ভৈরবে শিশু মোজাহিদ হত্যা মামলায় বাবাসহ ৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা।  

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৩৩ Time View

 ২৫ এপ্রিল,  নিজস্ব  প্রতিনিধি। 

ভৈরবে সাতমাস বয়সী শিশু মুজাহিদকে হত্যার অভিযোগে বাবাসহ ৫ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে ( মামলা নং ৩২)  । শিশুটির মা তাসলিমা আক্তার বাদী হয়ে গতকাল শুক্রবার রাত ১১ টায় মামলাটি দায়ের করেন। উক্ত মামলায় শিশুর বাবা মেরাজ মিয়া (২৭),  দাদি রাবেয়া বেগম (৪৫), চাচা আলী ইসলাম (৪০) ও আরেক চাচা হোসেন মিয়া (৪২) ও শাহিদা বেগম (৩০) কে আসামী করা হয়। দাম্পত্য কলহের জের ধরেই  নির্মম – নিষ্ঠুর  হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে।  মামলার বিষয়টি পুলিশ স্বীকার করেন। তবে পুলিশ এখনও কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। 

গত  বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি গ্রামের পূর্বকান্দা এলাকার একটি  ডোবা থেকে শিশু মোজাহিদের লাশটি  উদ্ধার করা হয়েছিল। 

নিহত শিশু উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের  মানিকদি পুরানগাও এলাকার মেরাজ মিয়ার ছেলে। 

স্থানীয় ও পরিবার সুত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে তাসলিমা আক্তারের সাথে  মেরাজের  বিয়ে হয়। গত  সাত মাস আগে তাদের ঘরে জন্ম নেয় শিশু মোজাহিদ।  গত ২০ দিন আগে স্বামী ও শ্বাশুরীর সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়ার পর  বাবার বাড়িতে চলে যায়  তাসলিমা । এরপর গত ১৬ এপ্রিল শিশুর বাবা মেরাজ মিয়া তার শ্বশুরবাড়িতে যায়। তখন  স্ত্রীর কাছ থেকে শিশু পুত্রকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে নিয়ে আসে । তারপর সারাদিন যাওয়ার পর শিশুর মায়ের কাছে শিশুটিকে  ফেরত নিয়ে আসেনি । পরদিন তাসলিমার বাবার বাড়ির লোকজন  শিশুকে ফেরত আনতে মেরাজের বাড়িতে গেলে শিশু মোজাহিদকে পাওয়া যায়নি। পরে গত ২১ এপ্রিল শিশুর মা ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সাতদিন পর গত  বৃহস্পতিবার সকালে বিলের ডোবায় শিশুর লাশ দেখে   স্থানীয়রা খবর দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে শিশুর পরিচয় সনাক্ত করে। 

এবিষয়ে শিশুর মা তাসলিমা আক্তার বলেন, আমরা প্রেম করে বিয়ে করেছিলাম কিন্ত আমার স্বামীর পরিবার ভালভাবে মেনে নেয়নি। স্বামী মেরাজ নেশা করত যা আমি বিয়ের পর টের পায়। শ্বাশুড়ি আমাকে অত্যাচার নির্যাতন করত। সংসারে কলহের কারনে আমি রাগ করে গত ১৬ এপ্রিল আমার শিশু সন্তানসহ  বাপের বাড়ী চলে আসি। এরপর আমার স্বামী শিশু  ছেলে মোজাহিদকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে নিয়ে আসে। তারপরই আমার সন্তান নিখোঁজ হয়। ৭ দিন পর গত বৃহস্পতিবার খবর পায় ডোবাতে শিশুর লাশ। আমার স্বামী ও  তারা মিলে  আমার সন্তানকে হত্যা করেছে, তাই আমি শুক্রবার রাতে ৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেছি। আমি আমার  ছেলে হত্যার বিচার চাই। 

এবিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ  জানান, ঘটনায় শুক্রবার রাতে শিশুর মা বাদী হয়ে বাবাসহ ৫ জনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা করে। শিশুর ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভৈরব পৌরসভার সাবেক তিনবারের মেয়র এড, আক্কাছ আর নেই। 

