৫ মে, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরবে চলছে মাদক বিরোধী অভিযান। শহরের পঞ্চবটি এলাকাটি মাদক কেনাবেচার স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ম্যাজিস্ট্যাটকে সাথে নিয়ে অভিযান চালাই পঞ্চবটি এলাকায়। সেখানে গিয়ে স্থানীয় মাদক সম্রাজ্ঞী লতিফা বেগম (৫৮) এর বাসায় ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্যাটসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে লতিফাকে আটক করে। এসময় তার মাদক ব্যবসায়ী ছেলে সাদ্দামকে দেখতে পেলেও সে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় লতিফাকে আটক করে। এছাড়াও মাদকের ক্রেতা জিহাদ (১৯) ও জাকির হোসেন(২৬) কে তিন পিস ইয়াবা ও ৫ পুইরা গাঁজাসহ এসময় বাসা থেকে আটক করে ম্যাজিস্ট্যাট। পরে তাদেরকে আনা হয় উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) অফিসে। খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত হয় ভূমি অফিসে। তখন মাদক সম্রাজ্ঞী লতিফা বেগম ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্যাটের নিকট হাত জোর করে বলতে থাকেন, স্যার আমার দুই ছেলে ও স্বামী আক্কাছ মিয়া দীর্ঘদিন যাবত মাদকের ব্যবসা করে। ব্যবসাটি অনেক লাভজনক। প্রতিটি ইয়াবা ১৫০ টাকায় কিনে আড়াইশ টাকায় বিক্রি করে। আমি ব্যবসায় জড়িত নয়, ছেলে ও স্বামী মাদক ব্যবসা করে, তাই আমাকে জেল দিবেননা। আটককৃত মাদকের ক্রেতা জাকির হোসেন (২৬) চিৎকার করে বলতে থাকে আমি মাদক সেবন করি, আমার দুটি সন্তান আছে। স্যার আমি আর কখনও মাদক সেবন করবনা। আমাকে সাজা দিয়েননা। আমি জেলে গেলে আমার বউ পোলাপাইন না খেয়ে মরবে। আমি অটোরিক্সা চালিয়ে সংসার চালাই। এসব কথা বলতে বলতে কান্না করতে থাকে। আরেক আটককৃত জিহাদ (১৯) বলে স্যার মাদক না সেবন করলে চলতে পারিনা, শরীর কাঁপতে থাকে। এনেশায় আমার জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদকের টাকা যোগার করতে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ করি। আমাকে ছেড়ে দেন। আর কখনও মাদক সেবন করবনা। এভাবেই মঙ্গলবার দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতে তারা আকুতি মিনতি করেও সাজা থেকে রেহাই পায়নি।

তাদের আকুতি আইনের কাছে গ্রহনযোগ্য নয়। মাদক ব্যবসা ও সেবন দুটিই অপরাধ। তাই ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্যাট মাদক ব্যবসায়ী লতিফা বেগমকে ৬ মাসের সাজা প্রদানসহ ৮ হাজার টাকা জরিমানা করেন। মাদক সেবনকারী জিহাদকে ১ মাসের সাজা ও আঠারশ টাকা জরিমানা এবং জাকির হোসেনকে ১৫ দিনের সাজাসহ ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এভাবেই মাদক অভিযানে আটককৃত তিনজনকে ভ্রাম্যমান আদালত সাজা প্রদান করে।
এবিষয়ে ভৈরব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর বলেন, ভৈরবের পঞ্চবটি এলাকাটি মাদক কেনাবেচার বৃহৎ স্থান। এখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাদক বেচাকেনা হওয়ার অভিযোগ আছে। আজ সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। আমরা প্রতিদিন অভিযান করছি। মাদক প্রতিরোধে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আটককৃত লতিফা বেগম মাদকের বড় ডিলার। তার ছেলেরাসহ স্বামী ব্যবসায় জড়িত। আজ হাতেনাতে মাদকসহ তাকে আটক করা হয়। এসময় তার বাসায় দুইজন মাদক ক্রেতাকে মাদকসহ পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্যাট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) এ এইচ এম আজিজুল হক জানান, আজকের অভিযানে আমি ছিলাম। আটককৃত তিনজনই মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী। আইনের কাছে মানবিকতা ও আকুতির কোন মূল্য নেই। অপরাধীকে শাস্তি দিতেই হবে। ভৈরবে মাদকের কারনে সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই মাদকের অভিযান চলবে। তিনই অপরাধী বলে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
Reporter Name 









