২২ ফেব্রুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরবে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে না পেয়ে একটি ঔষধ কোম্পানীর কর্মচারী নাঈম মিয়া (৩০) কে অপহরণ করার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত দেড়টায় শহরের জগনাথপুর গাইনহাটি এলাকা থেকে অপহৃতকে শিকল বাঁধা অবস্থায় একটি গোপন ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। অপহৃত নাঈম মিয়া ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার সদর থানার চান্দপুর এলাকার মৃত ইসহাক মিয়ার ছেলে। তবে সে ভৈরব শহরের নিউটাউন এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকে এবং ওরিয়ন ফার্মাসিটিক্যাল লিঃ কোম্পানীতে এমপিও পদে কর্মরত আছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো ভৈরব শহরের জগনাথপুর এলাকার মাহমুদ হোসেনের ছেলে খোকন মাহমুদ (৪০), একই এলাকার ধন মিয়ার ছেলে আবুল কাশেম (৪৫), লিটন মিয়ার ছেলে মোঃ রাজিব মিয়া (৩৫), নুর ইসলামের ছেলে শাহ আলম (৪৫)। এব্যাপারে তার স্ত্রী সাজিয়া খানম নিশি আজ রোববার সকালে ভৈরব থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে ( মামলা নং -২৪) ।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অভিযুক্তরা গতকাল শনিবার দুপুর ২ টার দিকে ভৈরব বাজারের হাসপাতাল রোডের চৌধুরী ফার্মেসীর সামনে থেকে প্রকাশ্যে নাঈমকে তার গেঞ্জির কালারে ধরে জোরপূর্বক একটি অটোরিক্সায় উঠাইয়া জগনাথপুর দক্ষিণপাড়া গাইনহাটি এলাকার খোকন মাহমুদের অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নিয়ে গোপনভাবে একটি ঘরের কক্ষে অবৈধভাবে আটক রাখে। এসময় অপহৃত নাঈমের হাতে পায়ে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার পর তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাকে বেধম মারধোর করে জখম করে। তারপর চাঁদার টাকা পেতে তার স্ত্রীকে রাতে মোবাইলে ফোন করতে বলা হয়। চাঁদার টাকা না দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। তার স্ত্রী সাজিয়া খানম নিশি ফোন পেয়ে শনিবার রাত ১২ টায় ভৈরব থানা পুলিশকে ঘটনাটি অবহিত করে। পুলিশ ঘটনাটির খবর জেনে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনার স্থান চিন্হিত করার পর রাত দেড়টায় ঘটনাস্থল জগনাথপুর গাইনহাটি এলাকায় গিয়ে ভিকটিমের গোপন ঘরে অভিযান চালিয়ে দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে। এসময় নাঈমের হাত পায়ে লোহার শিকল ছিল। এসময় ঘটনায় জড়িত ৪ জন পুলিশ দেখে পালাতে চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতার সহযোগীতায় তাদেরকে গ্রেফতার করে।
এবিষয়ে আজ রোববার থানায় বসে অপহৃত নাঈম মিয়া জানান , শনিবার দুপুরে ভৈরব বাজারে আমাকে আসামীরা পেয়ে জোরপূর্বক অটোরিক্সায় উঠিয়ে গোপনস্থানে নিয়ে হাত পায়ে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। তখন তারা আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদার টাকা আনতে রাতে আমার স্ত্রীকে ফোন করতে বলে। আমি স্ত্রীকে ফোনে ঘটনাটি জানালে স্ত্রী পুলিশকে ঘটনাটি জানায়।
এব্যাপারে গ্রেফতারকৃত আসামী খোকন মাহমুদ জানায়, আমার বন্ধু ইতালী প্রবাসী আবুল কাশেমের স্ত্রী ছিল সাজিয়া খানম নিশি। সে তার স্বামীর টাকা পয়সা, স্বর্নলংকার আত্মসাৎ করে নাঈমের সাথে পরকিয়া করে গতমাসে পালিয়ে যায়। পরে জানতে পারে নাঈম তাকে বিয়ে করেছে। আত্মসাৎকৃত টাকা ও স্বর্নলংকার উদ্ধার করতে নাঈমকে আমরা আটক করেছিলাম। তবে তাকে আটক করে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা আমাদের উচিত হয়নি। তাকে আমরা মারধোর করার অভিযোগ সঠিক নয়। ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির কথা তিনি অস্বীকার করেন।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ জানান, শনিবার রাত ১২ টায় সাজিয়া খানম নিশি নামের এক গৃহবধূ থানায় উপস্থিত হয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন, তার স্বামী নাঈমকে একটি চক্র অপহরণ করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে এবং তাকে গোপন স্থানে বন্দি করে রেখেছে। অভিযোগ পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনাস্থল সনাক্ত করে একদল পুলিশ নিয়ে অভিযান চালায়। রাত দেড়টায় ভিকটিমকে একটি গোপন ঘরের দরজা ভেঙ্গে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করি। এবিষয়ে তার স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে আজ রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জ আদালতে চালান দেয়া হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
Reporter Name 









