ভৈরবে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায়  বিদ্যালয়ে শিশুদেরকে  পঁচা ডিম, নিম্নমানের কলা  ও ছত্রাকযুক্ত রুটি সরবরাহের অভিযোগ।  

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪২ Time View

১৩ এপ্রিল, নিজস্ব  প্রতিনিধি। 

 ভৈরবে ‘স্কুল ফিডিং’ প্রকল্পের আওতায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পঁচা ডিম, নিম্নমানের কলা ও ছত্রাকযুক্ত রুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে  দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। ভূক্তভূগিরা আজ সোমবার যুগান্তরকে ঘটনা অবহিত করে এই অভিযোগ করেন। 

গত শনিবার  দুপুরে উপজেলার রামশংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা খাবারে পঁচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত রুটি পাওয়া যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এসব খাবার সরবরাহ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ফাস্ট এস এস এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড।

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু রামশংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই নয়, উপজেলার আরও কয়েকটি বিদ্যালয়েও একই ধরনের নিম্নমানের ও পচা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে সরকারের উদ্যোগে স্কুল ফিডিং প্রকল্প চালু করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পে  ভৈরব উপজেলায় ৯১টি বিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার ৫শ শিক্ষার্থী এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। তবে শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।

শিক্ষার্থী ওবায়দুল, শুভ ও জিহাদ’দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রুটি একসঙ্গে বিদ্যালয়ে দিয়ে যান। মেয়াদ থাকলেও ওই রুটি পঁচা ছিলো। এছাড়া ডিম সরবরাহ করলেও ওই ডিমের মধ্য থেকে অধিকাংশ ডিম পঁচা। সিদ্ধ করার সময় পঁচা ডিম ধরা না পরলেও বাচ্চারা যখন খেতে শুরু করে তখন দুর্গন্ধ বেড়িয়ে আসে। যা কোনোভাবেই খাওয়ার উপযোগী নয়।

অভিভাবক মো. আলমগীর বলেন, সরবরাহ করা ডিমের মধ্যে অনেকগুলোই পঁচা পাওয়া গেছে,  রুটিতেও ছত্রাক ছিল যা আমরা জানতে পারি । এসব খাবার খেয়ে আমাদের শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তাদের কিছু হলে দায় কে নেবে? তিনি দ্রুত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, শিশুদের জন্য সরকারের এত ভালো একটি উদ্যোগকে এভাবে নষ্ট করা হচ্ছে। যারা এই নিম্নমানের খাবার দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।তা  না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে।

আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাই ভালো কিছু শিখবে, সুস্থ থাকবে এই আশায়। কিন্তু সেখানে যদি প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদার  পচা খাবার সরবরাহ করে  তাহলে এটা খুবই উদ্বেগজনক। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের   দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

রামশংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসলিমা বেগম বলেন, প্যাকেটজাত হওয়ায় সরবরাহের সময় ত্রুটি বোঝা যায়নি। বিতরণের সময় বিষয়টি ধরা পড়লে আমরা সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জানাই। তারা ভবিষ্যতে ভালো মানের খাবার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আরিফুল সুজন এবিষয়ে বলেন, শনিবারের রুটি আমরা বৃহস্পতিবার স্কুলে সরবরাহ করেছিলাম, খাবার মেয়াদও ছিল। কিন্ত বিষয়টি এমন হবে আমরা ভাবতে পারেনি। তবে কলা ও ডিম ভাল ছিল তার দাবি। ভবিষ্যতে এমনটি যেন আর না হয় সেদিকে খেয়াল রাখব। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে প্রধান শিক্ষক ও ঠিকাদারকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে শোকশ করেছি। দুটি স্কুলে ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে আর এমন ঘটনা হবেনা বলে তারা আজ জবাব দিয়েছে। 

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, বেশ কিছু বিদ্যালয় থেকে এ ধরনের অভিযোগ এসেছে। স্কুল ফিডিং প্রকল্পটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে ভৈরবকে অন্তভূক্ত করা হয়েছে। এবিষয়ে আমি সবকিছু অবগত নয়। তবে ঘটনাটির অভিযোগ পাওয়ার পর কিছুটা অবগত হয়েছি।  কোনোভাবেই নষ্ট বা পঁচা খাবার কোমলমতি  শিশুদের দেওয়া যাবে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভৈরব পৌরসভার সাবেক তিনবারের মেয়র এড, আক্কাছ আর নেই। 

