১২ এপ্রিল, বিশেষ প্রতিনিধি
ভৈরবের মেঘনায় নৌ-ডাকাতদের উপদ্রবে মাঝিরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত নদীতে ডাকাতি হলেও পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রায়দিন ডাকাতদল মালবাহী ট্রলার ও বাল্কহেডে ডাকাতি করে লাখ লাখ টাকার মাল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি সরকারী সারবাহী বাল্কহেড ছিনতাই করে সার লুটের চেষ্টা করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার একটি ট্রলার ভৈরব থেকে মালামাল নিয়ে এদিন রাতে আশুগঞ্জ ঘাটে নোঙ্কর করে। ট্রলারটি পরদিন ৮ এপ্রিল বুধবার ভোরে সুনামগঞ্জে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্ত ৭/৮ জনের একটি ডাকাতদল মঙ্গলবার রাত দেড়টায় ট্রলারে উঠে মাঝি ও স্টাফদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দুইলাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ভৈরব নৌ-থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও গত ৫ দিনেও কোন ডাকাতকে ধরতে পারেনি। পুলিশের অভিযোগ ট্রলারের মাঝি এখনও থানায় অভিযোগ দেয়নি। গত বছরের ১০ অক্টোবর ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার নবীনগর উপজেলার মানিকনগর এলাকায় মেঘনা নদীতে একটি সার বোঝাই বাল্কহেড ছিনতাই করে। উক্ত বাল্কহেডে ৩১৭ টন ( ৬৩৪০ বস্তা) সার ছিল। বাল্কহেডটি মুন্সিগঞ্জ থেকে সরকারী সার বোঝাই করে সুনামগঞ্জের সার গুদামে সার পৌঁছানোর কথা ছিল। ঘটনার দিন সারবোঝাই বাল্কহেডটি মানিকনগর ঘাট থেকে রাতে ডাকাতরা ছিনতাই করে ট্রলার চালকসহ স্টাফদের নদীতে ফেলে দেয়। এছাড়াও সার পরিবহন ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে এদিন হাতমুখ বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে নৌ-পুলিশ পরদিন ১১ অক্টোবর সারবোঝাই বাল্কহেডটি উদ্ধার করে। পরে বোঝাইকৃত সকল সার কর্তৃপক্ষ সুনামগঞ্জ না পাঠিয়ে ভৈরব বিএডিসি সার গুদামে আমদানী করে। এঘটনায় নৌ-পুলিশ ৪ জনকে ডাকাতকে গ্রেফতার করে। এর কয়েকমাস আগে ট্রলারের চালকরা আন্দোলন করে নদীপথে ট্রলার চালানো বন্ধ করে প্রতিবাদ করে। তাদের দাবি নদীপথে নৌ-পুলিশ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ভৈরব থেকে প্রতিদিন ট্রলারগুলি মালবোঝাই করে হাওরে যাওয়ার পথে ভৈরবের খলাপাড়া, সরাইলের ধোবাজাইল, রাজাপুর, আশুগঞ্জের বিদ্যুত কেন্দ্রের কাছে পৌঁছলেই নৌ- ডাকাতরা নদীতে ট্রলার ও লঞ্চে ডাকাতি করে। ডাকাতদল ইন্জিনবাহী ট্রলার নিয়ে মেঘনা নদীতে উৎ পেতে থাকে। মালবাহী বা যাত্রীবাহী ট্রলার দেখলেই তারা হামলা চালাই। গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর ভৈরব- সাচনাগামী এমএল বৃষ্টি নামের একটি যাত্রীবাহি লঞ্চে বাজিতপুর এলাকায় ঘোড়াউত্রা ও কালনী নদীর সংযোগস্থলে সোনারচর এলাকায় ডাকাতদের কবলে পড়ে। এদিন দুধর্ষ ডাকাতদল যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। গত কয়েকদিন আগে ভৈরব – সরাইলগামী নরিছলাম মাঝির ট্রলারে ডাকাতরা ডাকাতি করে লাখ টাকার মাল লুট করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় ট্রলার চালকরা কখনও নৌ- থানায় অভিযোগ করে, আবার নানা হয়রানীর বা ডাকাতদের ভয়ের কথা চিন্তা করে কেউ কেউ থানায় অভিযোগ দিতে আসেনা। এই অবস্থায় মেঘনার নদীপথ ডাকাতদের কারনে অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। নৌ- ডাকাতদের উপদ্রবে মাঝিরা এখন অতিষ্ঠ বলে তাদের অভিযোগ।
ট্রলার চালক কাউসার জানান, আমরা যাত্রীসহ মালামাল নিয়ে হাওরের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়ত করি। কিন্ত ডাকাতদের উপদ্রবে মাঝিরা অতিষ্ঠ। আবদুল গনি মাঝি বলেন, নৌ- পথ এখন অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। প্রায়দিন নদীতে ডাকাতি হচ্ছে কিন্ত পুলিশ ডাকাতদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা।
ভৈরব নৌ- থানার ইনচার্জ সুব্রত কুমার পোদ্দার এবিষয়ে জানান, আমি কয়েকদিন আগে থানায় যোগদান করেছি। আগের বিষয়গুলি আমি অবগত নয়। তবে আমি কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে মেঘনা নদীতে টহল জোরদার করেছি। এছাড়া ভৈরব থেকে মালবাহী ট্রলারগহুলি যখন ভোরে ছাড়া হয় তখন মাঝিরা পুলিশকে অবগত করলে আমরা প্রহরা দিয়ে এগিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। নৌ- ডাকাতদের চিন্হিত করে আমরা ডাকাতদেরকে ধরতে অভিযান চালাব। তিনি বলেন, ডাকাতির ঘটনায় মাঝিরা থানায় অভিযোগ দিতে আসেনা। অভিযোগ দিলে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হয়। তারপরও নদীপথ নিরাপদ রাখতে আমরা চেষ্টা করছি।
Reporter Name 









