ভৈরবে হাওলাত টাকা না দেওয়ায় মেয়ের  শিক্ষককে দা দিয়ে কোপালো শিক্ষার্থীর মা। থানায় মামলা, ১ জন গ্রেফতার। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ১২৫ Time View

১৪  জুলাই,  নিজস্ব  প্রতিনিধি

 ভৈরবে হাওলাত টাকা না দেওয়ায় মেয়ের টিউটর শিক্ষক সিঁথি সীমিতা (২৮) কে দা দিয়ে কোপালো শিক্ষার্থীর মা। এই ঘটনায় জনতার হাতে প্রিয়া (২২) নামের এক নারীকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করা হয়েছে। 

গতকাল  সোমবার সন্ধ্যায়  ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর রাতেই শিক্ষিকার চাচাশুশুর থানায় প্রিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আজ মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ আদালতে চালান দেয়। এদিকে গুরুতর আহত শিক্ষিকা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে তার পারিবারিক সূত্র জানায়। 

গ্রেফতারকৃত  নারী উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকার মতি চান্দের বাড়ির হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী ও খোকন মিয়ার মেয়ে। 

 জানা যায়, স্থানীয় কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা ভুক্তভোগী নারী ভৈরব উপজেলা শিবপুর ইউনিয়নের গাজিরটেক এলাকার মৃত সুলায়মান মিয়ার মেয়ে সিঁথি সীমিতা। তিনি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি টিউশনি পড়ান। প্রতিদিনের মত সোমবার সকালে একই এলাকার বায়েজিদ মিয়ার বাসায় তার মেয়েকে পড়াতে যান। পড়ানো শেষ করে বাড়ি ফেরার সময়ে পুনরায় বাসায় ফেলে আসা ছাতা আনতে গেলে হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীর মা প্রিয়া বেগম হাতের দা দিয়ে শিক্ষিকাকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় শিক্ষিকার দুটি আঙ্গুল কেটে ফেলে। এছাড়াও তার শরীরে মারাত্মকভাবে আঘাত করে।  পরে চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। তারপর  থানা পুলিশ খবর পেয়ে জনতার হাতে আটকৃত অভিযুক্ত নারীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। 

ভুক্তভূগির চাচাশুশুর ও মামলার বাদী মোঃ   শিশু  মিয়া জানান, আমি শুনেছি কয়েকদিন আগে শিক্ষার্থীর মা শিক্ষকের নিকট ২০ হাজার টাকা হাউলাত চেয়েছিল। কিন্ত এতটাকা তার পক্ষে দেয়া সম্ভব ছিলনা। আমাদের সন্দেহ এই ক্ষোভে এবং  রাগে তাকে দা দিয়ে কুপিয়েছে। 

আহত শিক্ষিকার দেবর সারোয়ার বলেন, আমার ভাবী একটি স্কুলে চাকরি করেন। পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পড়ান। প্রতিদিনের মতই আজও সকালে ভাবী প্রিয়া নামের এক মহিলার মেয়েকে তার বাসায় প্রাইভেট পড়াতে যান৷ পড়ানো শেষ করে বাসায় ফিরে আসার সময়ে হঠাৎ করে দা দিয়ে কুপিয়ে ভাবীকে গুরুতর আহত করে। পরে খবর পেয়ে আমরা ভাবীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার অবস্থা খারাপে দিকে গেলে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করে। তার অবস্থা খুব খারাপ। 

এবিষয়ে ভৈরব থানার উপপরিদর্শক এমদাদুল কবির জানান, শিবপুর ইউনিয়নের  পানাউল্লাহচর এলাকায় এক গৃহ শিক্ষিকাকে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে জনতার হাতে এক নারীকে আটক হয়। ৯৯৯ এ অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এই ঘটনায় শিক্ষিকার চাচাশুশুর বাদী হয়ে থানায় মামলা করে। মামলাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভৈরব পৌরসভার সাবেক তিনবারের মেয়র এড, আক্কাছ আর নেই। 

ভৈরবে হাওলাত টাকা না দেওয়ায় মেয়ের  শিক্ষককে দা দিয়ে কোপালো শিক্ষার্থীর মা। থানায় মামলা, ১ জন গ্রেফতার। 

Update Time : ০৬:১০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

১৪  জুলাই,  নিজস্ব  প্রতিনিধি

 ভৈরবে হাওলাত টাকা না দেওয়ায় মেয়ের টিউটর শিক্ষক সিঁথি সীমিতা (২৮) কে দা দিয়ে কোপালো শিক্ষার্থীর মা। এই ঘটনায় জনতার হাতে প্রিয়া (২২) নামের এক নারীকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করা হয়েছে। 

গতকাল  সোমবার সন্ধ্যায়  ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর রাতেই শিক্ষিকার চাচাশুশুর থানায় প্রিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আজ মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ আদালতে চালান দেয়। এদিকে গুরুতর আহত শিক্ষিকা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে তার পারিবারিক সূত্র জানায়। 

গ্রেফতারকৃত  নারী উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকার মতি চান্দের বাড়ির হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী ও খোকন মিয়ার মেয়ে। 

 জানা যায়, স্থানীয় কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা ভুক্তভোগী নারী ভৈরব উপজেলা শিবপুর ইউনিয়নের গাজিরটেক এলাকার মৃত সুলায়মান মিয়ার মেয়ে সিঁথি সীমিতা। তিনি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি টিউশনি পড়ান। প্রতিদিনের মত সোমবার সকালে একই এলাকার বায়েজিদ মিয়ার বাসায় তার মেয়েকে পড়াতে যান। পড়ানো শেষ করে বাড়ি ফেরার সময়ে পুনরায় বাসায় ফেলে আসা ছাতা আনতে গেলে হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীর মা প্রিয়া বেগম হাতের দা দিয়ে শিক্ষিকাকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় শিক্ষিকার দুটি আঙ্গুল কেটে ফেলে। এছাড়াও তার শরীরে মারাত্মকভাবে আঘাত করে।  পরে চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। তারপর  থানা পুলিশ খবর পেয়ে জনতার হাতে আটকৃত অভিযুক্ত নারীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। 

ভুক্তভূগির চাচাশুশুর ও মামলার বাদী মোঃ   শিশু  মিয়া জানান, আমি শুনেছি কয়েকদিন আগে শিক্ষার্থীর মা শিক্ষকের নিকট ২০ হাজার টাকা হাউলাত চেয়েছিল। কিন্ত এতটাকা তার পক্ষে দেয়া সম্ভব ছিলনা। আমাদের সন্দেহ এই ক্ষোভে এবং  রাগে তাকে দা দিয়ে কুপিয়েছে। 

আহত শিক্ষিকার দেবর সারোয়ার বলেন, আমার ভাবী একটি স্কুলে চাকরি করেন। পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পড়ান। প্রতিদিনের মতই আজও সকালে ভাবী প্রিয়া নামের এক মহিলার মেয়েকে তার বাসায় প্রাইভেট পড়াতে যান৷ পড়ানো শেষ করে বাসায় ফিরে আসার সময়ে হঠাৎ করে দা দিয়ে কুপিয়ে ভাবীকে গুরুতর আহত করে। পরে খবর পেয়ে আমরা ভাবীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার অবস্থা খারাপে দিকে গেলে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করে। তার অবস্থা খুব খারাপ। 

এবিষয়ে ভৈরব থানার উপপরিদর্শক এমদাদুল কবির জানান, শিবপুর ইউনিয়নের  পানাউল্লাহচর এলাকায় এক গৃহ শিক্ষিকাকে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে জনতার হাতে এক নারীকে আটক হয়। ৯৯৯ এ অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এই ঘটনায় শিক্ষিকার চাচাশুশুর বাদী হয়ে থানায় মামলা করে। মামলাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।