ভৈরবে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে  হাসপাতালের  ডাক্তার জুইঁ দুই সাংবাদিকের সাথে দুর্ব্যবহার করল। ঘটনার বিচার দাবি। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩৩:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ২৪৪ Time View

২৮ জুলাই, নিজস্ব  প্রতিনিধি

সোমবার ভৈরবের দুটি গ্রামের দুটি পক্ষ বাজারের নামকরন নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় ঘটনায় ২ জন মারা যায় এবং  উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়। তার মধ্য ২৯ জন আহত লোক ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়। ঘটনার পর যুগান্তর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান ফারুক ও যায় যায় দিন পত্রিকার ভৈরব প্রতিনিধি সত্যজিৎ দাস ধ্রুব নিহত ও আহতদের খোঁজ নেয়া এবং সংবাদ সংগ্রহের জন্য এদিন দুপুর ২.১০ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। হাসপাতালে গিয়ে তারা দুজন আহত রোগীদেরসহ জরুরি বিভাগের কিছু ছবি ও  ভিডিও ফুটেজ নেন। এসময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার উম্মে হাবিবা জুইঁ ভিডিও ফুটেজ নিতে দুইজন সাংবাদিককে বাধা প্রদান করেন এবং বলেন ভিডিও ডিলেট করে দিতে। তার কথায় সাংবাদিকরা প্রতিবাদ করেন। তখন যুগান্তর সাংবাদিক বলেন, ভিডিও ডিলেট করব কেন?  আপনি আহতদের তালিকাটি দেন। এরপর ডাক্তার জুইঁ উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমার অনুমতি ছাড়া ভিডিও করলেন কেন ও জরুরি বিভাগে প্রবেশ করলেন কেন। তখন সাংবাদিকরা বলেন হাসপাতালে প্রবেশ করতে আর রোগীদের ভিডিও ছবি তুলতে আপনার অনুমতি লাগবে কেন। তথ্য অধিকার আইনে সাংবাদিকগন তথ্য চাইতে পারে ও নিতে পারে। একথা শুনে ওই ডাক্তার আরও উত্তেজিত হয়ে উচ্চস্বরে সাংবাদিক দুইজনকে জরুরি বিভাগে থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। আরও বলেন তিনি কোন তথ্য দিতে বাধ্য নন। ঘটনার সময় হাসপাতালের কর্মচারী মোজাম্মেল ও আমজাত উপস্থিত ছিলেন। ডাক্তারের কথার ভাষা দেখে তারাও হতবাক হন। এক পর্যায়ে ডাক্তার জুইঁ উচ্চস্বরে দুই সাংবাদিককে জরুরি বিভাগ থেকে বের হতে বলেন। জানা গেছে ডাক্তার জুইঁ ইতিপূর্বে আরও কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন। তিনি রোগীদের সাথেও প্রায় সময় খারাপ ব্যবহার করেন এমন অভিযোগ রয়েছে। পরে ঘটনাটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাঃ কিশোর কুমার ধর ও কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়। তারা দুইজন ডাক্তার জুইঁয়ের বিচার দাবি করেছে। 

এবিষয়ে যায় যায় দিন পত্রিকার সাংবাদিক সত্যজিৎ দাস ধ্রুব বলেন, একজন হাসপাতালের ডাক্তার এধরনের দুর্ব্যবহার করতে পারেনা। রোগীদের ছবি ভিডিও ধারন করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদেরকে জরুরি বিভাগ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন যা অশোভনীয় আচরণ করেছেন। 

যুগান্তর সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ফারুক বলেন, আমার ৩৫ বছরের সাংবাদিক জীবনে আমি এমন ডাক্তার দেখেনি। তিনি ঘটনার সময় উচ্চস্বরে সাংবাদিক দুজনকে অশোভন অশালীন আচরণ করেছেন। ঘটনাটি তার কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি তার বিচার দাবি করেন।  

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

দেশে জুলাই আন্দোলন না হলে স্বৈরাচার বিদায় হতনা। 

ভৈরবে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে  হাসপাতালের  ডাক্তার জুইঁ দুই সাংবাদিকের সাথে দুর্ব্যবহার করল। ঘটনার বিচার দাবি। 

Update Time : ০৭:৩৩:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

২৮ জুলাই, নিজস্ব  প্রতিনিধি

সোমবার ভৈরবের দুটি গ্রামের দুটি পক্ষ বাজারের নামকরন নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় ঘটনায় ২ জন মারা যায় এবং  উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়। তার মধ্য ২৯ জন আহত লোক ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়। ঘটনার পর যুগান্তর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান ফারুক ও যায় যায় দিন পত্রিকার ভৈরব প্রতিনিধি সত্যজিৎ দাস ধ্রুব নিহত ও আহতদের খোঁজ নেয়া এবং সংবাদ সংগ্রহের জন্য এদিন দুপুর ২.১০ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। হাসপাতালে গিয়ে তারা দুজন আহত রোগীদেরসহ জরুরি বিভাগের কিছু ছবি ও  ভিডিও ফুটেজ নেন। এসময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার উম্মে হাবিবা জুইঁ ভিডিও ফুটেজ নিতে দুইজন সাংবাদিককে বাধা প্রদান করেন এবং বলেন ভিডিও ডিলেট করে দিতে। তার কথায় সাংবাদিকরা প্রতিবাদ করেন। তখন যুগান্তর সাংবাদিক বলেন, ভিডিও ডিলেট করব কেন?  আপনি আহতদের তালিকাটি দেন। এরপর ডাক্তার জুইঁ উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমার অনুমতি ছাড়া ভিডিও করলেন কেন ও জরুরি বিভাগে প্রবেশ করলেন কেন। তখন সাংবাদিকরা বলেন হাসপাতালে প্রবেশ করতে আর রোগীদের ভিডিও ছবি তুলতে আপনার অনুমতি লাগবে কেন। তথ্য অধিকার আইনে সাংবাদিকগন তথ্য চাইতে পারে ও নিতে পারে। একথা শুনে ওই ডাক্তার আরও উত্তেজিত হয়ে উচ্চস্বরে সাংবাদিক দুইজনকে জরুরি বিভাগে থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। আরও বলেন তিনি কোন তথ্য দিতে বাধ্য নন। ঘটনার সময় হাসপাতালের কর্মচারী মোজাম্মেল ও আমজাত উপস্থিত ছিলেন। ডাক্তারের কথার ভাষা দেখে তারাও হতবাক হন। এক পর্যায়ে ডাক্তার জুইঁ উচ্চস্বরে দুই সাংবাদিককে জরুরি বিভাগ থেকে বের হতে বলেন। জানা গেছে ডাক্তার জুইঁ ইতিপূর্বে আরও কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন। তিনি রোগীদের সাথেও প্রায় সময় খারাপ ব্যবহার করেন এমন অভিযোগ রয়েছে। পরে ঘটনাটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাঃ কিশোর কুমার ধর ও কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়। তারা দুইজন ডাক্তার জুইঁয়ের বিচার দাবি করেছে। 

এবিষয়ে যায় যায় দিন পত্রিকার সাংবাদিক সত্যজিৎ দাস ধ্রুব বলেন, একজন হাসপাতালের ডাক্তার এধরনের দুর্ব্যবহার করতে পারেনা। রোগীদের ছবি ভিডিও ধারন করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদেরকে জরুরি বিভাগ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন যা অশোভনীয় আচরণ করেছেন। 

যুগান্তর সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ফারুক বলেন, আমার ৩৫ বছরের সাংবাদিক জীবনে আমি এমন ডাক্তার দেখেনি। তিনি ঘটনার সময় উচ্চস্বরে সাংবাদিক দুজনকে অশোভন অশালীন আচরণ করেছেন। ঘটনাটি তার কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি তার বিচার দাবি করেন।