ভৈরবের স্বর্নকার  ব্যবসায়ীর স্বর্ন বিক্রির  ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকা নিয়ে  পুলিশের হাতে  আটক।  ২২  ঘণ্টা পর মুক্ত।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • ৭৯৭ Time View

১৩ মার্চ,  নিজস্ব  প্রতিনিধি

 ভৈরবের স্বর্নকার ব্যবসায়ী ৪৫ ভরি স্বর্ন বিক্রির ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকা নিয়ে নিজ বাসায় যাওয়ার পথে পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে টাকার উৎস ও বৈধ কাগজপত্র দেখালে ২২ ঘন্টা পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০ টায় থানা পুলিশ থেকে  মুক্ত হয়। এই স্বর্ন ব্যবসায়ী হলো ভৈরব বাজারের কথা শিল্পালয় দোকান মালিক সপু দেবনাথ (৩০) । ঘটনায় আটকের সময়  তার সাথে ছিল তারই কর্মচারী শিপন দেবনাথ (২৭) । গত বুধবার রাত ১২ টায় পৌর শহরের রেলওয়ে স্টেশন রোড থেকে টহল পুলিশ দুই  মালিক – কর্মচারীকে  উল্লেখিত টাকাসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তোলপাড়সহ নানা ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। 

আটক হওয়া স্বর্ন ব্যবসায়ীর দোকান ভৈরব শহরের  প্রেসক্লাব রোডে। দুজনের বাসা ভৈরব বাজারে অবস্থিত। 

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, গত বুধবার রাত ১২ টার  দিকে ভৈরব শহরের রেলওয়ে স্টেশন রোডের পৌর কবরস্থানের সামনে টহল পুলিশ চেকপোস্টে তারা দুজনকে  আটক করা হয়। এ সময় তারা ঢাকা- চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ভৈরব রেলস্টেশনে  নেমে রিকশাযোগে ভৈরব বাজারে বাসার  দিকে যাচ্ছিলেন । ঘটনার সময় পুলিশ দুজনের হাতে দুটি ব্যাগ দেখে সন্দেহ হলে তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা টাকার কথা স্বীকার করে। দোকান মালিক সিপু দেবনাথ এসময় পুলিশকে জানায়, তারা স্বর্নের ব্যবসা করে। বুধবার ৪৫ ভরি স্বর্ন ঢাকায় বিক্রি করে নগদ ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকা নিয়ে তারা ট্রেনে  ভৈরবে এসে বাসায় যাচ্ছিল। এসময় মালিক সিপু দেবনাথ পুলিশকে বলেন, তার স্বর্ন ব্যবসার লাইসেন্সসহ সকল বৈধ কাগজপত্র আছে এবং স্বর্ন বিক্রির প্রমানপত্র রয়েছে। তাদের সব কথা শুনার পরও টহল পুলিশ দুজনকে টাকার ব্যাগসহ রাতেই ভৈরব থানায় নিয়ে যায়। এরপর বিষয়টি কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারকেও অবগত করে থানার ওসি। পরে থানায় দুজনকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ ও জেরা করে পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে ভৈরব বাজারের স্বর্ন ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ একাধিক ব্যবসায়ীরা থানায় উপস্থিত হয়। ব্যবসায়ীরা দুজনকে টাকাসহ ছেড়ে দেয়ার দাবি জানায়। ঘটনাটি পুলিশ ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করলেও স্বর্ন ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে পারেনি। ইতিমধ্যই ঘটনার খবর গণমাধ্যম কর্মীরাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জেনে ফেলে। শুরু হয় তোলপাড়। পরে পুলিশ স্বর্নকার ব্যবসায়ীর বৈধ লাইসেন্স ও স্বর্ন বিক্রির বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাই। এসব প্রমানপত্র দেখাতে চলে যায় ২২ ঘন্টা। বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় সকল বৈধ কাগজপত্র পুলিশকে দেখালে গণমাধ্যম কর্মী ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম এবং স্বর্ন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি – সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে আটককৃতদেরসহ ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকা মালিককে ফেরত দেয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১০ টায় টাকাসহ স্বর্ন ব্যবসায়ী পুলিশের হাত থেকে মুক্ত হয়। 

এবিষয়ে স্বর্ন ব্যবসায়ী সিপু দেবনাথ বলেন, গত বুধবার আমি ঢাকায় তাঁতী বাজারে  ৪৫ ভরি স্বর্ন বিক্রির ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকা পাওয়ার পর ব্যাংকের সময় ছিলনা। তাই এটাকা ঢাকাতে ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে পারেনি। ফলে নগদ টাকা নিয়ে রাতে আন্তঃনগর মহানগর ট্রেনে ভৈরবে আসতে রাত ১২ টা বেজে যায়। তখন ভৈরব রেলস্টেশন থেকে বাসায় যাওয়ার সময় পুলিশ আমাকে টাকাসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। টাকার উৎসের কথা বলা হলেও তৎক্ষনাত আমি বৈধতার কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরে বৃহস্পতিবার  সকল বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পর পুলিশ আমাকেসহ টাকা ফেরত দেয়। 

ভৈরব বাজারের স্বর্ন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি স্বপন দেবনাথ জানান, আমরা ব্যবসায়ীরা বৈধ লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করি। কখনও কখনও নানা কারনে নগদ টাকা বহন করতে হয়। স্বর্নের দাম অনেক বেশী, তাই টাকার পরিমান বেশী হয়। সিপু দেবনাথকে টাকাসহ আটকের পর তার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে দেরি হয়। পুলিশকে আমরা অনেকবার অনুরোধ সত্বেও বৈধ কাগজ না দেখানোর কারনে তাদেরকে ছাড়তে ২২ ঘন্টা বিলম্ব করে। 

