৭ মে, নিজস্ব প্রতিনিধি।
ভৈরব রেলস্টেশনটি জংশন স্টেশন। গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হিসেবে এই রেলস্টেশন দিয়ে প্রতিদিন হাজারও যাত্রী রাজধানী ঢাকাসহ চট্রগ্রাম – সিলেট – নোয়াখালীতে ট্রেনে ভ্রমন করে থাকে। এতে রেলওয়ের প্রতিদিন টিকিট বিক্রি হয় লাখ লাখ টাকা। রেলওয়ের আন্তঃনগর এগারসিন্ধু ট্রেনটি সকাল – বিকেলে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ চলাচল করে যা প্রভাতি ও গোধূলী নামে পরিচিত। এগারসিন্ধু গোধূলী ট্রেনের ছ বগির আসনের ৪০ টি টিকিট হঠাৎ করে গত ২ মে থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিক্রি বন্ধ করে দেয়। ফলে ভৈরবের যাত্রীরা আসন না পেয়ে বিপাকে পড়ে যায়। কেন ৪০ টি আসনের টিকিট বিক্রি বন্ধ করা হলো তা জানতে গিয়ে স্টেশন মাস্টার মোঃ ইউসূফ জানান, গোধূলী ট্রেনের ছ বগিটি ক্রটিপূর্ন হয়ে গেছে। বগির চাকার স্প্রিরিং নষ্ট অনেকদিন যাবত, তাই বগিটি চট্রগ্রামে কারখানায় মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। বিকল্প বগি না থাকার কারনে কর্তৃপক্ষ ৪০ আসনের টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ভৈরব একটি বানিজ্য নগরী। স্থানীয় লোকজন ছাড়াও আশেপাশের উপজেলা থেকে লোকজন ঢাকায় যেতে এই স্টেশনে আসে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নত বলে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ভৈরব রেলস্টেশন এসে রাজধানী ঢাকাসহ চট্রগ্রাম – সিলেট যায়। অনেক যাত্রী সড়কে যানজটের কারনে সময় বাঁচাতে বাসে ভ্রমন না করে ট্রেনে ভ্রমন করা পছন্দ করে। এছাড়া নারী – শিশু, বৃদ্ধ যাত্রীদের জন্য ট্রেন ভ্রমন আরামদায়ক যা যাত্রীরা মনে করে থাকে।
ভূক্তভূগি ভৈরবের যাত্রী হুমায়ূন কবির যুগান্তরকে বলেন, বিকেলে ঢাকায় পৌঁছতে এগারসিন্ধু ট্রেনটি আমাদের জন্য সুবিধাজনক। এছাড়া নারী – শিশু, বৃদ্ধদের নিয়ে বাসে না গিয়ে ট্রেনে ভ্রমন করা আরামদায়ক। গত ২ মে হঠাৎ করে ৪০ টি আসন না থাকায় যাত্রীরা বিপাকে পড়েছে। নারী যাত্রী সামসুন্নাহার বেগম বলেন, আমাদের দুর্ভাগা দেশ একটি বগি নষ্ট হলে বাড়তি বগি থাকেনা। রেল ব্যবস্থার কোন উন্নয়ন কোন সরকারই করেনা। মন্ত্রী, এমপিরা মুখে মুখে উন্নয়নের কথা বলে থাকে। আরেক যাত্রী আবদুর রশিদ বলেন, আমাদের দেশে ট্রেনের ইন্জিন সংকটও আছে। প্রায় দিন ট্রেন ভ্রমনের সময় ইন্জিন নষ্ট হয়ে গেলে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ে। তিনি বলেন সামনে ঈদ আসছে। যাত্রীদের অনেকেই বাড়ীতে আসাযাওয়া করবে। তাই দ্রুত ট্রেনের বগিটি মেরামত করতে হবে, নতুবা বিকল্প বগি দিতে হবে যাতে সমস্যাটি দূর হয়।
এবিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ফোনে কথা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় বানিজ্যিক কর্মকর্তা মহব্বত জান চৌধুরির সাথে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এগারসিন্ধু ট্রেনের ছ বগিটিতে ভৈরবের ৪০ টি আসন বরাদ্দ আছে। এবগিটি বেশ কয়েকদিন যাবত ক্রটিপূর্ণ ছিল। ফলে বগিটি দূর্ঘটনা থেকে মুক্ত করতে মেরামত করতে দেয়া হয়েছে। আপাতত অতিরিক্ত বগি না থাকায় ৪০ আসনের টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে আমরা বিকল্প বগি যোগার করে ট্রেনে সংযোগ করার জন্য চেষ্টা করছি। এছাড়া ছ বগিটি মেরামতের জন্য খুব বেশী সময় লাগবেনা বলে তিনি জানান। তাই সাময়িক সময়ের জন্য ভৈরবের যাত্রীরা কষ্ট করতে হবে। যাত্রীদের ভাবতে হবে ৪০ আসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়নি।
Reporter Name 









