৩১ মার্চ, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরবে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় শতাধিক বাড়ী-ঘর ভাংচুর -লুটপাট হয়েছে। বলা যায় এক সপ্তাহ যাবত তান্ডবের মহোৎসব চলছে। অনেকের দালানকোঠা ভেঙ্গে রুমের থালাবাসন লেপতোষক পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছে। গত ২৩ মার্চ ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে ঈমাম হোসেন (২০) নামে এক যুবক কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষ শেখ বাড়ি বংশের লোকজনের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে শতাধিক বাড়ি- ঘর ভাংচুর লুটপাট ও তান্ডব লীলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাংচুর লুটপাটের ঘটনাটি ১৯৭১ সালের পাকহানাদারদের ধব্বংস যঞ্জ কে হার মানিয়েছে। নিহত পরিবারের মামলায় অভিযুক্ত শেখ বাড়ি বংশের পুরুষ শূন্য হয়ে পড়ায় রাতের আধারে বাড়িতে ঢুকে নারীদের অত্যাচার নির্যাতন করা হচ্ছে বলে এমন অভিযোগ রয়েছে । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার যুগান্তর প্রতিনিধি সরজমিনে গ্রামটি পরিদর্শন করে এসব ঘটনা দেখতে পায়। গতকাল সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশিদ ও ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান আকন্দ। হত্যাকান্ডের পর পরই শেখ বাড়ির লোকজন পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। বর্তমানে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান গত কয়েক বছর ধরে লুন্দিয়া গ্রামের শেখবাড়ী ও পাগলা হাটি ২ বংশের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ, বাড়ি- ঘর ভাংচুর লুটপাট ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এরই জের ধরে গত ২৩ মার্চ সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে পাগলা হাটি গ্রামের ইসা মিয়ার পুত্র ঈমাম হোসেন দোকান থেকে মোবাইলের মিনিট কার্ড আনতে যায় । এ সময় আগ থেকে ওৎ পেতে থাকা শেখ বাড়ির ১০/১৫ যুবক ইমাম হোসেনকে আটক করে কুপিয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করে । এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইসা মিয়া গত ২৭ মার্চ বাদী হয়ে ভৈরব থানায় ৭৯ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত নামা ১০/১৫ জন কে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা ( মামলা নং ৪০) দায়ের করেছে । মামলা দায়ের করার পর থেকে প্রতিপক্ষের বাড়ীর লোকজন পলাতক রয়েছে। এছাড়া প্রতিপক্ষদের পক্ষ থেকে গতকাল সোমবার রাতে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৮০ জনকে আসামী করে একটি ভাংচুর লুটপাটের ঘটনায় থানায় একটি মামলা করেছে বলে পুলিশ জানায়। এঘটনায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক শেখ বাড়ির বেশ কয়েক জন নারী ও পুরুষ জানান, হত্যা মামলা দায়ের করার পর শেখ বাড়ির লোকজন পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে পুরুষরা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এ সুযোগে পাগলা হাটি গ্রামের লোকজন শেখ বাড়িতে হামলা চালিয়ে পাকা ভবন, আধা পাকা ভবনসহ শতাধিক ঘর- বাড়ি ভাংচুর করে ঘরের ভিতর থেকে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্র সহ প্রায় কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয় রাতের আধারে দল বেধে যুবকরা অস্ত্র – সস্ত্র নিয়ে বাড়িতে এসে নারীদের নানাভাবে অত্যাচার,মানসিক নির্যাতন করছে। তারা ভয়ভীতি ও আতঙ্কে আছে বলে জানান । তাই তারা অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে আইনশৃংখলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।
লুন্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, হত্যার সাথে আমাদের পরিবার জড়িতনা। কিন্ত নিহতের পরিবারের লোকজন আমাদের বাড়ীঘর ভাংচুর লুটপাট করেছে। এলাকার তারা মিয়া মেম্বার বলেন, ঘটনার পর থেকে বাড়ীঘর ভাংচুর লুটপাট চলছে। গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ী ভাংচুর লুটপাট হয়েছে। পুলিশ প্রহরা দিনে থাকেনা, রাতে থাকলেও তারা থামাতে পারছেনা। নিহতের পরিবার মামলা করার পর থেকে শেখ বাড়ীর বংশের লোকজন পালিয়ে গেছে। তবে ঘটনার পর থেকে পাগলা হাটির নিহতের পরিবারের লোকজন গত সাতদিন যাবত বাড়ীঘর ভাংচুর লুটপাট করছে। এখন পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে গ্রামশূন্য মানুষ।
এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরদিন আমি আমার দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থল লুন্দিয়া গ্রাম পরিদর্শনে যায়। সেখানে গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত থাকতে বলেছিলাম। পরবর্তীতে বসে আমরা ঘটনার মীমাংসা করব। তারপরও বর্বর গ্রামের মানুষগন এঘটনাগুলি ঘটিয়েছে। অপরাধীদের বিচার করতে হবে। গতকাল সোমবার দুইপক্ষ আমার কাছে আসলে একই কথা বলেছি। আমরা চেষ্টা করছি ঘটনাটি যাতে মীমাংসা হয়।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশিদ জানান, আমি গতকাল সোমবার গ্রামটি পরিদর্শন করেছি। এধরনের ভাংচুর লুটপাট দেখে হতবাক হলাম। হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার পর পাল্টা পাল্টি বাড়ি- ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পারছি। পরিস্থিতি শান্ত করতে আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান আকন্দ জানান,হত্যাকান্ডের পর বাড়ি- ঘর ভাংচুর লুটপাট চলছে । এতে ৩য় পক্ষ লুটপাট ভাংচুর করতে পারে। তাছাড়া নিহত ইমাম হোসেনর বাবা ৭৯ জনের নাম উল্লেখ সহ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেছে। আমরা যাচাই-বাছাই করছি। অভিযুক্ত আসামীদেরকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।
ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফয়জুল ইসলাম জানান, একটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় এসব ঘটনা ঘটছে। লুন্দিয়া গ্রামের মানুষ বংশভিত্তিক ঝগড়া করে যা জানতে পারি । ঘটনার পর রাতের বেলায় প্রতিপক্ষের লোকজনের বাড়ীঘর ভাংচুর লুটপাট করেছে। গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন থেকে আর যেন এসব ঘটনা না ঘটে সেদিকে পুলিশ নজর রাখছে।
কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার ডঃ এস এম ফরহাদ হোসেনের সাথে এবিষয়ে যুগান্তর প্রতিনিধির মোবাইলে কথা হলে তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত আছি। নিহতের পরিবার থানায় মামলা করেছে। অভিযুক্তরা পলাতক থাকার সুযোগে তারা রাতের বেলায় বাড়ীঘর ভাংচুর লুটপাট করেছে। বর্তমানে গ্রামে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপা
Reporter Name 









