ভৈরবে ইউপি চেয়ারম্যানকে হয়রানীর প্রতিবাদে  ও দায়িত্ব পূর্নবহালের দাবিতে মানববন্ধন। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ২১৯ Time View

৩০ এপ্রিল, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমানকে হয়রানীর প্রতিবাদে ও দায়িত্ব পূর্ণবহালের দাবিতে এলাকাবাসী এক মানববন্ধন করে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টার দিকে শিমুলকান্দি হাইস্কুলের সামনে রাস্তায় এলাকার সাধারণ মানুষ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। এসময় তারা একটি মিছিলও করে। তাদের দাবি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে প্রশাসনের হয়রানী বন্ধসহ তাকে তার দায়িত্বে পূর্ণবহাল করতে হবে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ওরফে আল-আমিন  জোর করে প্যানেল চেয়ারম্যান হয়ে ষড়যন্ত্র করে তাকে হয়রানী করতে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছেন এলাকাবাসীর দাবি। মামলার পর চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান দীর্ঘ কয়েকমাস জেল খেতে জামিনে বেরিয়ে আসলে খোরশেদ আলম তার দল বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে তাকে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে চেয়ারম্যানকে হুমকি দুমকি দিয়ে যাচ্ছে। পরে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রশাসনের সহযোগীতা না পেয়ে উচ্চ আদালতে মামলা করে। গত ৪ এপ্রিল হাইকোর্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেয় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে। কিন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রশাসনিক জটিলতার কথা বলে এখনও দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেননি বলে জানান চেয়ারম্যান। 

এলাকাবাসীর দাবি চেয়ারম্যান দায়িত্ব না পাওয়ায় সাধারণ জনগন নানা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এদিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এখনও তাকে নানাভাবে হয়রানী করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। 

মানববন্ধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পরিষদের মেম্বার নাসির উদ্দিন, বিএনপির স্থানীয় নেতা জজ মিয়া,  আরেক নেতা আহাদ মিয়া, খোরশেদ আলম, কৃষক বিল্লাল মিয়া, বশীর আহমেদ, আজিজুল ইসলাম, আসাদ মিয়া, মহিবুল ইসলাম, মরিয়ম বেগম প্রমূখ। 

বিএনপি নেতা জজ মিয়া বলেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জোর করে ক্ষমতা দখল করে এখন দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেননা। পরিষদের সাবেক  প্যানেল চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বলেন খোরশেদ আলমকে জনগন মেম্বার হিসেবে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে। কিন্ত সে জোর করে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। জনগন মিজানুর রহমানকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান বানিয়েছে। তাকে অযথা হয়রানী করা হচ্ছে। বিল্লাল মিয়া বলেন, হাইকোর্টের আদেশের পরও প্রশাসন কেন তাকে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেননা। তাই আমরা আজ মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানাই। এলাকাবাসীর দাবি অবিলম্বে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিলে তারা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে। 

এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, আমাকে প্রশাসন চিঠি দিয়ে দায়িত্ব দিয়েছে। এখন আবার চিঠি দিলে দায়িত্ব ছেড়ে দিব। হাইকোর্টের নির্দেশ আমার কাছে আসেনি বলে তিনি জানান। 

চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর   আমাকে দায়িত্ব থেকে সরাতে মেম্বার খোরশেদ ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দেয়ার ব্যবস্থা করে আমাকে জেল খাটিয়েছে। এখন হাইকোর্টের আদেশ পেয়েও আমি দায়িত্ব পাচ্ছিনা। আমি দায়িত্বে না থাকায় জনগন দুর্ভোগে আছে। মানুষের সেবা করতেই জনগন আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। কিন্ত সেবা করতে পারছিনা। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম মামুনুর রশীদ এবিষয়ে জানান, হাইকোর্টের আদেশটি আমি গত ১৯ এপ্রিল পেয়েছি। এতে প্রশাসনিক জটিলতা আছে। বিষয়টি আমি আমার উর্ধতন কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করেছি। নির্দেশনা পেলে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিব। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভৈরব পৌরসভার সাবেক তিনবারের মেয়র এড, আক্কাছ আর নেই। 

