ভৈরবে তুচ্ছ ঘটনায়  দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারী পুরুষসহ আহত ৩০। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৪:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ১৮০ Time View

৫ মে,   নিজস্ব  প্রতিনিধি

 ভৈরবে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের  সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের বধূনগর এলাকায় নবাবের বাড়ির বংশের সাথে একই এলাকার ফর্সার বাড়ির বংশের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২৩ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। আহতরা হলো, মিজান (৩৬), শরীফ মিয়া (১৯), চান মিয়া (৪০), মামুন (৩৯), জেসমিন (৩০) জুনায়েদ (২০), বিজয় (১৮), ইয়াছিন (১৭), রবিন (২৫), ইয়ামিন (১৬), তরুণ মিয়া (১৯), শাওন (১৪), ফরহাদ (১৬), বুরহান (১৭), আনোয়ারা (৫০), সাইদুল (৪০), মিজান (৩২), আবির (১৭), শামীম (২১), শিরিনা (২৬), জিহাদ (১৬), আক্তার (২০), ফুল মিয়া (৫২), জুয়েল মিয়া (৪০)।

এদের মধ্যে মিজান, শরীফ মিয়া, চান মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আব্দুল করিম। এছাড়াও অন্যান্য আহতরা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত নবাবের বাড়ির বংশের সাথে একই এলাকার ফর্সার বাড়ির বংশের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ্ব চলছিল। ৩ মে বিকালে ফর্সার বাড়ির আয়তুল মিয়ার আম গাছে ডিল দেয় নবাবের বাড়ির বিজয় মিয়া ও শাওন মিয়াসহ তাঁর সহপাঠীরা। এ সময় বাধা দেয় গাছের মালিক আয়তুল মিয়ার ছেলে মোখলেস মিয়া। বাধা দিলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি স্থানীয়রা মীমাংসা করলেও যুবকদের মধ্যে দুইদিন যাবত উত্তেজনা চলে। আজ ৫ মে সকালে উভয় পক্ষ দা বল্লম, টেঁটা, ইট-পাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হয়৷

এ বিষয়ে নবাবের বাড়ির তোফাজ্জল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আমাদের নবাবের (নবার) বাড়ির সাথে ফর্সার বাড়ি দ্বন্দ্ব চলছিল। ৩ মে আম পড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের চেষ্টা করে ফর্সার বাড়ির লোকজন। আমরা স্থানীয়রা এ বিষয়ে সতর্ক থাকি। আজ সকালে ফর্সার বাড়ির লোকজন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমরা প্রতিহত করতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। আমাদের পক্ষের টেঁটাবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হয়েছে।

ফর্সার বাড়ির ফুল মিয়া বলেন, আমাদের বাড়ির আয়তুল মিয়ার গাছে ডিল দেয় নবাবের বাড়ির যুবকেরা। গাছের মালিক মোখলেস মিয়া বাধা দিলে বিষয়টি নিয়ে দুইদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা থাকে। তারা আম চুরি করে আবার উলটো আমাদের বাড়ির দুই যুবককে মারধর করেছে। সকালে নবাবের বাড়ির লোকজন আমাদের বকাবকি করলে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, আম পাড়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রীনগরের বধূনগর গ্রামে সংঘর্ষ হয়৷ খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।   অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভৈরব পৌরসভার সাবেক তিনবারের মেয়র এড, আক্কাছ আর নেই। 

ভৈরবে তুচ্ছ ঘটনায়  দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারী পুরুষসহ আহত ৩০। 

Update Time : ১১:২৪:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

৫ মে,   নিজস্ব  প্রতিনিধি

 ভৈরবে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের  সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের বধূনগর এলাকায় নবাবের বাড়ির বংশের সাথে একই এলাকার ফর্সার বাড়ির বংশের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২৩ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। আহতরা হলো, মিজান (৩৬), শরীফ মিয়া (১৯), চান মিয়া (৪০), মামুন (৩৯), জেসমিন (৩০) জুনায়েদ (২০), বিজয় (১৮), ইয়াছিন (১৭), রবিন (২৫), ইয়ামিন (১৬), তরুণ মিয়া (১৯), শাওন (১৪), ফরহাদ (১৬), বুরহান (১৭), আনোয়ারা (৫০), সাইদুল (৪০), মিজান (৩২), আবির (১৭), শামীম (২১), শিরিনা (২৬), জিহাদ (১৬), আক্তার (২০), ফুল মিয়া (৫২), জুয়েল মিয়া (৪০)।

এদের মধ্যে মিজান, শরীফ মিয়া, চান মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আব্দুল করিম। এছাড়াও অন্যান্য আহতরা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত নবাবের বাড়ির বংশের সাথে একই এলাকার ফর্সার বাড়ির বংশের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ্ব চলছিল। ৩ মে বিকালে ফর্সার বাড়ির আয়তুল মিয়ার আম গাছে ডিল দেয় নবাবের বাড়ির বিজয় মিয়া ও শাওন মিয়াসহ তাঁর সহপাঠীরা। এ সময় বাধা দেয় গাছের মালিক আয়তুল মিয়ার ছেলে মোখলেস মিয়া। বাধা দিলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি স্থানীয়রা মীমাংসা করলেও যুবকদের মধ্যে দুইদিন যাবত উত্তেজনা চলে। আজ ৫ মে সকালে উভয় পক্ষ দা বল্লম, টেঁটা, ইট-পাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হয়৷

এ বিষয়ে নবাবের বাড়ির তোফাজ্জল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আমাদের নবাবের (নবার) বাড়ির সাথে ফর্সার বাড়ি দ্বন্দ্ব চলছিল। ৩ মে আম পড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের চেষ্টা করে ফর্সার বাড়ির লোকজন। আমরা স্থানীয়রা এ বিষয়ে সতর্ক থাকি। আজ সকালে ফর্সার বাড়ির লোকজন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমরা প্রতিহত করতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। আমাদের পক্ষের টেঁটাবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হয়েছে।

ফর্সার বাড়ির ফুল মিয়া বলেন, আমাদের বাড়ির আয়তুল মিয়ার গাছে ডিল দেয় নবাবের বাড়ির যুবকেরা। গাছের মালিক মোখলেস মিয়া বাধা দিলে বিষয়টি নিয়ে দুইদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা থাকে। তারা আম চুরি করে আবার উলটো আমাদের বাড়ির দুই যুবককে মারধর করেছে। সকালে নবাবের বাড়ির লোকজন আমাদের বকাবকি করলে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, আম পাড়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রীনগরের বধূনগর গ্রামে সংঘর্ষ হয়৷ খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।   অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।