২৪ জুন, নিজস্ব প্রতিনিধি।
ভৈরব উপজেলা পরিষদের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আরমান হোসাইনের বিরুদ্ধে ঘূষ গ্রহনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ১১ জন মেম্বার জেলা প্রশাসকের নিকট এক লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয় ওই প্রশাসনিক কর্মকর্তা মেম্বারদের মাসিক সন্মানী ভাতা থেকে ৫০০ টাকা করে ঘূষ নেন। ঘূষের টাকা না দিলে তাদের মেম্বার পদ থাকবেনা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে অসৌজ্যমূলক আচরণ করেন তাদের সাথে। এছাড়াও ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত গ্রাম পুলিশের বেতন ভাতা নিতে গেলে, উপর মহলে টাকা দেয়ার কথা বলে তাদের মাসিক বেতন ভাতা থেকে ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা ঘূষ নেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। শুধু তাই নয় বিভিন্ন ইউনিয়নের সেবা গ্রহিতা নারী মেম্বারগন তার কাছে গেলে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করে তাদের ফোন নাম্বার নিয়ে আজেবাজে কথা বলেন। অনেক মেম্বারকে অনৈতিক প্রস্তাব করেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

গত ৮ জুন ৩ জন নারীসহ ১১ জন মেম্বার জেলা প্রশাসকের নিকট এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে আজ বুধবার ( ২৪ জুন) অভিযোগের তদন্ত হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
আজ বুধবার তদন্ত করতে আসা তদন্ত কমিটির সদস্য সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্যাট শেখ সোয়েব এবিষয়ে যুগান্তরকে জানান, ভৈরব উপজেলার মেম্বারদের লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করেছি। তদন্তের বিষয়টি গোপনীয়, তাই আমি তদন্ত রিপোর্টটি জেলা প্রশাসকের নিকট জমা দিব।
অভিযোগকারী আগানগর ইউনিয়নের মেম্বার জাহাংগীর আলম এব্যাপারে বলেন, ওই কর্মকর্তা আরমানকে আমাদের মাসিক ভাতা থেকে ৫০০ টাকা করে ঘূষ দিতে হয়। একারনে আমরা অভিযোগ করেছি। শিমুলকান্দি ইউনিয়নের এক নারী মেম্বার অভিযোগে বলেন, অল্পবয়সী কোন নারী তার রুমে গিয়ে কোন সেবা নিতে চাইলে কাজটি করার কথা বলে তার সাথে অনৈতিক কথা বলতে তার ফোন নাম্বার নেন। পরে ফোনে অশালীন কথা বলেন যা অফিস নিয়মে পড়েনা।
অভিযুক্ত আরমান হোসাইন এবিষয়ে বলেন, ঘূষের টাকা দাবি ও নারী মেম্বারদের সাথে অনৈতিক সংলাপ বিষয়টির অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক। আমি এব্যাপারে কিছুই জানিনা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম মামুনুর রশীদ এবিষয়ে বলেন, অভিযোগটি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট করেছেন, যার তদন্ত আজ হয়েছে। এখন তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছে। কাজেই এব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবনা।
বিষয়টি জানতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনকে তার মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
Reporter Name 









