সড়কগুলিতে ভৈরব হাইওয়ে পুলিশসহ পৌর টোলের নামে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা   চাঁদাবাজির অভিযোগ।  দেখার কেউ নেই। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • ২১৭ Time View

১৪ মার্চ, নিজস্ব  প্রতিনিধি

   ঢাকা-সিলেট ও ভৈরব- কিশোরগঞ্জ সড়কে হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ পরিবহন চালকরা। সড়কে হকারদের দোকান বসানোর কারনে প্রতিদিন যানজট লেগেই আছে। অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন যানবাহন ও হকারদের  কাছ থেকে ভৈরব হাইওয়ে থানা পুলিশ মাসোহারা চাঁদা নিয়ে থাকে। ভৈরব- কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে প্রতিদিন ৪/৫ শ সিএনজি চলাচল করে থাকে। এসব  অধিকাংশ  সিএনজি কাগজপত্র সঠিক নেই। একারনে সিএনজির চালকরা নিরাপদে গাড়ী চালাতে হাইওয়ে পুলিশের সাথে দালালের মাধ্যমে মাসিক মাসোহারা চুক্তি করে থাকে বলে গোপন সূত্র জানায়। প্রতিটি সিএনজি থেকে মাসে ৩০০/৪০০ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ভৈরব হাইওয়ে পুলিশ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বেলাব থানা এলাকার মাহমুদাবাদ নামক স্থানে ও ভৈরবের নাটাল মোড়ে প্রতিদিন চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ী তল্লাশীর নামে যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেট কার, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনকে হয়রানী করে এমন অভিযোগ রয়েছে। গাড়ীর কাগজপত্র সঠিক না থাকলে মামলা দেয়ার ভয় দেখিয়ে উৎকোচ আদায় করে। যারা উৎকোচ না দিতে পারে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়। সড়কে অবাধে হকারদের দোকান রয়েছে। এসব দোকানের কারনে সড়কে প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকে। গোপন সূত্র জানায় হকারগন হাইওয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করেই দোকান চালায়। ভৈরব শহরে রেজিস্টেশনহীন শত শত মটরসাইকেল চলাচল করলেও রহস্যজনক কারনে পুলিশ চালকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করেনা। সড়কে দুটি চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশীর নামে অধিকাংশ গাড়ী থেকে চাঁদা আদায় করে বলে একাধিক অভিযোগ আছে। এতে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হয়। হাইওয়ে পুলিশ এভাবে চাঁদা তুললেও দেখার কেউ নেই। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজি চালক জনপদ সংবাদকে  বলেন, গাড়ীর  কাগজপত্র বৈধ – অবৈধ যাই হোক সড়কে নিরাপদে গাড়ী চালাতে আমি মাসিকভাবে ৫০০ টাকা হাইওয়ের পুলিশকে দিয়ে থাকি। তবে টাকাটা দালালের মাধ্যমে দেয়। এমনভাবে একাধিক সিএনজি চালক চাঁদার টাকা দিয়ে থাকে। আবদুর রশিদ নামের এক চালক বলেন, আমরা গরীব মানুষ। সিএনজি চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাই। গাড়ীর কাগজপত্র অনেক সময় সঠিক থাকেনা, তাই পুলিশকে টাকা দিতে হয়। আবার কাগজ সঠিক থাকলেও অনেকে দাঁদা দেয়। কারন পুলিশ যেকোন কারনে চালকদের হয়রানী করতে পারে। 

যাত্রীবাহী বাসের ড্রাইভার রহমত আলী বলেন, হাইওয়ে পুলিশ চেকপোস্টে গাড়ী থামিয়ে তল্লাশীর নামে হয়রানী করে। অনেক সময় পুলিশকে ৪/৫  শ  টাকা দিতে হয়। টাকা দিলেও তারা নিরাপদ থাকে বলে তাদের দাবি।  তবে এসব চাঁদা নেয়ার সকল অভিযোগ হাইওয়ে পুলিশ অস্বীকার করেছে। 

ভৈরব- কিশোরগঞ্জ ও ঢাকা- সিলেট সড়কে প্রতিদিন কিছু কিছু যুবক স্লিপ দিয়ে সিএনজি, অটোরিক্সা থেকে ২০/৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করতে দেখা যায়। জিজ্ঞাসা করলে এসব যুবকরা জানায় পৌরসভার টোলের খাজনার টাকা আদায় করে তারা। জানা গেছে পৌরসভার সীমানার বাইরে গিয়ে  ঢাকা-সিলেট সড়কের  জগনাথপুর ব্রক্ষপুত্র সেতু পর্যন্ত এবং কিশোরগঞ্জ সড়কের উপজেলা পরিষদ অফিস পর্যন্ত পৌর টোল আদায় করে তারা। চালকরা চাঁদার টাকা না দিলে তাদেরকে মারধোর বা হয়রানীর  অভিযোগও রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ এবিষয়টি দেখেও এসব যুবকদেরকে কিছুই বলেনা বা রহস্যজনক কারনে  আইনগত ব্যবস্থা নেয়না। 

এবিষয়ে ভৈরব হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) সুমন কুমার চৌধুরি  জানান, আমি মাত্র এক সপ্তাহ আগে থানায় যোগদান করেছি। কাজেই চাঁদা আদায়সহ দুটি চেকপোস্টের বিষয় আমি অবগত নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশ চাঁদাবাজি করবে আমি বিশ্বাস করিনা। তবে অভিযোগের বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিয়েছি। আমার হাইওয়ে থানার পুলিশ সিএনজি বা যানবাহন থেকে কোনরকম মাসিক বা দৈনিক চাঁদা আদায় করে এমন অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, অসত্য বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে কোন দালাল বা অন্য কোন অসৎ ব্যক্তি চাঁদা আদায় করতে পারে। ঘটনাটি আমি তদন্ত করে যদি চাঁদা আদায়ের প্রমান পায় তবে সেইসব অসৎ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব। থানার পুলিশ যদি এতে জড়িত থাকে প্রমান পায় তাকেও ছাড় দেয়া হবেনা বলে তিনি জানান। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

সড়কগুলিতে ভৈরব হাইওয়ে পুলিশসহ পৌর টোলের নামে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা   চাঁদাবাজির অভিযোগ।  দেখার কেউ নেই। 

Update Time : ০৩:১৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

১৪ মার্চ, নিজস্ব  প্রতিনিধি

   ঢাকা-সিলেট ও ভৈরব- কিশোরগঞ্জ সড়কে হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ পরিবহন চালকরা। সড়কে হকারদের দোকান বসানোর কারনে প্রতিদিন যানজট লেগেই আছে। অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন যানবাহন ও হকারদের  কাছ থেকে ভৈরব হাইওয়ে থানা পুলিশ মাসোহারা চাঁদা নিয়ে থাকে। ভৈরব- কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে প্রতিদিন ৪/৫ শ সিএনজি চলাচল করে থাকে। এসব  অধিকাংশ  সিএনজি কাগজপত্র সঠিক নেই। একারনে সিএনজির চালকরা নিরাপদে গাড়ী চালাতে হাইওয়ে পুলিশের সাথে দালালের মাধ্যমে মাসিক মাসোহারা চুক্তি করে থাকে বলে গোপন সূত্র জানায়। প্রতিটি সিএনজি থেকে মাসে ৩০০/৪০০ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ভৈরব হাইওয়ে পুলিশ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বেলাব থানা এলাকার মাহমুদাবাদ নামক স্থানে ও ভৈরবের নাটাল মোড়ে প্রতিদিন চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ী তল্লাশীর নামে যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেট কার, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনকে হয়রানী করে এমন অভিযোগ রয়েছে। গাড়ীর কাগজপত্র সঠিক না থাকলে মামলা দেয়ার ভয় দেখিয়ে উৎকোচ আদায় করে। যারা উৎকোচ না দিতে পারে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়। সড়কে অবাধে হকারদের দোকান রয়েছে। এসব দোকানের কারনে সড়কে প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকে। গোপন সূত্র জানায় হকারগন হাইওয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করেই দোকান চালায়। ভৈরব শহরে রেজিস্টেশনহীন শত শত মটরসাইকেল চলাচল করলেও রহস্যজনক কারনে পুলিশ চালকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করেনা। সড়কে দুটি চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশীর নামে অধিকাংশ গাড়ী থেকে চাঁদা আদায় করে বলে একাধিক অভিযোগ আছে। এতে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হয়। হাইওয়ে পুলিশ এভাবে চাঁদা তুললেও দেখার কেউ নেই। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজি চালক জনপদ সংবাদকে  বলেন, গাড়ীর  কাগজপত্র বৈধ – অবৈধ যাই হোক সড়কে নিরাপদে গাড়ী চালাতে আমি মাসিকভাবে ৫০০ টাকা হাইওয়ের পুলিশকে দিয়ে থাকি। তবে টাকাটা দালালের মাধ্যমে দেয়। এমনভাবে একাধিক সিএনজি চালক চাঁদার টাকা দিয়ে থাকে। আবদুর রশিদ নামের এক চালক বলেন, আমরা গরীব মানুষ। সিএনজি চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাই। গাড়ীর কাগজপত্র অনেক সময় সঠিক থাকেনা, তাই পুলিশকে টাকা দিতে হয়। আবার কাগজ সঠিক থাকলেও অনেকে দাঁদা দেয়। কারন পুলিশ যেকোন কারনে চালকদের হয়রানী করতে পারে। 

