২৫ মে, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরব শহরের রামশংকরপুর এলাকাবাসীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশালাকৃতির এক গরু, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভৈরবের বস’। ফ্রিজিয়ান ফ্ল্যাক বি জাতের এই সাদা-কালো পাহাড়সম গরুটিকে ঘিরে কৌতুহলী মানুষের ভিড় এখন প্রতিদিনের ঘটনা। ১১শ কেজি ওজনের এই গরুটি লালন-পালন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় যুবক সাদ্দাম হোসেন।
মৃত বীরমুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন পেশায় একজন ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী। ২০১৪ সাল থেকে ব্যবসার পাশাপাশি তিনি শখের বসে গত ৩ বছর যাবত কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গবাদি পশু লালন পালন করেন৷ গতবছর কোরবানির ঈদেও তিনি তিনটি গরু বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছিলেন। তবে এবারের আকর্ষন তার তিন বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে তোলা ‘ভৈরবের বস’।
এবিষয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, প্রায় তিন বছর আগে স্থানীয় একটি হাট থেকে মাত্র ৮০ হাজার টাকায় ফ্রিজিয়ান ফ্ল্যাক বি জাতের বাছুরটি কিনেছিলেন তিনি। দীর্ঘ এই সময়ে পরম যত্নে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটিকে মোটাতাজা করা হয়েছে। গরুকে ক্ষতিকর কোনো স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি। নিজের জমিতে আবাদ করা ঘাস, গমের ভুসি ও খৈল প্রাকৃতিক দানাদার খাদ্য খাইয়ে লালন পালন করেছি। ভৈরব এলাকায় এর আগে এত বড় গরু আর কেউ তৈরি করতে পারেনি। প্রতিদিনই মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে আসছে ভৈরবের বসকে দেখতে। কেউ ছবি তুলছে-এটাই আমার বড় তৃপ্তি।
তিনি আরো বলেন, এই ৩ বছরে গরুটির পেছনে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। বর্তমানে এর ওজন ১,১০০ কেজি (প্রায় ২৭ মণ) ছাড়িয়েছে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তার এই আদরের ‘ভৈরব বস’-এর দাম হেঁকেছেন ৯ লক্ষ টাকা। গরুটির বিশাল দেহ আর শান্ত স্বভাব দেখে অনেক ক্রেতাই আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
স্থানীয় প্রতিবেশী নাদিম মিয়া বলেন, সাদ্দাম নিজের মেধা আর পরিশ্রমে এই অসাধ্য সাধন করেছে। সে যদি ভালো দাম পায়, তবে এলাকায় আরও অনেক যুবক এমন আধুনিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু পালনে আগ্রহী হবে।
এখন সাদ্দাম আশা করছেন, ন্যায্য মূল্যে গরুটি বিক্রি করতে পারলে তিনি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে খামার গড়ে তুলবেন। ‘ভৈরব বস’ এখন শুধু সাদ্দামের স্বপ্ন নয়, বরং পুরো রামশংকরপুর গ্রামের গর্বে পরিণত হয়েছে।
Reporter Name 









