ভৈরবে বাংলা শুভ নববর্ষের শোভাযাত্রায় প্রতিমন্ত্রী অংশ নিলেন। উদ্বোধন করলেন ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪০:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৮৭ Time View

১৪ এপ্রিল, নিজস্ব  প্রতিনিধি। 

ভৈরবে বাংলা শুভ নববর্ষের শোভাযাত্রায় অংশ নিলেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম। এছাড়া পান্তা উৎসবের শুভ সূচনাসহ ভৈরবের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। জাঁকজমকভাবে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় উপজেলা প্রশাসন। 

ভৈরব উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নতুন বর্ষবরণে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় পান্তা উৎসবের শুভ সূচনা করেন প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম। এরপর সকাল সাড়ে ৮ টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে শোভাযাত্রায় অংশ নেন তিনি। তারপর সকাল ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, ভৈরব আয়োজিত শহরের প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় শোভাযাত্রায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। পরে সকাল ১০ টায় উক্ত সংগঠনের উদ্যেগে আয়োজিত ভৈরবের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা নদীর পাড়ে  উদ্বোধন করেন তিনি। 

প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম মেলার অনুষ্ঠানে বলেন, আমাদের দেশে যুগ যুগ ধরে বাংলা শুভ নববর্ষ জাঁকজমকভাবে পালিত হয়। পহেলা বৈশাখে মেলা, বান্নিসহ নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাঙ্গালী জাতি। পান্তা ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করে পরিবারগুলি। এই ঐতিহ্য আমরা টিকিয়ে রাখতে চাই। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পহেলা বৈশাখের দিন পাক হানাদার বাহিনী ভৈরব শহরটি দখল করতে গিয়ে পানাউল্লাহ’র চর নামক খেয়াঘাটে প্রায় ৫ শ নিরীহ, নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করে হত্যা করে। এদিন পাকসেনাদের গুলিতে আহত হয় কয়েকশ মানুষ। একারনে আজকের দিনে ভৈরববাসী নববর্ষের আনন্দের সাথে সেদিনের নিহতের পরিবারগুলি শোক পালন করে। এদেশের মুক্তিযুদ্ধকে যারা ভুলতে চাই তারা স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে চিন্হিত হবে। বিএনপি সরকার মুক্তিযুদ্ধকে স্মরণ করে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে মূল্যায়ন করে সবসময়। 

সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে শিল্পিরা নাচ গান করে দর্শকদের মাতিয়ে তোলে। স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন ও  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি পৃথকভাবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান পালন করে। এছাড়া লাঠিয়াল খেলা হয় এবং পালকি প্রদর্শন করা হয় অনুষ্ঠানে।  বৈশাখী মেলায় শত শত দোকান খোলা হয়। হৈ মুরি, কদমা, খেলনার জিনিষপত্র বেচাকেনা হয়। মেলায় হাজার হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে। ভৈরবে পহেলা বৈশাখের দিনটি আনন্দের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভৈরব পৌরসভার সাবেক তিনবারের মেয়র এড, আক্কাছ আর নেই। 

ভৈরবে বাংলা শুভ নববর্ষের শোভাযাত্রায় প্রতিমন্ত্রী অংশ নিলেন। উদ্বোধন করলেন ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। 

Update Time : ০৭:৪০:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

১৪ এপ্রিল, নিজস্ব  প্রতিনিধি। 

ভৈরবে বাংলা শুভ নববর্ষের শোভাযাত্রায় অংশ নিলেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম। এছাড়া পান্তা উৎসবের শুভ সূচনাসহ ভৈরবের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। জাঁকজমকভাবে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় উপজেলা প্রশাসন। 

ভৈরব উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নতুন বর্ষবরণে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় পান্তা উৎসবের শুভ সূচনা করেন প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম। এরপর সকাল সাড়ে ৮ টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে শোভাযাত্রায় অংশ নেন তিনি। তারপর সকাল ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, ভৈরব আয়োজিত শহরের প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় শোভাযাত্রায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। পরে সকাল ১০ টায় উক্ত সংগঠনের উদ্যেগে আয়োজিত ভৈরবের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা নদীর পাড়ে  উদ্বোধন করেন তিনি। 

প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম মেলার অনুষ্ঠানে বলেন, আমাদের দেশে যুগ যুগ ধরে বাংলা শুভ নববর্ষ জাঁকজমকভাবে পালিত হয়। পহেলা বৈশাখে মেলা, বান্নিসহ নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাঙ্গালী জাতি। পান্তা ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করে পরিবারগুলি। এই ঐতিহ্য আমরা টিকিয়ে রাখতে চাই। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পহেলা বৈশাখের দিন পাক হানাদার বাহিনী ভৈরব শহরটি দখল করতে গিয়ে পানাউল্লাহ’র চর নামক খেয়াঘাটে প্রায় ৫ শ নিরীহ, নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করে হত্যা করে। এদিন পাকসেনাদের গুলিতে আহত হয় কয়েকশ মানুষ। একারনে আজকের দিনে ভৈরববাসী নববর্ষের আনন্দের সাথে সেদিনের নিহতের পরিবারগুলি শোক পালন করে। এদেশের মুক্তিযুদ্ধকে যারা ভুলতে চাই তারা স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে চিন্হিত হবে। বিএনপি সরকার মুক্তিযুদ্ধকে স্মরণ করে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে মূল্যায়ন করে সবসময়। 

সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে শিল্পিরা নাচ গান করে দর্শকদের মাতিয়ে তোলে। স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন ও  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি পৃথকভাবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান পালন করে। এছাড়া লাঠিয়াল খেলা হয় এবং পালকি প্রদর্শন করা হয় অনুষ্ঠানে।  বৈশাখী মেলায় শত শত দোকান খোলা হয়। হৈ মুরি, কদমা, খেলনার জিনিষপত্র বেচাকেনা হয়। মেলায় হাজার হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে। ভৈরবে পহেলা বৈশাখের দিনটি আনন্দের মধ্য দিয়ে পালিত হয়।