ভৈরবে প্রতারক চক্রের  বিরুদ্ধে সরকারি পণ্য দেওয়ার আশ্বাসে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৬১ Time View

১৭ এপ্রিল, নিজস্ব প্রতিনিধি:

বিএনপির ওয়ার্ড সম্পাদকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সরকারি পণ্য দেওয়ার আশ্বাসে অর্ধশত গ্রামবাসীর তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 

গতকাল  বৃহস্পতিবার  সন্ধ্যায়  ভৈরব প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে  ভূক্তভূগিরা এক সংবাদ সন্মেলন করে অভিযোগ করেন,   পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক  মাসুম বিল্লাহ ও তার ভাই মাহাবুব মিয়া এবং  ভাইয়ের স্ত্রী টুনি আক্তারের শাস্তির দাবী ও টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

এসময় নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের অর্ধ শত নারী ও পুরুষ ভৈরব প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্য ভূক্তভূগি   আয়েশা বেগম, বিলকিস আরা, মনিসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, গত ১ বছর আগে মাসুম বিল্লাহ, মাহাবুব মিয়া ও টুনি আক্তার (শারমিন)  সরকারি পণ্য দেবার নামে প্রায় ৪ শতাধিক লোকজনের কাছ থেকে গত এক বছর আগে প্রত্যেকে  ৫ হাজার, আবার কারো কাছ থেকে ১০ হাজার  টাকা করে নেন। প্রতারক চক্রটি প্রভোলন দেখিয়ে    প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভূক্তভূগিদেরকে  পণ্য দেয়নি। পরে তারা  জমা দেয়া  টাকা ফেরত চেয়েও ফেরত  পাচ্ছেনা বলে অভিযোগে জানায়  ।

এবিষয়ে ভূক্তভূগি বাশার মিয়া জানান প্রতারক মাসুম বিল্লাহ’র ভাইবৌ টুনি আক্তারের বাবার বাড়ী আমাদের এলাকায়। সেই সুবাদে মাসুম বিল্লাহ, তার ভাই – স্ত্রী প্রতারক টুনি চক্র গত এক বছর আগে   আমাদের এলাকার সাধারণ  লোকজনকে প্রভোলনে ফেলে লোকজনকে বলেন,  প্রত্যেকে ৫/১০ হাজার টাকা দিলে প্রতিমাসে ২৫ কেজি চাল, ডাল, তেল, পিয়াজ, আটা, চিনি সরকারীভাবে  দেয়া হবে। যারা টাকা দিবে তারা  এক বছর পর্যন্ত সবাই এসব পণ্য পাবেন। অনেকে টাকা দেয়ার পর প্রথমে কিছু পণ্য পায়। পরে পণ্য দেয়া বন্ধ করে দেয়। প্রকৃত অর্থে এসব পণ্য সরকারীভাবে দেয়া হয়নি। তারা নিজেরা প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সাধারন মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এখন আত্মসাৎ করেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার এলাকায় শালিশ দরবার হয়েছে। তারা বলেছিল সবার টাকা ফেরত দিয়ে দিবে। কিন্ত তারা প্রায় তিনকোটি টাকা নেয়ার পর পণ্য না দিয়ে টাকাগুলি  ফেরত দিচ্ছেনা। এই অবস্থায়  তারা টাকা ফেরতসহ প্রতারকদের  শাস্তির দাবী করেন। 

এবিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমার  বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। আমার ভাইবৌ   টুনি আক্তারের চাচা ও চাচী মানুষের কাছ থেকে ৫/৭ লাখ  টাকা নিয়েছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় ইব্রাহিমপুরে একটি  সালিসি বৈঠক ও হয়েছে । তাছাড়া টুনি আক্তারের কাছ থেকে তারা  জোর পূর্বক ৩টি চেক নিয়েছে। এঘটনায় বেলাব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ঘটনায় আমি জড়িত নয়। এঘটনা টুনি ও তার চাচার বিষয়।  আমি লোকজনের কাছ থেকে প্রতারণা করে কোন টাকাপয়সা নেয়নি। তাদের কাছ থেকে তিনকোটি টাকা নেয়ার  অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক বলে তিনি দাবি করেন। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভৈরব পৌরসভার সাবেক তিনবারের মেয়র এড, আক্কাছ আর নেই। 

