিক সদস্য স্টেশনে পৌঁছেও সংঘর্ষ থামাতে ব্যর্থ হয়। ঘটনার সময় বিভিন্ন রেলস্টেশে ৬ টি ট্রেন আটকা পড়ে। এসব ট্রেনে অনেক যাত্রী ছিল যারা বিদেশগামী। তারা ওইদিন রাতে বিদেশের ফ্লাইটে বিদেশে যাওয়ার জন্য ট্রেনে ছিল। এদিন আটকা পড়া ট্রেনের মধ্য চট্রগ্রাম থেকে  – ঢাকাগামী মহানগর, সিলেট থেকে ঢাকাগামী পারাবত, ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্ধু এক্সপ্রেস, ব্রাক্ষণবাড়ীয়াগামী তিতাস কমিউটার, ঢাকা থেকে চট্রগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস। এছাড়াও ভৈরব রেলস্টেশনে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঢাকা থেকে একাধিক ট্রেন যথাসময়ে গন্তব্যে ছাড়েনি বলে খবর পাওয়া যায়। 

এদিনের ঘটনায় চট্রগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেসে ৮ জন প্রবাসী যাত্রী ছিল। তারা সৌদি আরব, মালশিয়া, ইতালী যাবার ফ্লাইটে উঠবে। তাদের মধ্য কারো ফ্লাইট রাত ৩ টা, কারো ৪ টা। মহানগর ট্রেনটি তখন ভৈরবের রেলওয়ে সেতুর নিকটে অন্ধকারে আটকা পড়ে। ট্রেনের চালক ভৈরবের রেলস্টেশনে আসার কোন সিগনাল পাচ্ছেনা। তখন রাত ১১.৩০ মিনিট। এরই মধ্য স্থানীয় কিছু যুবক যাত্রীদেরকে পানি দিয়ে সহায়তা করছে। এসময় রাত ১২ টায়  প্রবাসী কয়েকজন যাত্রী চিৎকার করে বলতে থাকে তারা বিদেশের ফ্লাইটে প্রবাসে যাবে। ফ্লাইট ধরতে না পারলে তাদের ভিসা বাতিল হবে। তাদের চিৎকার শুনে  ভৈরবের  যুবক আনান মাহিম ও মোঃ যুবায়ের ইসলাম প্রবাসীদের কান্না দেখে দ্রুত একটি হায়েস ও একটি প্রাইভেট  গাড়ীর ড্রাইভারকে ফোন করে ঘটনাস্থলে এনে সকলের সহযোগীতায় প্রবাসী ৮ জন যাত্রীকে গাড়ীতে উঠিয়ে দেয়। তাদের মধ্য একজনের কাছে গাড়ী ভাড়ার কোন টাকা ছিলনা। পরে তার গাড়ী ভাড়া যুবকরা মিলে পরিশোধ করে। তারপর রাত সাড়ে ১২ টায় গাড়ীটি ভৈরব থেকে ছেড়ে রাত ৩ টায় বিমান বন্দরে যাত্রীদের পৌঁছে দেয়। 

হায়েস গাড়ীর ড্রাইভার আবদুর রশিদ যুগান্তরকে বলেন, আমি দ্রুত গাড়ী চালিয়ে রাত তিনটায় সকলকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। তারা নিরাপদে বিমানে উঠতে পেরেছে বলে ড্রাইভার জানান। রশিদ বলেন আমি মানবিক কারনে তাদের কাছ থেকে শুধু জ্বালানী তেলের খরচ নিয়েছি। পুরা ভাড়া নেয়নি। 

এবিষয়ে ভৈরবের যুবক আনান মাহিম ও যুবায়ের এই প্রতিনিধিকে ফোনে বলেন, আমরা মানবিক কারনে রাতে সেদিন যাত্রীদেরকে অন্ধকারে নিরাপত্তা দেয় ও বিনা টাকায় পানি সরবরাহ করি। এরপর ৮ জন প্রবাসীকে গাড়ী করে বিমানবন্দরে পৌঁছাবার ব্যবস্থা করেছি। ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবার ভৈরব রেলস্টেশনে ফুটবল খেলা নিয়ে ঝগড়া সংঘর্ষ চলাকালে মহানগর  ট্রেনটি  স্টেশনের আউটার সিগনালে আটকা পড়েছিল। 

মালশিয়াগামী যাত্রী রফিকুল আলম বলেন, আমি ব্রাক্ষণবাড়ীয়া থেকে মহানগর ট্রেনে উঠে ভৈরবে আটকা পড়ি। পরে কয়েকজন যুবকের সহায়তায় হায়েস গাড়ীতে বিমানবন্দরে পৌঁছতে পারি। সৌদী আরব প্রবাসী আবদুর রাজ্জাক বলেন ভৈরবের যুবকরা সহায়তা না করলে আমরা বিমানে যেতে পারতাম না। আমার ভিসা বাতিল হত। 

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। একেই বলে মানবিক বিষয়। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভৈরব পৌরসভার সাবেক তিনবারের মেয়র এড, আক্কাছ আর নেই। 

ভৈরবে  ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ট্রেনের বগিতে  আটকা পড়া ৮ বিদেশী যাত্রীকে মানবিক কারনে বিকল্প পথে বিমানবন্দরে  পাঠিয়ে দিল যুবকরা। 

Update Time : ১২:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

৬ জুন, নিজস্ব  প্রতিনিধি

কথায় আছে মানুষ মানুষের জন্য। ভৈরবের কয়েকজন যুবক তা প্রমান করে দিলেন। বিপদে মোড় সহায় কর আল্লাহ। এমন একটি মানবিক  ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। যুবকদের সহায়তায় ৮ জন প্রবাসী যাত্রী বিদেশে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে তথ্যসূত্রে  জানা গেছে। 

