ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তাকে কাফনের কাপড় ও চিরকুট পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৭:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ৫৫ Time View

২০ জুলাই, নিজস্ব  প্রতিনিধি

​ ​ভৈরব পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুককে এস.এ পরিবহনের মাধ্যমে পার্সেল করে সাদা কাফনের কাপড়, গোলাপ জল, আগরবাতি এবং হুমকিভরা চিরকুট পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। 

রবিবার (১৯ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়া এলাকার ‘ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়’ (যা ভুক্তভোগীর স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান)-এর ঠিকানায়  পার্সেল পাঠিয়ে এই হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

পুলিশ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়া এলাকার ‘ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়’ (যা ভুক্তভোগীর স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান)-এর ঠিকানায় একটি পার্সেল পাঠানো হয়। ভৈরব এস.এ পরিবহন থেকে পাঠানো ওই পার্সেলের প্রেরক হিসেবে হরিদাস, আশুগঞ্জ এবং মোবাইল নম্বর (০১৭৩৮৮-৩৩৩২৯) উল্লেখ করা হয়। আর প্রাপক হিসেবে মো. ফারুকের নাম ও তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়।

​ওই দিন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় তার ছেলে মুন্তাসির মাহমুদ ঈশান বেলা ১২টা ২০ মিনিটে পার্সেলটি রিসিভ করেন। পরে বাসায় গিয়ে বাক্সটি খুলে ভেতরে ​১ গজ সাদা কাফনের কাপড়, ​১টি গোলাপ জল, ​১টি আগরবাতি এবং ​হুমকিভরা একটি চিরকুট পাওয়া যায়। 

​এ বিষয়ে ভৈরব পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার মো. ফারুক বলেন, আমি দীর্ঘ চার বছরেরও অধিক সময় ধরে ভৈরব পৌরসভায় অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও নিয়মকানুন মেনে দায়িত্ব পালন করে আসছি। পৌরসভার কোনো কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি বা বিধিবহির্ভূত আবদারকে আমি কখনো প্রশ্রয় দিইনি। সরকারি বিধি রক্ষায় আমাকে সবসময় কঠোর অবস্থান নিতে হয়েছে। ধারণা করছি, আমার এই কঠোর ও আপসহীন ভূমিকার কারণে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা অপরাধী চক্র আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এই জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়েছে। একটি মানুষকে সরাসরি কাফনের কাপড় ও মৃত্যুর হুমকি পাঠানোর মতো ঘটনা শুধু আমাকে নয়, আমার পুরো পরিবারকে মানসিকভাবে আতঙ্কিত করেছে।

চিরকুটে লেখা থাকে “আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে দিন। না হলে আপনার পরিণতি ভয়ংকর হবে।”

​ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিমন বোস জানায়, ভৈরব পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুককে  পার্সেল পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হয়।  এই বিষয়ে তিনি থানায়  একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভৈরব পৌরসভার সাবেক তিনবারের মেয়র এড, আক্কাছ আর নেই। 

ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তাকে কাফনের কাপড় ও চিরকুট পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি। 

Update Time : ১২:১৭:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

২০ জুলাই, নিজস্ব  প্রতিনিধি

​ ​ভৈরব পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুককে এস.এ পরিবহনের মাধ্যমে পার্সেল করে সাদা কাফনের কাপড়, গোলাপ জল, আগরবাতি এবং হুমকিভরা চিরকুট পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। 

রবিবার (১৯ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়া এলাকার ‘ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়’ (যা ভুক্তভোগীর স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান)-এর ঠিকানায়  পার্সেল পাঠিয়ে এই হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

পুলিশ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়া এলাকার ‘ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়’ (যা ভুক্তভোগীর স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান)-এর ঠিকানায় একটি পার্সেল পাঠানো হয়। ভৈরব এস.এ পরিবহন থেকে পাঠানো ওই পার্সেলের প্রেরক হিসেবে হরিদাস, আশুগঞ্জ এবং মোবাইল নম্বর (০১৭৩৮৮-৩৩৩২৯) উল্লেখ করা হয়। আর প্রাপক হিসেবে মো. ফারুকের নাম ও তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়।

​ওই দিন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় তার ছেলে মুন্তাসির মাহমুদ ঈশান বেলা ১২টা ২০ মিনিটে পার্সেলটি রিসিভ করেন। পরে বাসায় গিয়ে বাক্সটি খুলে ভেতরে ​১ গজ সাদা কাফনের কাপড়, ​১টি গোলাপ জল, ​১টি আগরবাতি এবং ​হুমকিভরা একটি চিরকুট পাওয়া যায়। 

​এ বিষয়ে ভৈরব পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার মো. ফারুক বলেন, আমি দীর্ঘ চার বছরেরও অধিক সময় ধরে ভৈরব পৌরসভায় অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও নিয়মকানুন মেনে দায়িত্ব পালন করে আসছি। পৌরসভার কোনো কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি বা বিধিবহির্ভূত আবদারকে আমি কখনো প্রশ্রয় দিইনি। সরকারি বিধি রক্ষায় আমাকে সবসময় কঠোর অবস্থান নিতে হয়েছে। ধারণা করছি, আমার এই কঠোর ও আপসহীন ভূমিকার কারণে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা অপরাধী চক্র আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এই জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়েছে। একটি মানুষকে সরাসরি কাফনের কাপড় ও মৃত্যুর হুমকি পাঠানোর মতো ঘটনা শুধু আমাকে নয়, আমার পুরো পরিবারকে মানসিকভাবে আতঙ্কিত করেছে।

চিরকুটে লেখা থাকে “আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে দিন। না হলে আপনার পরিণতি ভয়ংকর হবে।”

​ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিমন বোস জানায়, ভৈরব পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুককে  পার্সেল পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হয়।  এই বিষয়ে তিনি থানায়  একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।