২০ মে, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরবের শীর্ষ অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী ও ১০ মামলার আসামী উমান মিয়া (৩২) তার পরিবারের স্বজন ও বন্ধুবান্ধবসহ ৮/১০ জনকে সাথে নিয়ে থানায় গিয়ে স্বইচ্ছায় নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করলেন। এসময় পুলিশকে বললেন, আমি সমাজে সৎ পথে থেকে ভাল মানুষ হতে চাই। ফিরতে চাই অন্ধকার অপরাধ জগত থেকে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার সকাল ১০ টার দিকে। বিষয়টি নিশ্বিত করেছেন তারই চাচা আর কে রিশান কবির। তার আরেক চাচা মোঃ বরকত উল্লাহ একই কথা বলে জানান, উমান ভাল হতে চাই। তাই তাকে নিয়ে আমিও থানায় গিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছি। তবে পুলিশ এবিষয়টি স্বীকার না করে তারা তাদের কৃতিত্ব নিতে এড়িয়ে যায় সাংবাদিকদের কাছে । পুলিশ বলেছে তার নামে থানায় হত্যা – মাদকসহ ১০ টি অপরাধমূলক মামলা আছে এবং একটি মামলায় ওয়ারেন্ট ছিল। তাকে কৌশলে পুলিশ গ্রেফতার করে।
উমান মিয়া পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তর পাড়া এলাকার মৃত অহিদ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত উমান মিয়া দীর্ঘদিন যাবত ভৈরব থানা এলাকাসহ আশেপাশের এলাকায় মাদক চোরাচালান ও ব্যবসার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। এলাকায় কিশোর গ্যাং নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করত। ভৈরবের শীর্ষ অপরাধী হিসেবে সে সমাজে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে এবং সে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে অনেকদিন যাবত চেষ্টা করছিল। মাদক বিক্রির টাকায় উমান তার বাড়ীতে একটি ৫ তলা বিল্ডিং করেছে বলে পুলিশের অভিযোগ। দীর্ঘদিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক থাকলেও আজ তার শেষ রক্ষা হয়নি।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ জেলার সকল থানা পুলিশের কঠোর অবস্থান ও জিরো টলারেন্স নীতি এগিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশ কাজ করছে। উমান এলাকার একজন চিন্হিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারী। তার বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলাসহ একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। থানায় ওয়ারেন্টও আছে। তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশ একাধিক অভিযানের পর কৌশলে আজ গ্রেফতার করতে সফল হয় । সে স্বইচ্ছায় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পন করেছে এমন কথা তিনি অস্বীকার করেন।
Reporter Name 









