ভৈরব পৌর কর্মকর্তাকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকির ঘটনা।  নেপথ্যে ছিল পৌরসভার  ৩ কর্মচারী।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮৮ Time View

৫ আগস্ট,   নিজস্ব  প্রতিনিধি

 ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুককে কুরিয়ার  পার্সেলের মাধ্যমে কাফনের কাপড় ও গোলাপ জল পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, পৌরসভারই ৩ কর্মচারী এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ঘটনাটি উদঘাটনের পর তারা বিষয়টি স্বীকার করায় তিনজনকেই চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে। তারা দৈনিক ভিত্তিক মাস্টাররোলে ভৈরব পৌরসভায় চাকরি করত। 

গত ১৯ জুলাই এই হুমকি পাওয়ার পর ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুক্তভোগী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো.ফারুক। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ওই তিন কর্মচারী কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষের কম্পিউটার অপারেটর আল মামুন, লাইসেন্স শাখার কম্পিউটার অপারেটর আল-আমিন এবং পৌরসভার লাইব্রেরিয়ান মো. রাকিব মিয়া।

জানা যায়, গত ১৯ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ওই কর্মকর্তার স্ত্রীর মালিকানাধীন ‘ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়’ ঠিকানায় এসএ পরিবহনের মাধ্যমে একটি পার্সেল পাঠানো হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে জনৈক ‘হরিদাস’ পরিচয়ে পাঠানো ওই পার্সেলটি গ্রহণ করেন পৌর কর্মকর্তা মো. ফারুকের ছেলে। বাক্সটি খুলে দেখা যায়, ভেতরে ১ গজ সাদা কাফনের কাপড়, ১টি গোলাপ জল, ১টি আগরবাতি এবং একটি চিরকুট রয়েছে। চিরকুটে ওই কর্মকর্তাকে এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো.ফারুক বলেন, “আমি সবসময় নিয়মতান্ত্রিকভাবে দায়িত্ব পালন করি এবং কোনো দুর্নীতির সঙ্গে আপস করি না। ৫ আগস্টের পর দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক (মাস্টাররোল) কিছু কর্মচারী চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আদালতে  মামলা করেন। তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। সম্ভবত তাদের দাবি পূরণ না হওয়ার পেছনে আমাকে দায়ি মনে করেই এই জঘন্য কাণ্ড ঘটানো হয়েছে।” বিষয়টির আইনি প্রক্রিয়াধীন, তাই আর কিছু বলতে চাইনা। 

তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের কারো  বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক  কে.এম মামুনুর রশীদ বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে তিনজনকেই চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে  এবং পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

দেশে জুলাই আন্দোলন না হলে স্বৈরাচার বিদায় হতনা। 

ভৈরব পৌর কর্মকর্তাকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকির ঘটনা।  নেপথ্যে ছিল পৌরসভার  ৩ কর্মচারী।

Update Time : ১০:৩৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

৫ আগস্ট,   নিজস্ব  প্রতিনিধি

 ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুককে কুরিয়ার  পার্সেলের মাধ্যমে কাফনের কাপড় ও গোলাপ জল পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, পৌরসভারই ৩ কর্মচারী এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ঘটনাটি উদঘাটনের পর তারা বিষয়টি স্বীকার করায় তিনজনকেই চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে। তারা দৈনিক ভিত্তিক মাস্টাররোলে ভৈরব পৌরসভায় চাকরি করত। 

গত ১৯ জুলাই এই হুমকি পাওয়ার পর ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুক্তভোগী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো.ফারুক। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ওই তিন কর্মচারী কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষের কম্পিউটার অপারেটর আল মামুন, লাইসেন্স শাখার কম্পিউটার অপারেটর আল-আমিন এবং পৌরসভার লাইব্রেরিয়ান মো. রাকিব মিয়া।

জানা যায়, গত ১৯ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ওই কর্মকর্তার স্ত্রীর মালিকানাধীন ‘ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়’ ঠিকানায় এসএ পরিবহনের মাধ্যমে একটি পার্সেল পাঠানো হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে জনৈক ‘হরিদাস’ পরিচয়ে পাঠানো ওই পার্সেলটি গ্রহণ করেন পৌর কর্মকর্তা মো. ফারুকের ছেলে। বাক্সটি খুলে দেখা যায়, ভেতরে ১ গজ সাদা কাফনের কাপড়, ১টি গোলাপ জল, ১টি আগরবাতি এবং একটি চিরকুট রয়েছে। চিরকুটে ওই কর্মকর্তাকে এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো.ফারুক বলেন, “আমি সবসময় নিয়মতান্ত্রিকভাবে দায়িত্ব পালন করি এবং কোনো দুর্নীতির সঙ্গে আপস করি না। ৫ আগস্টের পর দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক (মাস্টাররোল) কিছু কর্মচারী চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আদালতে  মামলা করেন। তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। সম্ভবত তাদের দাবি পূরণ না হওয়ার পেছনে আমাকে দায়ি মনে করেই এই জঘন্য কাণ্ড ঘটানো হয়েছে।” বিষয়টির আইনি প্রক্রিয়াধীন, তাই আর কিছু বলতে চাইনা। 

তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের কারো  বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক  কে.এম মামুনুর রশীদ বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে তিনজনকেই চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে  এবং পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।