২৮ এপ্রিল, নিজস্ব প্রতিনিধি।
ভৈরবের ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা করলেন কিশোরগঞ্জ জেলার নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শেলী। আজকের আলোচনায় প্রধান বিষয় ছিল মাদক, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ দমন করা। ভৈরব চেম্বারের পক্ষ থেকে আয়োজিত আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১ টায় চেম্বার কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন চেম্বারের সভাপতি জাহিদুল হক জাভেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শেলী, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত সরকার, ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফয়জুল ইসলাম, ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম। এসময় ভৈরবের ব্যবসায়ীদের ৪৫ টি সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় আলোচনা শুরু হলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ভৈরবে মাদক, ছিনতাইয়ের ঘটনা মারাত্মক হারে বেড়ে গেছে। প্রতিদিন ছিনতাই, মাদকের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ দমন করতে পারছেনা। এছাড়া আইনশৃংখলার অবনতি, কিশোরগ্যাংয়ের অত্যাচার, চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্য চুনোপটিদের মাঝেমধ্য গ্রেফতার করলেও রাঘববোয়াল মাদক ব্যবসায়ীরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। শহরের কমপক্ষে ২০০ স্পটে মাদক বেচাকেনা হয় বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ফারুক সভায় বলেন, ভৈরবে ছিনতাইকারীদের হাতে কয়েক বছরে তিনজন পুলিশ ছুরিকাঘাতে মৃত্যু হয়। জ্বালানী ব্যবসায়ী হোসেন আলী বলেন তার দোকানে দুইবার চুরি হয়েছে। পাদুকা ব্যবসায়ী আলামিন বলেন তারা নিরাপদে থাকতে পারছেননা। যুবদল নেতা দেলুয়ার হোসেন সুজন বলেন, ভৈরবের কয়েকটি রোডে প্রতিদিন ছিনতাই হচ্ছে। ঔষধ ব্যবসায়ী চন্দন কুমার পাল বলেন মাদক, ছিনতায়ের কারনে তারা ভয়ে থাকেন। সাংবাদিক সুমন মোল্লা বলেন, সমাজের মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং ছিনতাই, মাদক দমনে পুলিশকে সবাই সহযোগীতা করতে হবে। সাংবাদিক সজীব আহমেদ বলেন, অপরাধীদের পুলিশ গ্রেফতার করে জেলে পাঠালে তারা সাতদিনের মধ্য জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাই অপরাধীদেরকে কঠিন মামলা দিতে হবে। ব্যবসায়ী আল- মামুন বলেন জুয়া, মাদক, ছিনতাই বন্ধ না করলে সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম বলেন মাদক, ছিনতাইকারী, জুয়া তে কোন আপোষ নয়। তাদেরকে পুলিশ ধরলে আমরা কোন তদবির করিনা। চাঁদাবাজিতে তারা কখনও সমর্থন করেননা। উপস্থিত কয়েকজন বলেন ভৈরবে পুলিশের সংখ্যা ও যানবাহন বৃদ্ধি করতে হবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শেলী সভায় ব্যবসায়ীদের সব অভিযোগের কথা শুনেন। তিনি শহরে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কথা বলেন। কমিউনিটি পুলিশ কমিটি করে তাদের দিয়ে পুলিশকে সহযোগীতার কথা জানান । মাদক, ছিনতাই দমনে ওসিকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি আইনশৃংখলা উন্নয়ন ও অপরাধ দমনের জন্য আরও কয়েকটি কমিটি করার প্রস্তাব করেন। এসব কমিটির সদস্যরা পুলিশকে সহযোগীতা করতে হবে। ভৈরবের অপরাধসহ মাদক, ছিনতাই দমনে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে সভায় জানিয়েছেন।
Reporter Name 









