ভৈরবে পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির দুই প্রার্থীর প্রচারণা চলছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বিএনপির আরেক নেতা।  

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ১৩০৮ Time View

১১ মে, নিজস্ব  প্রতিনিধি। 

সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখনও ঘোষনা না করলেও ভৈরবে পৌরসভার নির্বাচনী প্রচারণা গত কয়েকমাস যাবত চলছে। তবে উপজেলা বিএনপির দুজন  প্রার্থী ছাড়া অন্য কোন দলের বা স্বতন্ত্র কোন প্রার্থী প্রচারণায় নেই। পৌর বিএনপির সভাপতি হাজি শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুজিবুর রহমান এই দুইজনের প্রচারণা বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। তারা দুজন কোন পোস্টার -ব্যানার লাগিয়ে প্রচারণা না করলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিদিন মেয়র পদের প্রার্থীর প্রচারণা করে যাচ্ছে। দুজনের পক্ষের তাদের শুভাকাংখিরা ও  সমর্থকগনসহ  তারা নিজেরাও মেয়র পদে  ভোট চাই, দোয়া চাই লিখে ফেসবুকে প্রচারণা করছে। এমনকি সমাজের ভোটার, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ , সাংবাদিক, পেশাজীবি, শিক্ষাবিদসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে তারা যোগাযোগ করে যাচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য পৌর বিএনপির সভাপতি হাজি শাহিন ইতিপূর্বে ভৈরব পৌরসভার মেয়র ছিলেন এবং পরবর্তীতে আরেকবার পৌর নির্বাচন করে তার প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী  এড, ফখরুল আলম আক্কাছের সাথে পরাজিত হন। এরপর বিএনপি আর কোন নির্বাচন না করলে তিনি আর প্রার্থী হননি। অপরদিকে তার দলের তার  কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান এবার মেয়র পদে প্রার্থী হবার প্রচারণা জোরদার করেছেন। তিনি প্রচারণায় পিছিয়ে নেই। তার ভক্ত ও দলের কর্মীরা প্রচারণায় উঠেপড়ে লেগেছেন। প্রচারণায় দুজনের মধ্য কেউ কারো চেয়ে কম নয় এমনটা ভোটারগন মনে করছেন। 

বিএনপির এদুজন প্রার্থী ছাড়া ভৈরবে পৌরসভার মেয়র পদে এখনও পর্যন্ত কারো নাম শোনা যায়নি। অন্য কোন দলের প্রার্থীও মাঠে নেই। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এদলের কোন নেতাকর্মীরা মেয়র পদে প্রার্থী হবে এমন ঘোষনা কেউ দেয়নি। এমনকি জামায়েত ইসলামী সংগঠন থেকে কেউ প্রার্থী হবে এমনটা দেখা যাচ্ছেনা ভৈরবে। তবে জাতীয় পার্টির সাবেক এক নেতা এন কে সোহেল নিজে নিজে ফেসবুকে ছবি দিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন। তবে তার ঘোষনা নিয়ে ভোটারদের মধ্য আলোচনা সমালোচনা দুটোই আছে । সময়ই বলে দিবে বাস্তবতা কি হয়। তবে এন কে সোহেল ভোটারদের মধ্য অনেকটা পরিচিত হয়েছে। সবসময় সত্যবাদি হয়ে ফেসবুকে অনেক কথা লিখে সাহস করে। পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হবেন এমন কেউ এখনও ঘোষনা করেননি। 

এদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে এখনও কেউ প্রচারণা মাঠে নামেনি। প্রার্থীদের অনেকেরই ধারনা পৌর নির্বাচন সরকার আগে ঘোষনা করতে পারে। তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তেমন প্রচারণা ভৈরবে আপাতত নেই। তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম সামনের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে  প্রার্থী হবেন এমনটা শোনা যায়। ফেসবুকে তার দলের সমর্থকরা মাঝেমধ্য তার ছবি দিয়ে প্রচার করছে। এবিষয়ে আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি ইতিপূর্বে উপজেলা পরিষদে নির্বাচন করে মাত্র সাড়ে ৪ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছিলাম। তিনি বলেন তৎসময়ে আমি পরাজিত হয়নি, আমাকে ফ্যাসিস্ট সরকারের নেতারা জোর করে পরাজিত করেছিল। এরপর গত নির্বাচনে আমার দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি বলে আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়নি।  সামনের নির্বাচনে আমার দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করব। এন কে সোহেল চেয়ারম্যান পদে ঘোষনা দিলেও ভোটারগন তাকে কতটুকু গ্রহন করবে তা সময়ই বলে দিবে। আরিফুল ইসলাম প্রার্থী হলে ভোটারগন তাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করতে পারে এমনটা সবার ধারনা।

পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী সাবেক মেয়র হাজি শাহিন বলেন, বিগত নির্বাচনে আমাকে আ,লীগ নেতারা জোর করে পরাজিত করেছে। আগে আমি একবার মেয়র ছিলাম। এখন দলীয় মার্কা থাকবেনা শুনছি। আমি এখন প্রচারণায় আছি। বিএনপির আরেক প্রার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, আমার প্রচারণা চলছে। ভোটারগন আমাকে সমর্থন দিচ্ছে, উৎসাহিত করছে। রাজনীতি করলে সবারই প্রত্যাশা থাকে একটি বড় দায়িত্ব পালন করে জনগনের সেবা করা। তাই মানুষের সেবা করতেই সামনে পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হব। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভৈরব পৌরসভার সাবেক তিনবারের মেয়র এড, আক্কাছ আর নেই। 