ভৈরবে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায়  বিদ্যালয়ে শিশুদেরকে  পঁচা ডিম, নিম্নমানের কলা  ও ছত্রাকযুক্ত রুটি সরবরাহের অভিযোগ।  

Update Time : ১০:২৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

১৩ এপ্রিল, নিজস্ব  প্রতিনিধি। 

 ভৈরবে ‘স্কুল ফিডিং’ প্রকল্পের আওতায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পঁচা ডিম, নিম্নমানের কলা ও ছত্রাকযুক্ত রুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে  দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। ভূক্তভূগিরা আজ সোমবার যুগান্তরকে ঘটনা অবহিত করে এই অভিযোগ করেন। 

গত শনিবার  দুপুরে উপজেলার রামশংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা খাবারে পঁচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত রুটি পাওয়া যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এসব খাবার সরবরাহ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ফাস্ট এস এস এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড।

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু রামশংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই নয়, উপজেলার আরও কয়েকটি বিদ্যালয়েও একই ধরনের নিম্নমানের ও পচা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে সরকারের উদ্যোগে স্কুল ফিডিং প্রকল্প চালু করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পে  ভৈরব উপজেলায় ৯১টি বিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার ৫শ শিক্ষার্থী এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। তবে শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।

শিক্ষার্থী ওবায়দুল, শুভ ও জিহাদ’দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রুটি একসঙ্গে বিদ্যালয়ে দিয়ে যান। মেয়াদ থাকলেও ওই রুটি পঁচা ছিলো। এছাড়া ডিম সরবরাহ করলেও ওই ডিমের মধ্য থেকে অধিকাংশ ডিম পঁচা। সিদ্ধ করার সময় পঁচা ডিম ধরা না পরলেও বাচ্চারা যখন খেতে শুরু করে তখন দুর্গন্ধ বেড়িয়ে আসে। যা কোনোভাবেই খাওয়ার উপযোগী নয়।

অভিভাবক মো. আলমগীর বলেন, সরবরাহ করা ডিমের মধ্যে অনেকগুলোই পঁচা পাওয়া গেছে,  রুটিতেও ছত্রাক ছিল যা আমরা জানতে পারি । এসব খাবার খেয়ে আমাদের শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তাদের কিছু হলে দায় কে নেবে? তিনি দ্রুত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, শিশুদের জন্য সরকারের এত ভালো একটি উদ্যোগকে এভাবে নষ্ট করা হচ্ছে। যারা এই নিম্নমানের খাবার দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।তা  না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে।

আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাই ভালো কিছু শিখবে, সুস্থ থাকবে এই আশায়। কিন্তু সেখানে যদি প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদার  পচা খাবার সরবরাহ করে  তাহলে এটা খুবই উদ্বেগজনক। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের   দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

রামশংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসলিমা বেগম বলেন, প্যাকেটজাত হওয়ায় সরবরাহের সময় ত্রুটি বোঝা যায়নি। বিতরণের সময় বিষয়টি ধরা পড়লে আমরা সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জানাই। তারা ভবিষ্যতে ভালো মানের খাবার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আরিফুল সুজন এবিষয়ে বলেন, শনিবারের রুটি আমরা বৃহস্পতিবার স্কুলে সরবরাহ করেছিলাম, খাবার মেয়াদও ছিল। কিন্ত বিষয়টি এমন হবে আমরা ভাবতে পারেনি। তবে কলা ও ডিম ভাল ছিল তার দাবি। ভবিষ্যতে এমনটি যেন আর না হয় সেদিকে খেয়াল রাখব। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে প্রধান শিক্ষক ও ঠিকাদারকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে শোকশ করেছি। দুটি স্কুলে ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে আর এমন ঘটনা হবেনা বলে তারা আজ জবাব দিয়েছে। 

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, বেশ কিছু বিদ্যালয় থেকে এ ধরনের অভিযোগ এসেছে। স্কুল ফিডিং প্রকল্পটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে ভৈরবকে অন্তভূক্ত করা হয়েছে। এবিষয়ে আমি সবকিছু অবগত নয়। তবে ঘটনাটির অভিযোগ পাওয়ার পর কিছুটা অবগত হয়েছি।  কোনোভাবেই নষ্ট বা পঁচা খাবার কোমলমতি  শিশুদের দেওয়া যাবে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।