২৭ এপ্রিল, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরবে এডহক কমিটি গঠন নিয়ে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানা বেগমকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মিল্লাদ হোসেন হুমকি প্রদানের প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ মিছিল করে। তারা ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে হুমকিদাতার বিচার দাবি করেন। আজ সোমবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ও রাস্তায় শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে এই প্রতিবাদ মিছিল করে। এসময় শিক্ষার্থীরা হুমকিদাতা মিল্লাদ হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে তার বিচার দাবি করে। মিল্লাদ হোসেন কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।

ঘটনায় জানা গেছে, কালিকাপ্রসাদ উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের এডহক কমিটির মেয়াদ গত ৩১ মার্চ শেষ হয়েছে। কমিটির মেয়াদ ছিল ছয়মাস। বর্তমানে আবারও এডহক কমিটি করতে হবে। গতকাল রোববার সকালে স্থানীয় বিএনপি নেতা মিল্লাদ হোসেন ৪/৫ জন লোক নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষকের নিকট দাবি করেন অবিলম্বে এডহক কমিটি করতে হবে এবং কমিটিতে অভিভাবক সদস্য হিসেবে তার নাম রাখতে হবে। এসময় প্রধান শিক্ষক শাহানা বেগম বলেন শীঘ্রই সবার মতামতের ভিত্তিতে এডহক কমিটি করার ব্যবস্থা করব, তবে বিধি মোতাবেক তাকে অভিভাবক প্রতিনিধি সদস্য করা যাবেনা বলে জানান । কারন কোন অভিভাবকের সন্তান দশম শ্রেনীতে বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করলে তাকে এডহক কমিটিতে রাখার নিয়ম নেই। একথা প্রধান শিক্ষক তাকে বলার পর তিনি তার সাথে তর্কবিতর্কে জড়িয়ে গালাগালি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষককে হুমকি দিয়ে মিল্লাদ হোসেন বলেন, সোমবার থেকে আপনি আর বিদ্যালয়ে আসবেননা। আপনি ফ্যাসিস্টের নিয়োগকৃত শিক্ষক ও ফ্যাসিস্টকে সদস্য করতে চান । এসব কথা বলে তিনি বিদ্যালয় থেকে চলে আসেন।
পরে বিষয়টি প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ অন্যান্য গণমান্য ব্যক্তি, অভিভাবকবৃন্দকে জানান তিনি। এবিষয়টি শিক্ষার্থীরা জানতে পেরে আজ সকালে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ মিছিল করে।
শিক্ষার্থী মরিয়ম বেগম বলেন, আমাদের প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেয়ার কারনে আজ আমরা প্রতিবাদ মিছিল করেছি। আরেক শিক্ষার্থী জোবায়ের আলম বলেন, বিদ্যালয়ের কমিটি করা নিয়ে দলীয়করন করা মোটেও উচিত নয়। যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি করতে হবে। প্রধান শিক্ষক স্যার ফ্যাসিস্ট নয়, তিনি কোন দলকে সমর্থন করেননা যা আমরা জানি। প্রধান শিক্ষক একজন গুনী ব্যক্তি বলে দাবি করে শিক্ষার্থী।
এব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানা বেগম, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মিল্লাদ হোসেনের সন্তান দশম শ্রেনীতে পড়ে। বিধি মোতাবেক তাকে এডহক কমিটিতে নিতে পারবনা। তারপরও রোববার আমার কক্ষে ৪/৫ জন লোক নিয়ে প্রবেশ করে এডহক কমিটি করার ব্যবস্থা করে তাকে অভিভাবক প্রতিনিধি সদস্য করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। বিষয়টি আমি তাকে বুঝিয়ে বলার পরও তিনি আমাকে হুমকি প্রদান করেন সোমবার থেকে যেন আমি বিদ্যালয়ে না আসি। যদি আসি তবে খারাপ হবে। পরে আমি ইউএনওসহ অন্যান্যদেরকে ঘটনা অবহিত করি।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মিল্লাদ হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি হুমকির কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এডহক কমিটির মেয়াদ গত ৩১ মার্চ শেষ হয়ে গেছে। তাই নতুন কমিটি করতে তাকে আমি অনুরোধ করি। তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক ফ্যাসিস্টের দোসর। ফ্যাসিস্টের কথায় তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা করেন। বিষয়টি নিয়ে তর্কের কথা তিনি স্বীকার করেন।
কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ জামাল মিয়া এবিষয়ে বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি, তবে হুমকির কথাটি তার জানা নেই। নতুন এডহক কমিটি করা নিয়ে প্রধান শিক্ষক তালবাহানা করছেন বলে তিনি জানান। ফ্যাসিস্টের লোক নিয়ে তিনি কমিটি করতে চান বলেই মিল্লাদ হোসেনের সাথে ঘটনা ঘটে তার দাবি।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম মামুনুর রশীদ জানান, ঘটনাটি প্রধান শিক্ষক রোববার আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছে। ব্যস্ততার কারনে আমি তাদেরকে নিয়ে আলোচনায় বসতে পারেনি। দুইপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রকৃত ঘটনা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
Reporter Name 