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি)  আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘টাকার বৈধ উৎসের প্রমাণ পাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের টাকাসহ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা  যাচাই-বাছাই করতেই কিছুটা সময় লেগেছে। 

ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফয়জুল ইসলাম বলেন,  এত বিপুল পরিমান টাকার  বৈধ উৎস যাচাই-বাছাই করতে হয় ।  পুলিশতো তাকে চেনেনা। যাচাই বাছাই করে দেখা যায়  ঢাকার তাঁতীবাজারের বীথি নামক সোনার দোকানে ৪৫ ভরি সোনা বিক্রির টাকা এগুলো। তিনি বলেন, ঘটনার সময় টাকার সঙ্গে স্বর্ন  বিক্রির রসিদ ছিল না। এছাড়া স্বর্ন ব্যবসার বৈধ লাইসেন্স যাছাই করেছি।  বৃহস্পতিবার সকাল  ১১টায় স্বর্ন বিক্রির  রসিদ নিয়ে এলে তা যাচাই-বাছাই করার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে রাত ১০ টার দিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ও ভৈরব বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ীর জিম্মায় আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাদের সাকুল্য   টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভৈরব পৌরসভার সাবেক তিনবারের মেয়র এড, আক্কাছ আর নেই। 

ভৈরবের স্বর্নকার  ব্যবসায়ীর স্বর্ন বিক্রির  ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকা নিয়ে  পুলিশের হাতে  আটক।  ২২  ঘণ্টা পর মুক্ত।

Update Time : ০৮:২৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

১৩ মার্চ,  নিজস্ব  প্রতিনিধি

 ভৈরবের স্বর্নকার ব্যবসায়ী ৪৫ ভরি স্বর্ন বিক্রির ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকা নিয়ে নিজ বাসায় যাওয়ার পথে পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে টাকার উৎস ও বৈধ কাগজপত্র দেখালে ২২ ঘন্টা পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০ টায় থানা পুলিশ থেকে  মুক্ত হয়। এই স্বর্ন ব্যবসায়ী হলো ভৈরব বাজারের কথা শিল্পালয় দোকান মালিক সপু দেবনাথ (৩০) । ঘটনায় আটকের সময়  তার সাথে ছিল তারই কর্মচারী শিপন দেবনাথ (২৭) । গত বুধবার রাত ১২ টায় পৌর শহরের রেলওয়ে স্টেশন রোড থেকে টহল পুলিশ দুই  মালিক – কর্মচারীকে  উল্লেখিত টাকাসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তোলপাড়সহ নানা ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। 

আটক হওয়া স্বর্ন ব্যবসায়ীর দোকান ভৈরব শহরের  প্রেসক্লাব রোডে। দুজনের বাসা ভৈরব বাজারে অবস্থিত। 

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, গত বুধবার রাত ১২ টার  দিকে ভৈরব শহরের রেলওয়ে স্টেশন রোডের পৌর কবরস্থানের সামনে টহল পুলিশ চেকপোস্টে তারা দুজনকে  আটক করা হয়। এ সময় তারা ঢাকা- চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ভৈরব রেলস্টেশনে  নেমে রিকশাযোগে ভৈরব বাজারে বাসার  দিকে যাচ্ছিলেন । ঘটনার সময় পুলিশ দুজনের হাতে দুটি ব্যাগ দেখে সন্দেহ হলে তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা টাকার কথা স্বীকার করে। দোকান মালিক সিপু দেবনাথ এসময় পুলিশকে জানায়, তারা স্বর্নের ব্যবসা করে। বুধবার ৪৫ ভরি স্বর্ন ঢাকায় বিক্রি করে নগদ ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকা নিয়ে তারা ট্রেনে  ভৈরবে এসে বাসায় যাচ্ছিল। এসময় মালিক সিপু দেবনাথ পুলিশকে বলেন, তার স্বর্ন ব্যবসার লাইসেন্সসহ সকল বৈধ কাগজপত্র আছে এবং স্বর্ন বিক্রির প্রমানপত্র রয়েছে। তাদের সব কথা শুনার পরও টহল পুলিশ দুজনকে টাকার ব্যাগসহ রাতেই ভৈরব থানায় নিয়ে যায়। এরপর বিষয়টি কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারকেও অবগত করে থানার ওসি। পরে থানায় দুজনকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ ও জেরা করে পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে ভৈরব বাজারের স্বর্ন ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ একাধিক ব্যবসায়ীরা থানায় উপস্থিত হয়। ব্যবসায়ীরা দুজনকে টাকাসহ ছেড়ে দেয়ার দাবি জানায়। ঘটনাটি পুলিশ ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করলেও স্বর্ন ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে পারেনি। ইতিমধ্যই ঘটনার খবর গণমাধ্যম কর্মীরাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জেনে ফেলে। শুরু হয় তোলপাড়। পরে পুলিশ স্বর্নকার ব্যবসায়ীর বৈধ লাইসেন্স ও স্বর্ন বিক্রির বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাই। এসব প্রমানপত্র দেখাতে চলে যায় ২২ ঘন্টা। বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় সকল বৈধ কাগজপত্র পুলিশকে দেখালে গণমাধ্যম কর্মী ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম এবং স্বর্ন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি – সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে আটককৃতদেরসহ ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকা মালিককে ফেরত দেয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১০ টায় টাকাসহ স্বর্ন ব্যবসায়ী পুলিশের হাত থেকে মুক্ত হয়। 

এবিষয়ে স্বর্ন ব্যবসায়ী সিপু দেবনাথ বলেন, গত বুধবার আমি ঢাকায় তাঁতী বাজারে  ৪৫ ভরি স্বর্ন বিক্রির ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকা পাওয়ার পর ব্যাংকের সময় ছিলনা। তাই এটাকা ