৩১ মে, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের অনিয়ম, দুর্নীতি ও বন্দিদের উপর মানবধিকার লঙ্ঘনের এক লিখিত অভিযোগ করেছেন ভৈরবের এক বন্দি। তার নাম ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক । একটি মামলায় তিনি ৩৬ দিন কারাগারে থেকে গত ২৫ মে আদালত থেকে জামিন পেয়ে বের হন। কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে কিশেরগঞ্জ জেলা কারাগারের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও বন্দিদের মানবধিকার লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগসমূহের মধ্য তিনি লিখেছেন, বন্দিদের জন্য সরবরাহকৃত খাবার অত্যন্ত নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর, কারাগারে পিসি ক্যান্টিনে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করা হয় ( কোন কোন দ্রব্যাদি ডাবল দাম রাখা হয় বন্দিদের কাছ থেকে), কারা হাসপাতালের চিকিৎসা নিম্নমানের ও অবহেলাপূর্ণ ( প্রকৃত রোগীদেরকে ফ্লোরে রাখা হয় এবং যারা সুস্থ বন্দি মাসে ৬/৭ হাজার টাকা দেয় তাদেরকে বেডে রাখে), আসল রোগীরা ভাল কোন চিকিৎসা পায়না, পিসি ক্যান্টিনে কারা সুপার তার লোক দিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে সিগারেট বিক্রি করে। কোন বন্দি এসব ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাকে সেলে রাখা হয়, সেলে রাখলে কোন বন্দি দিনের বেলায় বাইরে বের হতে পারেনা। আত্মীয়- স্বজন কোন বন্দিকে দেখতে আসলে অতিরিক্ত টাকা না দিলে বন্দিকে নিয়ম কানুন দেখিয়ে দেখা করতে দেয়না। আর জেলার ও জেল সুপারকে বেশী বেশী টাকা দিলে প্রতিদিনই বন্দিকে সাক্ষাৎ দেয়া হয়।
অভিযোগকারী ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল বলেন, আমি ৩৬ দিন কারাগারে থেকে এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও মানবধিকার লঙ্ঘনের চিত্র স্বচক্ষে দেখেছি। কারাগারের জেল সুপার মোঃ দিদারুল আলম ও জেলার ফারহানা আক্তার এসব অনিয়ম, দুর্নীতি করছে বলে তার অভিযোগ। তিনি বলেন জেলা প্রশাসক মাসে একবার কারাগার পরিদর্শনে আসলেও তিনি কখনও বন্দিদের দুঃখ দুর্দশার কথা শুনতে দেখেননি। তাই তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ।
তিনি বলেন বিষয়টি ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি লেখালেখি করলে জেল সুপারের নজরে আসলে তিনি আমাকে ফোন দিয়ে সব কথা অস্বীকার করলেও তিনি আমাকে চা খেতে দাওয়াত দেন। তখন তিনি সব কথা আলোচনা করবেন বলে আমাকে ফোনে জানান এই দুর্নীতিবাজ জেল সুপার।
এবিষয়ে জানতে আজ রোববার একাধিকবার জেলারকে তার মোবাইলে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি কল।
জেল সুপার মোঃ দিদারুল আলম এবিষয়ে জানান, ইমতিয়াজ আহমেদ কাজলের অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক। জেলকোড অনুযায়ী কারাগার পরিচালিত হয়। নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, ক্যান্টিনে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রি বা তার অধীনে সিগারেট বেশী দামে বিক্রি, চিকিৎসার বিষয়, সব অভিযোগই মিথ্যা, অবাস্তব বলে তিনি দাবি করেন।
বিষয়টি ব্যাপারে কথা বলতে জনপদ প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনকে তার অফিস মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
Reporter Name 