যাত্রীবাহী বাসের ড্রাইভার রহমত আলী বলেন, হাইওয়ে পুলিশ চেকপোস্টে গাড়ী থামিয়ে তল্লাশীর নামে হয়রানী করে। অনেক সময় পুলিশকে ৪/৫  শ  টাকা দিতে হয়। টাকা দিলেও তারা নিরাপদ থাকে বলে তাদের দাবি।  তবে এসব চাঁদা নেয়ার সকল অভিযোগ হাইওয়ে পুলিশ অস্বীকার করেছে। 

ভৈরব- কিশোরগঞ্জ ও ঢাকা- সিলেট সড়কে প্রতিদিন কিছু কিছু যুবক স্লিপ দিয়ে সিএনজি, অটোরিক্সা থেকে ২০/৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করতে দেখা যায়। জিজ্ঞাসা করলে এসব যুবকরা জানায় পৌরসভার টোলের খাজনার টাকা আদায় করে তারা। জানা গেছে পৌরসভার সীমানার বাইরে গিয়ে  ঢাকা-সিলেট সড়কের  জগনাথপুর ব্রক্ষপুত্র সেতু পর্যন্ত এবং কিশোরগঞ্জ সড়কের উপজেলা পরিষদ অফিস পর্যন্ত পৌর টোল আদায় করে তারা। চালকরা চাঁদার টাকা না দিলে তাদেরকে মারধোর বা হয়রানীর  অভিযোগও রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ এবিষয়টি দেখেও এসব যুবকদেরকে কিছুই বলেনা বা রহস্যজনক কারনে  আইনগত ব্যবস্থা নেয়না। 

এবিষয়ে ভৈরব হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) সুমন কুমার চৌধুরি  জানান, আমি মাত্র এক সপ্তাহ আগে থানায় যোগদান করেছি। কাজেই চাঁদা আদায়সহ দুটি চেকপোস্টের বিষয় আমি অবগত নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশ চাঁদাবাজি করবে আমি বিশ্বাস করিনা। তবে অভিযোগের বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিয়েছি। আমার হাইওয়ে থানার পুলিশ সিএনজি বা যানবাহন থেকে কোনরকম মাসিক বা দৈনিক চাঁদা আদায় করে এমন অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, অসত্য বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে কোন দালাল বা অন্য কোন অসৎ ব্যক্তি চাঁদা আদায় করতে পারে। ঘটনাটি আমি তদন্ত করে যদি চাঁদা আদায়ের প্রমান পায় তবে সেইসব অসৎ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব। থানার পুলিশ যদি এতে জড়িত থাকে প্রমান পায় তাকেও ছাড় দেয়া হবেনা বলে তিনি জানান।