ভৈরবে প্রতারক চক্রের  বিরুদ্ধে সরকারি পণ্য দেওয়ার আশ্বাসে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Update Time : ০৭:৪৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

১৭ এপ্রিল, নিজস্ব প্রতিনিধি:

বিএনপির ওয়ার্ড সম্পাদকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সরকারি পণ্য দেওয়ার আশ্বাসে অর্ধশত গ্রামবাসীর তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 

গতকাল  বৃহস্পতিবার  সন্ধ্যায়  ভৈরব প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে  ভূক্তভূগিরা এক সংবাদ সন্মেলন করে অভিযোগ করেন,   পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক  মাসুম বিল্লাহ ও তার ভাই মাহাবুব মিয়া এবং  ভাইয়ের স্ত্রী টুনি আক্তারের শাস্তির দাবী ও টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

এসময় নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের অর্ধ শত নারী ও পুরুষ ভৈরব প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্য ভূক্তভূগি   আয়েশা বেগম, বিলকিস আরা, মনিসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, গত ১ বছর আগে মাসুম বিল্লাহ, মাহাবুব মিয়া ও টুনি আক্তার (শারমিন)  সরকারি পণ্য দেবার নামে প্রায় ৪ শতাধিক লোকজনের কাছ থেকে গত এক বছর আগে প্রত্যেকে  ৫ হাজার, আবার কারো কাছ থেকে ১০ হাজার  টাকা করে নেন। প্রতারক চক্রটি প্রভোলন দেখিয়ে    প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভূক্তভূগিদেরকে  পণ্য দেয়নি। পরে তারা  জমা দেয়া  টাকা ফেরত চেয়েও ফেরত  পাচ্ছেনা বলে অভিযোগে জানায়  ।

এবিষয়ে ভূক্তভূগি বাশার মিয়া জানান প্রতারক মাসুম বিল্লাহ’র ভাইবৌ টুনি আক্তারের বাবার বাড়ী আমাদের এলাকায়। সেই সুবাদে মাসুম বিল্লাহ, তার ভাই – স্ত্রী প্রতারক টুনি চক্র গত এক বছর আগে   আমাদের এলাকার সাধারণ  লোকজনকে প্রভোলনে ফেলে লোকজনকে বলেন,  প্রত্যেকে ৫/১০ হাজার টাকা দিলে প্রতিমাসে ২৫ কেজি চাল, ডাল, তেল, পিয়াজ, আটা, চিনি সরকারীভাবে  দেয়া হবে। যারা টাকা দিবে তারা  এক বছর পর্যন্ত সবাই এসব পণ্য পাবেন। অনেকে টাকা দেয়ার পর প্রথমে কিছু পণ্য পায়। পরে পণ্য দেয়া বন্ধ করে দেয়। প্রকৃত অর্থে এসব পণ্য সরকারীভাবে দেয়া হয়নি। তারা নিজেরা প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সাধারন মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এখন আত্মসাৎ করেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার এলাকায় শালিশ দরবার হয়েছে। তারা বলেছিল সবার টাকা ফেরত দিয়ে দিবে। কিন্ত তারা প্রায় তিনকোটি টাকা নেয়ার পর পণ্য না দিয়ে টাকাগুলি  ফেরত দিচ্ছেনা। এই অবস্থায়  তারা টাকা ফেরতসহ প্রতারকদের  শাস্তির দাবী করেন। 

এবিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমার  বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। আমার ভাইবৌ   টুনি আক্তারের চাচা ও চাচী মানুষের কাছ থেকে ৫/৭ লাখ  টাকা নিয়েছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় ইব্রাহিমপুরে একটি  সালিসি বৈঠক ও হয়েছে । তাছাড়া টুনি আক্তারের কাছ থেকে তারা  জোর পূর্বক ৩টি চেক নিয়েছে। এঘটনায় বেলাব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ঘটনায় আমি জড়িত নয়। এঘটনা টুনি ও তার চাচার বিষয়।  আমি লোকজনের কাছ থেকে প্রতারণা করে কোন টাকাপয়সা নেয়নি। তাদের কাছ থেকে তিনকোটি টাকা নেয়ার  অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক বলে তিনি দাবি করেন।