ভৈরবে ইউপি চেয়ারম্যানকে হয়রানীর প্রতিবাদে  ও দায়িত্ব পূর্নবহালের দাবিতে মানববন্ধন। 

Update Time : ০২:০০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

৩০ এপ্রিল, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমানকে হয়রানীর প্রতিবাদে ও দায়িত্ব পূর্ণবহালের দাবিতে এলাকাবাসী এক মানববন্ধন করে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টার দিকে শিমুলকান্দি হাইস্কুলের সামনে রাস্তায় এলাকার সাধারণ মানুষ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। এসময় তারা একটি মিছিলও করে। তাদের দাবি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে প্রশাসনের হয়রানী বন্ধসহ তাকে তার দায়িত্বে পূর্ণবহাল করতে হবে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ওরফে আল-আমিন  জোর করে প্যানেল চেয়ারম্যান হয়ে ষড়যন্ত্র করে তাকে হয়রানী করতে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছেন এলাকাবাসীর দাবি। মামলার পর চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান দীর্ঘ কয়েকমাস জেল খেতে জামিনে বেরিয়ে আসলে খোরশেদ আলম তার দল বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে তাকে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে চেয়ারম্যানকে হুমকি দুমকি দিয়ে যাচ্ছে। পরে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রশাসনের সহযোগীতা না পেয়ে উচ্চ আদালতে মামলা করে। গত ৪ এপ্রিল হাইকোর্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেয় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে। কিন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রশাসনিক জটিলতার কথা বলে এখনও দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেননি বলে জানান চেয়ারম্যান। 

এলাকাবাসীর দাবি চেয়ারম্যান দায়িত্ব না পাওয়ায় সাধারণ জনগন নানা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এদিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এখনও তাকে নানাভাবে হয়রানী করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। 

মানববন্ধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পরিষদের মেম্বার নাসির উদ্দিন, বিএনপির স্থানীয় নেতা জজ মিয়া,  আরেক নেতা আহাদ মিয়া, খোরশেদ আলম, কৃষক বিল্লাল মিয়া, বশীর আহমেদ, আজিজুল ইসলাম, আসাদ মিয়া, মহিবুল ইসলাম, মরিয়ম বেগম প্রমূখ। 

বিএনপি নেতা জজ মিয়া বলেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জোর করে ক্ষমতা দখল করে এখন দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেননা। পরিষদের সাবেক  প্যানেল চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বলেন খোরশেদ আলমকে জনগন মেম্বার হিসেবে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে। কিন্ত সে জোর করে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। জনগন মিজানুর রহমানকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান বানিয়েছে। তাকে অযথা হয়রানী করা হচ্ছে। বিল্লাল মিয়া বলেন, হাইকোর্টের আদেশের পরও প্রশাসন কেন তাকে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেননা। তাই আমরা আজ মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানাই। এলাকাবাসীর দাবি অবিলম্বে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিলে তারা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে। 

এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, আমাকে প্রশাসন চিঠি দিয়ে দায়িত্ব দিয়েছে। এখন আবার চিঠি দিলে দায়িত্ব ছেড়ে দিব। হাইকোর্টের নির্দেশ আমার কাছে আসেনি বলে তিনি জানান। 

চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর   আমাকে দায়িত্ব থেকে সরাতে মেম্বার খোরশেদ ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দেয়ার ব্যবস্থা করে আমাকে জেল খাটিয়েছে। এখন হাইকোর্টের আদেশ পেয়েও আমি দায়িত্ব পাচ্ছিনা। আমি দায়িত্বে না থাকায় জনগন দুর্ভোগে আছে। মানুষের সেবা করতেই জনগন আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। কিন্ত সেবা করতে পারছিনা। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম মামুনুর রশীদ এবিষয়ে জানান, হাইকোর্টের আদেশটি আমি গত ১৯ এপ্রিল পেয়েছি। এতে প্রশাসনিক জটিলতা আছে। বিষয়টি আমি আমার উর্ধতন কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করেছি। নির্দেশনা পেলে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিব।