৩ আগস্ট, নিজস্ব প্রতিনিধি:
ভৈরবে সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সম্পর্কিত বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান অতিথি কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সুহানা নাসরিন। ভৈরব উপজেলা পরিষদ কার্যালয় আয়োজিত আজ সোমবার সকাল ১১ টায় উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান শৈলী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুজিবুর রহমান, ভৈরব টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন এর সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান ফারুক, ভৈরব প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহেলুর রহমান, ভৈরব চেম্বারের সভাপতি জাহিদুল হক জাভেদ প্রমূখ।

সভার শুরুতেই কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সুহানা সোহান বলেন, ভৈরবে গত দুইমাসে তিনটি সংঘর্ষে দুটি খুন, আহত শতাধিক, বাড়ীঘর ভাঙচুর – লুটপাট ও আগুন দেয়া ভয়ানক ঘটনা। এছাড়া প্রতিটি সংঘর্ষে রেলপথ – সড়কপথ অবরোধ করা, রাষ্ট্রিয় সম্পদ ক্ষতিসাধন করা অভ্যাসে পরিনত হয়েছে যা মারাত্মক অপরাধ। এবিষয়গুলি নিয়ে সাধারণ মানুষ, নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের লোকদের সাথে আলোচনা করতেই তিনি কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারকে নিয়ে ভৈরবে এসেছেন। এধরনের ঘটনায় সবার মধ্য উদ্বেগ বিরাজ করছে বলে তিনি জানান। এমনকি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ভৈরবের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় বলে তিনি সভায় জানান।
সভায় উপস্থিত বক্তাগন বলেন, একটি বাজারের সাইনবোর্ডের নাম নিয়েসহ আকবরনগর – মিরারচরচর গ্রামের আধিপত্য বিস্তার, বাজারে চাঁদাবাজি – দখলবাজীকে কেন্দ্র করে গত ২৭ জুলাই দুইপক্ষের সংঘর্ষে দুইজন খুন, অর্ধশত আহত হয়। এছাড়া গত ৬ জুন ফুটবল খেলাকে নিয়ে রেলস্টেশনে ও ১১ জুন বাস ভাড়াকে কেন্দ্র করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যপক সংঘর্ষ হলে প্রায় ৪০ জন আহত হয়। এছাড়া মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে একটি মাদক সিন্ডিকেট ও কিশোর গ্যাং সদস্যরা প্রতিনিয়ত দ্বন্দ বাঁধে। মাদকের নেশার টাকা যোগার করতে নেশাখোররা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই করছে শহরে। পুলিশ অপরাধীদের প্রায়ই গ্রেফতার করে আদালতে চালান দিলে সহজে জামিনে বের হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে বলে বক্তারা ও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে সভাটি দুইঘন্টা চলে। ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন জনগনের সহযোগীতা ছাড়া অপরাধ দমন সম্ভব নয়। জনগন সগযোগীতা করলে দ্রুত অপরাধ দমন করতে পারবেন বলে তিনি সভায় জানান।
পরে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শৈলী সভায় বলেন, পুলিশের একার পক্ষে এসব অপরাধ দমন সম্ভব নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ পুলিশকে সহযোগীতা করতে হবে। বিএনপি নেতা মোঃ রফিকুল ইসলাম ও মোঃ আরিফুল ইসলাম অপরাধ দমনে পুলিশকে সহযোগীতা করবেন বলে জানান। ভৈরবের শিমুলকান্দি এলাকায় নতুন একটি পুলিশ ফাঁড়ি করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ফারুক সভায় বলেন, ভৈরবের প্রতিটি গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও বাজারে চাঁদাবাজি নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। মাদক ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে শ্রীনগর গ্রামে মাদকের পাইকারী হাট। এসব দমন করতে হবে। সাংবাদিক সোহেলুর রহমান বলেন, অপরাধীদেরকে গ্রেফতার করলে কেউ যেন তদবির না করেন। অপরাধীরা সহজে যাতে জামিন না পায় পুলিশ সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সুহানা নাসরিন সভায় সবার বক্তব্য শুনে বলেন, প্রতিটি গ্রামে, পাড়ায় মহল্লায় সমাজপতিগনসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ মিলে কমিটি করতে হবে। স্থানীয়ভাবে কিশোরদেরকে খেলাধূলার ব্যবস্থা করে মনযোগী করতে হবে। পুলিশ অপরাধীদেরকে গ্রেফতার করলে তদবির করা যাবেনা। লোকজনকে বুঝাতে হবে দাঙ্গাহাঙ্গামা – সংঘর্ষ করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। অপরাধীর কোন দল নেই তা সবাইকে বুঝতে হবে। ভৈরবে আমরা আর কোন ঝগড়া সংঘর্ষ দেখতে চাইনা। আগামীতে আবার কোন পক্ষ সংঘর্ষ করলে কাউকে রেহাই দেয়া হবেনা, জেলে যেতে হবে।
সভায় আরও যারা উপস্থিত ছিলেন তারা হলো, জামায়েত নেতা কামরুল ইসলাম, যুবদল নেতা দেলুয়ার হোসেন সুজন, বিএনপি নেতা আবুল বাশার, আজগর আলী, অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর মোঃ আক্তারুজ্জামান, Rab এর ডিএডি শ্যামল কুমার, কিশোরগঞ্জের এনএসআইয়ের উপ- পরিচালক মোঃ আলী আকবর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাক্তার কিশোর কুমার ধর, বিআইডব্লিউটিএ’র ভৈরব বন্দরের ডিডি নাহিদ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আলকাছ, ডিজিএফআইয়ের ভৈরব কর্মকর্তা আবদুস সালাম, ভৈরব রেলস্টেশন মাস্টার মোঃ ইউছুফ, রেলওয়ে ও নৌ- থানার অফিসারবৃন্দ।
Reporter Name 