ভৈরবে পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির দুই প্রার্থীর প্রচারণা চলছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বিএনপির আরেক নেতা।  

Update Time : ০২:৫২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

১১ মে, নিজস্ব  প্রতিনিধি। 

সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখনও ঘোষনা না করলেও ভৈরবে পৌরসভার নির্বাচনী প্রচারণা গত কয়েকমাস যাবত চলছে। তবে উপজেলা বিএনপির দুজন  প্রার্থী ছাড়া অন্য কোন দলের বা স্বতন্ত্র কোন প্রার্থী প্রচারণায় নেই। পৌর বিএনপির সভাপতি হাজি শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুজিবুর রহমান এই দুইজনের প্রচারণা বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। তারা দুজন কোন পোস্টার -ব্যানার লাগিয়ে প্রচারণা না করলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিদিন মেয়র পদের প্রার্থীর প্রচারণা করে যাচ্ছে। দুজনের পক্ষের তাদের শুভাকাংখিরা ও  সমর্থকগনসহ  তারা নিজেরাও মেয়র পদে  ভোট চাই, দোয়া চাই লিখে ফেসবুকে প্রচারণা করছে। এমনকি সমাজের ভোটার, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ , সাংবাদিক, পেশাজীবি, শিক্ষাবিদসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে তারা যোগাযোগ করে যাচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য পৌর বিএনপির সভাপতি হাজি শাহিন ইতিপূর্বে ভৈরব পৌরসভার মেয়র ছিলেন এবং পরবর্তীতে আরেকবার পৌর নির্বাচন করে তার প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী  এড, ফখরুল আলম আক্কাছের সাথে পরাজিত হন। এরপর বিএনপি আর কোন নির্বাচন না করলে তিনি আর প্রার্থী হননি। অপরদিকে তার দলের তার  কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান এবার মেয়র পদে প্রার্থী হবার প্রচারণা জোরদার করেছেন। তিনি প্রচারণায় পিছিয়ে নেই। তার ভক্ত ও দলের কর্মীরা প্রচারণায় উঠেপড়ে লেগেছেন। প্রচারণায় দুজনের মধ্য কেউ কারো চেয়ে কম নয় এমনটা ভোটারগন মনে করছেন। 

বিএনপির এদুজন প্রার্থী ছাড়া ভৈরবে পৌরসভার মেয়র পদে এখনও পর্যন্ত কারো নাম শোনা যায়নি। অন্য কোন দলের প্রার্থীও মাঠে নেই। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এদলের কোন নেতাকর্মীরা মেয়র পদে প্রার্থী হবে এমন ঘোষনা কেউ দেয়নি। এমনকি জামায়েত ইসলামী সংগঠন থেকে কেউ প্রার্থী হবে এমনটা দেখা যাচ্ছেনা ভৈরবে। তবে জাতীয় পার্টির সাবেক এক নেতা এন কে সোহেল নিজে নিজে ফেসবুকে ছবি দিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন। তবে তার ঘোষনা নিয়ে ভোটারদের মধ্য আলোচনা সমালোচনা দুটোই আছে । সময়ই বলে দিবে বাস্তবতা কি হয়। তবে এন কে সোহেল ভোটারদের মধ্য অনেকটা পরিচিত হয়েছে। সবসময় সত্যবাদি হয়ে ফেসবুকে অনেক কথা লিখে সাহস করে। পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হবেন এমন কেউ এখনও ঘোষনা করেননি। 

এদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে এখনও কেউ প্রচারণা মাঠে নামেনি। প্রার্থীদের অনেকেরই ধারনা পৌর নির্বাচন সরকার আগে ঘোষনা করতে পারে। তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তেমন প্রচারণা ভৈরবে আপাতত নেই। তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম সামনের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে  প্রার্থী হবেন এমনটা শোনা যায়। ফেসবুকে তার দলের সমর্থকরা মাঝেমধ্য তার ছবি দিয়ে প্রচার করছে। এবিষয়ে আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি ইতিপূর্বে উপজেলা পরিষদে নির্বাচন করে মাত্র সাড়ে ৪ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছিলাম। তিনি বলেন তৎসময়ে আমি পরাজিত হয়নি, আমাকে ফ্যাসিস্ট সরকারের নেতারা জোর করে পরাজিত করেছিল। এরপর গত নির্বাচনে আমার দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি বলে আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়নি।  সামনের নির্বাচনে আমার দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করব। এন কে সোহেল চেয়ারম্যান পদে ঘোষনা দিলেও ভোটারগন তাকে কতটুকু গ্রহন করবে তা সময়ই বলে দিবে। আরিফুল ইসলাম প্রার্থী হলে ভোটারগন তাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করতে পারে এমনটা সবার ধারনা।

পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী সাবেক মেয়র হাজি শাহিন বলেন, বিগত নির্বাচনে আমাকে আ,লীগ নেতারা জোর করে পরাজিত করেছে। আগে আমি একবার মেয়র ছিলাম। এখন দলীয় মার্কা থাকবেনা শুনছি। আমি এখন প্রচারণায় আছি। বিএনপির আরেক প্রার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, আমার প্রচারণা চলছে। ভোটারগন আমাকে সমর্থন দিচ্ছে, উৎসাহিত করছে। রাজনীতি করলে সবারই প্রত্যাশা থাকে একটি বড় দায়িত্ব পালন করে জনগনের সেবা করা। তাই মানুষের সেবা করতেই সামনে পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হব।