১৬ মে, বিশেষ প্রতিনিধি।
ভৈরবে মেঘনা নদীর পাড়ে কেপিআই এলাকায় রেলওয়ের খালি ভূমিতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টন কয়লা মজুত করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নদীর পাড়ে আধা কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় কয়লা মজুত করেছে। গত দেড় যুগ যাবত ভৈরবের মেঘনা পাড়টি ছিল সাধারণ মানুষের বিনোদন কেন্দ্র। অবৈধভাবে কয়লা মজুত রাখার কারনে একদিকে পরিবেশ দূষন , অপরদিকে মেঘনা নদীর পানি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নদীর পাড়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূমিতে পুরা এলাকায় এখন কয়লার পাহাড়। কয়লা মজুতের কারনে দৃষ্টিনন্দন নদীর পাড়টি বিনোদন হারাতে বসেছে। এছাড়া ভৈরবের দুটি রেলওয়ে সেতু ও একটি সড়ক সেতু ঝুঁকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন মেঘনা পাড়ের এই ক্ষুদ্র বনভূমি কেপিআই এলাকায় এভাবে কয়লা মজুতের কারনে এলাকার পরিবেশ ও নদীর পানির স্বচ্ছতা হারাচ্ছে। স্থানীয় পরিবেশবাদীরাসহ বিভিন্ন সংগঠন নদীর পাড়ে একাধিকবার মানববন্ধন করে প্রতিবাদ করে কয়লা সরানোর দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি অবিলম্বে কেপিআই এড়িয়া নদীর পাড় থেকে কয়লা অন্যস্থানে সরাতে হবে। জানা গেছে স্থানীয় এক শ্রেনীর ব্যবসায়ী বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে জমি কৃষি লীজ নিয়ে লীজের জায়গায় কয়লা মজুত করে লাখ লাখ টাকা ভাড়া পেয়ে তারা লাভমান হচ্ছে।

জানা যায়, বর্তমানে কয়লা ব্যবসায়ীরা ভৈরব মেঘনা পাড়সহ পার্শ্ববর্তী চন্ডিবের ও কালিপুর গ্রাম পর্যন্ত কয়লা মজুত করছে। পরিবেশবাদীদের অভিযোগ কয়লা ব্যবসার সাথে জড়িত মাত্র শতাধিক ব্যবসায়ী। এই শতাধিক ব্যবসায়ী কয়লা ব্যবসা করে লাভমান হলেও পরিবেশ দূষনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। অপরদিকে মেঘনার স্বচ্ছ পানি দূষিত হচ্ছে। এখানে সড়ক ও জনপদ রেলওয়ের অনুমতি নিয়ে চারিদিকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এলাকাটি কেপিআই ঘোষনা করেছে। কর্তৃপক্ষ কেপিআই এলাকায় সাইনবোর্ড দিয়েছে এখানে কয়লা, পাথর, বালু মজুত করা যাবেনা। সাইবোর্ডের লেখার আদেশ কেউ মানেনা, কে শুনে কার কথা। প্রতিদিন ৫/৭ টি জাহাজ নদীর পাড়ে ভীড়ে কয়লা লোড আনলোড করতে দেখা যায়। সূত্র জানায়, কয়লা ব্যবসার সাথে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল জড়িত আছে। একারনে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। এমনকি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদেরকে উচ্ছেদ করতে পারছেনা।
এবিষয়ে ভৈরব কয়লা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি হাজি ওবাইদুল হক বাবুল জানান, এখানে কয়লা ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১২০ জন। প্রতিদিন ভৈরবে ৭/৮ কোটির টাকার কয়লা বিক্রি হয়। এসব কয়লা দেশের কমপক্ষে ২০ টি জেলার ইটভাটাতে সরবরাহ করা হয়। দেশের আমদানীকারকগন বিদেশ থেকে কয়লা আমদানী করে নদী বন্দর ভৈরবে পাঠায়। কয়লা ব্যবসায় প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক কাজ করছে। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে, অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে। নদীর পাড় ছাড়া কয়লা মজুত করার জায়গা ভৈরবে নেই। ইদানিং চন্ডিবের ও কালীপুর এলাকায় বেসরকারী কিছু জায়গায় কয়লা মজুত রাখা হয়। রেলওয়ের জায়গাটি পতিত বলে অনেকে লীজ এনে কয়লা মজুত রাখে। কেপিআই এলাকা হলেও এখানে তেমন নিরাপত্তা নেই। পরিবেশ দূষন হচ্ছে এমন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। ব্যবসায়ীরা সাবধানে কয়লা লোড আনলোড করেন এমনটা তার দাবি।
স্থানীয় পরিবেশবাদী নেতা আহমেদ আলী বলেন, নদীর পাড়ে কয়লা মজুতের কারনে পরিবেশ দূষনসহ নদীর পানি নষ্ট হচ্ছে। আমরা বার বার প্রতিবাদ করলেও কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী যিনি ভৈরবের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোঃ নুরুল ইসলামকে এবিষয়ে জানতে ফোন করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ভৈরবের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাজীব কুমার দাস জানান, নদীর পাড় এলকাটি কেপিআইভূক্ত এলাকা। তবে এলাকাটি নরসিংদির সওজ এর অধীনে আছে। কেপিআই এলাকায় কয়লা কিভাবে মজুত রাখে ব্যবসায়ীরা তা তিনি বলতে পারবেন। জায়গাটি রেলওয়ের কিন্ত সওজ কর্তৃপক্ষ রেলওয়ের অনুমতি সাপেক্ষ কাটাঁতারের বেড়া দিয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমারকে ফোন করলে তিনি এবিষয়ে জানান, ভৈরবের নদীর পাড় এলাকাটি কেপিআইভূক্ত। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নদীর পাড় এলাকায় কৃষি লীজ দিয়েছে একাধিক ব্যক্তিকে। এসব লীজ অনেক আগেই দেয়া। লীজকারীরা তাদের লীজকৃত ভূমিতে কয়লা রাখতে পারেনা। বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখব। যদি তারা কৃষি লীজের ভূমিতে কয়লা মজুত রাখে এমন প্রমান পায় তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব।
Reporter Name 