গত বৃহস্পতিবার ( ৪ জুন)   রাত ৮ টায় ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে শহরের আমলাপাড়া ও জগনাথপুর গ্রামবাসীর মধ্য এক সংঘর্ষ হয়। এসময় দুই পক্ষ ভৈরব রেলস্টেশনের ১ নং ও ২ নং  প্লাটফরম দখল করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। হামলাকারীরা স্টেশন মাস্টারের রুম ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশ, থানা পুলিশ, Rab, সেনাবাহিনীর প্রায় শতাধিক সদস্য স্টেশনে পৌঁছেও সংঘর্ষ থামাতে ব্যর্থ হয়। ঘটনার সময় বিভিন্ন রেলস্টেশে ৬ টি ট্রেন আটকা পড়ে। এসব ট্রেনে অনেক যাত্রী ছিল যারা বিদেশগামী। তারা ওইদিন রাতে বিদেশের ফ্লাইটে বিদেশে যাওয়ার জন্য ট্রেনে ছিল। এদিন আটকা পড়া ট্রেনের মধ্য চট্রগ্রাম থেকে  – ঢাকাগামী মহানগর, সিলেট থেকে ঢাকাগামী পারাবত, ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্ধু এক্সপ্রেস, ব্রাক্ষণবাড়ীয়াগামী তিতাস কমিউটার, ঢাকা থেকে চট্রগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস। এছাড়াও ভৈরব রেলস্টেশনে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঢাকা থেকে একাধিক ট্রেন যথাসময়ে গন্তব্যে ছাড়েনি বলে খবর পাওয়া যায়। 

এদিনের ঘটনায় চট্রগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেসে ৮ জন প্রবাসী যাত্রী ছিল। তারা সৌদি আরব, মালশিয়া, ইতালী যাবার ফ্লাইটে উঠবে। তাদের মধ্য কারো ফ্লাইট রাত ৩ টা, কারো ৪ টা। মহানগর ট্রেনটি তখন ভৈরবের রেলওয়ে সেতুর নিকটে অন্ধকারে আটকা পড়ে। ট্রেনের চালক ভৈরবের রেলস্টেশনে আসার কোন সিগনাল পাচ্ছেনা। তখন রাত ১১.৩০ মিনিট। এরই মধ্য স্থানীয় কিছু যুবক যাত্রীদেরকে পানি দিয়ে সহায়তা করছে। এসময় রাত ১২ টায়  প্রবাসী কয়েকজন যাত্রী চিৎকার করে বলতে থাকে তারা বিদেশের ফ্লাইটে প্রবাসে যাবে। ফ্লাইট ধরতে না পারলে তাদের ভিসা বাতিল হবে। তাদের চিৎকার শুনে  ভৈরবের  যুবক আনান মাহিম ও মোঃ যুবায়ের ইসলাম প্রবাসীদের কান্না দেখে দ্রুত একটি হায়েস ও একটি প্রাইভেট  গাড়ীর ড্রাইভারকে ফোন করে ঘটনাস্থলে এনে সকলের সহযোগীতায় প্রবাসী ৮ জন যাত্রীকে গাড়ীতে উঠিয়ে দেয়। তাদের মধ্য একজনের কাছে গাড়ী ভাড়ার কোন টাকা ছিলনা। পরে তার গাড়ী ভাড়া যুবকরা মিলে পরিশোধ করে। তারপর রাত সাড়ে ১২ টায় গাড়ীটি ভৈরব থেকে ছেড়ে রাত ৩ টায় বিমান বন্দরে যাত্রীদের পৌঁছে দেয়। 

হায়েস গাড়ীর ড্রাইভার আবদুর রশিদ যুগান্তরকে বলেন, আমি দ্রুত গাড়ী চালিয়ে রাত তিনটায় সকলকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। তারা নিরাপদে বিমানে উঠতে পেরেছে বলে ড্রাইভার জানান। রশিদ বলেন আমি মানবিক কারনে তাদের কাছ থেকে শুধু জ্বালানী তেলের খরচ নিয়েছি। পুরা ভাড়া নেয়নি। 

এবিষয়ে ভৈরবের যুবক আনান মাহিম ও যুবায়ের এই প্রতিনিধিকে ফোনে বলেন, আমরা মানবিক কারনে রাতে সেদিন যাত্রীদেরকে অন্ধকারে নিরাপত্তা দেয় ও বিনা টাকায় পানি সরবরাহ করি। এরপর ৮ জন প্রবাসীকে গাড়ী করে বিমানবন্দরে পৌঁছাবার ব্যবস্থা করেছি। ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবার ভৈরব রেলস্টেশনে ফুটবল খেলা নিয়ে ঝগড়া সংঘর্ষ চলাকালে মহানগর  ট্রেনটি  স্টেশনের আউটার সিগনালে আটকা পড়েছিল। 

মালশিয়াগামী যাত্রী রফিকুল আলম বলেন, আমি ব্রাক্ষণবাড়ীয়া থেকে মহানগর ট্রেনে উঠে ভৈরবে আটকা পড়ি। পরে কয়েকজন যুবকের সহায়তায় হায়েস গাড়ীতে বিমানবন্দরে পৌঁছতে পারি। সৌদী আরব প্রবাসী আবদুর রাজ্জাক বলেন ভৈরবের যুবকরা সহায়তা না করলে আমরা বিমানে যেতে পারতাম না। আমার ভিসা বাতিল হত। 

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। একেই বলে মানবিক বিষয়।