ভৈরবে শিমুলকান্দি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে টানাটানি। সেবা থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী, দুর্ভোগে মানুষ। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ২৮৯ Time View

৭ মে, বিশেষ  প্রতিনিধি

ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে চলছে টানাটানি। যিনি নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রিপন তাকে  ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যায়িত করে ৫ আগস্টের পর তার নামে দেয়া হয় একটি  মামলা। এমামলায় আদালতে হাজির হলে তাকে জামিন দেয় বিচারক।  গত বছর ২৫ মার্চ ভৈরব থানা পুলিশ তাকে আবারও অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার করে। পরে  মামলায়   আদালতে জামিন চাইলে বিচারক তার জামিন না দিয়ে তাকে  জেলে পাঠায়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ( মেম্বার) খোরশেদ আলম ওরফে আল-আমিন চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের অনুপস্থিতে তার দলের প্রভাব খাটিয়ে অন্য মেম্বারদেরকে কৌশলে নিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান হয়। সেই থেকে সে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিল। পরবর্তীতে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ৬ মাস জেল খেটে গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর আদালত থেকে জামিন পায়। এরপর তিনি দায়িত্ব নিতে চাইলে প্যানেল চেয়ারম্যান তাকে দায়িত্ব না দিয়ে চেয়ারম্যানকে ফ্যাসিস্ট আখ্যায়িত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি অভিযোগ করে। এই অভিযোগ কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে কোন সত্যতা পায়নি যা প্রতিবেদন দেয়া হয়। এখানে উল্লেখ্য চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের আওয়ামী লীগ বা দলের অংগসংগঠনে কোন পদ পদবি নেই তার দাবি। তবে ২০০৪ সালে তিনি ছাত্রলীগ করলেও পরে আর কোন সক্রীয়ভাবে কোন রাজনীতি করেননি। এরই মধ্য  জনসেবা দুর্ভোগ  এড়াতে জেলা প্রশাসক একটি চিঠি দেন প্যানেল চেয়ারম্যান  খোরশেদ আলমকে দায়িত্ব পালন করতে। গত ৮ মাস যাবত চেষ্টা করেও চেয়ারম্যান তার দায়িত্ব বুঝে না পেয়ে গতমাসে তিনি হাইকোর্টে একটি রিট করেন। রিট শুনানী শেষে গত ৪ মে হাইকোর্ট আদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে। এই আদেশ গত ১৯ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পেয়েও তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেননা আইনগত জটিলতার কথা বলে। হাইকোর্টের আদেশের খবর পেয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করে। পরে আপীল বিভাগ বিষয়টি স্থিতিবস্থা ( টেটাক্সো) দেয়। ফলে এখন ইউনিয়ন পরিষদে কেউ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে পারছেনা। এতে জনদুর্ভোগ বেড়ে গেছে। এলাকাবাসী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশান সার্টিফিকেট, নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্র, ট্রেড লাইসেন্সসহ কোন ধরনের সেবা নিতে পারছেনা বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। গত কয়েকদিন আগে এলাকায় চেয়ারম্যানের পক্ষে একটি মানববন্ধন হয়। তারা প্যানেল চেয়ারম্যযান  খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে মিছিল করে। তার ষড়যন্ত্রের কারনে জনগন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসীর দাবি। একজন মেম্বার হয়ে তার দলের প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে নানা হয়রানী, মিথ্যা মামলায় জড়িত করে তার অধিকার ক্ষুন্ন করছে বলে জনগন বলছেন। 

এলাকার নাগরিক ও মেম্বার নাসির উদ্দিন বলেন, খোরশেদ আলম জোর করে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে হয়রানী করছে নানাভাবে। এখন হাইকোর্টের আদেশ না মেনে আপীল করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদে এখন চেয়ারম্যান না থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে। মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

এবিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জেলে গেলে জেলা প্রশাসক বিধি মোতাবেক আমাকে দায়িত্ব পালনের চিঠি দেন। চেয়ারম্যান ফ্যাসিবাদ বলেই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আমি অভিযোগ করেছি। এখন প্রশাসন থেকে চিঠি দিলে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিব। চেয়ারম্যানের হাইকোের্টের আদেশের বিরুদ্ধে আমি আপীল করেছি। আদালতের পরবর্তী আদেশ ও প্রশাসনের নির্দেশ পেলে আমি এক মিনিটও দায়িত্বে থাকবনা। 

এবিষয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, আমি কোন রাজনীতি করিনা। কোন দলে আমার পদ নেই। আমার পরিষদের মেম্বার যিনি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক খোরশেদ আলম ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আমার পদের দায়িত্ব পালন করছে। উচ্চ আদালতের আদেশ দেয়া সত্বেও ইউএনও আমাকে আমার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেনা। বরং তাকে আপীল করার সুযোগ দিতে সময় বিলম্ব করেছে। এখন জনসেবা থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। 

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, হাইকোর্টের আদেশটিতে জটিলতা আছে বলে আমি তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে পারছিনা। বিষয়টি নিয়ে আমি আমার কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলেছি। তিনি এবিষয়ে  সম্মতি দেননি। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। এখন শুনলাম  আবার এবিষয়ে আপীল করা হয়েছে। আপীলের আদেশ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করব বলে তিনি জানান। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভৈরব পৌরসভার সাবেক তিনবারের মেয়র এড, আক্কাছ আর নেই। 