ভৈরবে শিশু মোজাহিদ হত্যা মামলায় বাবাসহ ৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা।  

Update Time : ১০:০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

 ২৫ এপ্রিল,  নিজস্ব  প্রতিনিধি। 

ভৈরবে সাতমাস বয়সী শিশু মুজাহিদকে হত্যার অভিযোগে বাবাসহ ৫ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে ( মামলা নং ৩২)  । শিশুটির মা তাসলিমা আক্তার বাদী হয়ে গতকাল শুক্রবার রাত ১১ টায় মামলাটি দায়ের করেন। উক্ত মামলায় শিশুর বাবা মেরাজ মিয়া (২৭),  দাদি রাবেয়া বেগম (৪৫), চাচা আলী ইসলাম (৪০) ও আরেক চাচা হোসেন মিয়া (৪২) ও শাহিদা বেগম (৩০) কে আসামী করা হয়। দাম্পত্য কলহের জের ধরেই  নির্মম – নিষ্ঠুর  হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে।  মামলার বিষয়টি পুলিশ স্বীকার করেন। তবে পুলিশ এখনও কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। 

গত  বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি গ্রামের পূর্বকান্দা এলাকার একটি  ডোবা থেকে শিশু মোজাহিদের লাশটি  উদ্ধার করা হয়েছিল। 

নিহত শিশু উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের  মানিকদি পুরানগাও এলাকার মেরাজ মিয়ার ছেলে। 

স্থানীয় ও পরিবার সুত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে তাসলিমা আক্তারের সাথে  মেরাজের  বিয়ে হয়। গত  সাত মাস আগে তাদের ঘরে জন্ম নেয় শিশু মোজাহিদ।  গত ২০ দিন আগে স্বামী ও শ্বাশুরীর সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়ার পর  বাবার বাড়িতে চলে যায়  তাসলিমা । এরপর গত ১৬ এপ্রিল শিশুর বাবা মেরাজ মিয়া তার শ্বশুরবাড়িতে যায়। তখন  স্ত্রীর কাছ থেকে শিশু পুত্রকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে নিয়ে আসে । তারপর সারাদিন যাওয়ার পর শিশুর মায়ের কাছে শিশুটিকে  ফেরত নিয়ে আসেনি । পরদিন তাসলিমার বাবার বাড়ির লোকজন  শিশুকে ফেরত আনতে মেরাজের বাড়িতে গেলে শিশু মোজাহিদকে পাওয়া যায়নি। পরে গত ২১ এপ্রিল শিশুর মা ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সাতদিন পর গত  বৃহস্পতিবার সকালে বিলের ডোবায় শিশুর লাশ দেখে   স্থানীয়রা খবর দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে শিশুর পরিচয় সনাক্ত করে। 

এবিষয়ে শিশুর মা তাসলিমা আক্তার বলেন, আমরা প্রেম করে বিয়ে করেছিলাম কিন্ত আমার স্বামীর পরিবার ভালভাবে মেনে নেয়নি। স্বামী মেরাজ নেশা করত যা আমি বিয়ের পর টের পায়। শ্বাশুড়ি আমাকে অত্যাচার নির্যাতন করত। সংসারে কলহের কারনে আমি রাগ করে গত ১৬ এপ্রিল আমার শিশু সন্তানসহ  বাপের বাড়ী চলে আসি। এরপর আমার স্বামী শিশু  ছেলে মোজাহিদকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে নিয়ে আসে। তারপরই আমার সন্তান নিখোঁজ হয়। ৭ দিন পর গত বৃহস্পতিবার খবর পায় ডোবাতে শিশুর লাশ। আমার স্বামী ও  তারা মিলে  আমার সন্তানকে হত্যা করেছে, তাই আমি শুক্রবার রাতে ৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেছি। আমি আমার  ছেলে হত্যার বিচার চাই। 

এবিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ  জানান, ঘটনায় শুক্রবার রাতে শিশুর মা বাদী হয়ে বাবাসহ ৫ জনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা করে। শিশুর ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।