ভৈরবে শিমুলকান্দি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে টানাটানি। সেবা থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী, দুর্ভোগে মানুষ। 

Update Time : ০২:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

৭ মে, বিশেষ  প্রতিনিধি

ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে চলছে টানাটানি। যিনি নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রিপন তাকে  ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যায়িত করে ৫ আগস্টের পর তার নামে দেয়া হয় একটি  মামলা। এমামলায় আদালতে হাজির হলে তাকে জামিন দেয় বিচারক।  গত বছর ২৫ মার্চ ভৈরব থানা পুলিশ তাকে আবারও অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার করে। পরে  মামলায়   আদালতে জামিন চাইলে বিচারক তার জামিন না দিয়ে তাকে  জেলে পাঠায়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ( মেম্বার) খোরশেদ আলম ওরফে আল-আমিন চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের অনুপস্থিতে তার দলের প্রভাব খাটিয়ে অন্য মেম্বারদেরকে কৌশলে নিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান হয়। সেই থেকে সে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিল। পরবর্তীতে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ৬ মাস জেল খেটে গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর আদালত থেকে জামিন পায়। এরপর তিনি দায়িত্ব নিতে চাইলে প্যানেল চেয়ারম্যান তাকে দায়িত্ব না দিয়ে চেয়ারম্যানকে ফ্যাসিস্ট আখ্যায়িত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি অভিযোগ করে। এই অভিযোগ কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে কোন সত্যতা পায়নি যা প্রতিবেদন দেয়া হয়। এখানে উল্লেখ্য চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের আওয়ামী লীগ বা দলের অংগসংগঠনে কোন পদ পদবি নেই তার দাবি। তবে ২০০৪ সালে তিনি ছাত্রলীগ করলেও পরে আর কোন সক্রীয়ভাবে কোন রাজনীতি করেননি। এরই মধ্য  জনসেবা দুর্ভোগ  এড়াতে জেলা প্রশাসক একটি চিঠি দেন প্যানেল চেয়ারম্যান  খোরশেদ আলমকে দায়িত্ব পালন করতে। গত ৮ মাস যাবত চেষ্টা করেও চেয়ারম্যান তার দায়িত্ব বুঝে না পেয়ে গতমাসে তিনি হাইকোর্টে একটি রিট করেন। রিট শুনানী শেষে গত ৪ মে হাইকোর্ট আদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে। এই আদেশ গত ১৯ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পেয়েও তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেননা আইনগত জটিলতার কথা বলে। হাইকোর্টের আদেশের খবর পেয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করে। পরে আপীল বিভাগ বিষয়টি স্থিতিবস্থা ( টেটাক্সো) দেয়। ফলে এখন ইউনিয়ন পরিষদে কেউ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে পারছেনা। এতে জনদুর্ভোগ বেড়ে গেছে। এলাকাবাসী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশান সার্টিফিকেট, নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্র, ট্রেড লাইসেন্সসহ কোন ধরনের সেবা নিতে পারছেনা বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। গত কয়েকদিন আগে এলাকায় চেয়ারম্যানের পক্ষে একটি মানববন্ধন হয়। তারা প্যানেল চেয়ারম্যযান  খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে মিছিল করে। তার ষড়যন্ত্রের কারনে জনগন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসীর দাবি। একজন মেম্বার হয়ে তার দলের প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে নানা হয়রানী, মিথ্যা মামলায় জড়িত করে তার অধিকার ক্ষুন্ন করছে বলে জনগন বলছেন। 

এলাকার নাগরিক ও মেম্বার নাসির উদ্দিন বলেন, খোরশেদ আলম জোর করে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে হয়রানী করছে নানাভাবে। এখন হাইকোর্টের আদেশ না মেনে আপীল করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদে এখন চেয়ারম্যান না থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে। মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

এবিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জেলে গেলে জেলা প্রশাসক বিধি মোতাবেক আমাকে দায়িত্ব পালনের চিঠি দেন। চেয়ারম্যান ফ্যাসিবাদ বলেই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আমি অভিযোগ করেছি। এখন প্রশাসন থেকে চিঠি দিলে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিব। চেয়ারম্যানের হাইকোের্টের আদেশের বিরুদ্ধে আমি আপীল করেছি। আদালতের পরবর্তী আদেশ ও প্রশাসনের নির্দেশ পেলে আমি এক মিনিটও দায়িত্বে থাকবনা। 

এবিষয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, আমি কোন রাজনীতি করিনা। কোন দলে আমার পদ নেই। আমার পরিষদের মেম্বার যিনি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক খোরশেদ আলম ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আমার পদের দায়িত্ব পালন করছে। উচ্চ আদালতের আদেশ দেয়া সত্বেও ইউএনও আমাকে আমার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেনা। বরং তাকে আপীল করার সুযোগ দিতে সময় বিলম্ব করেছে। এখন জনসেবা থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। 

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, হাইকোর্টের আদেশটিতে জটিলতা আছে বলে আমি তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে পারছিনা। বিষয়টি নিয়ে আমি আমার কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলেছি। তিনি এবিষয়ে  সম্মতি দেননি। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। এখন শুনলাম  আবার এবিষয়ে আপীল করা হয়েছে। আপীলের আদেশ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করব বলে তিনি জানান।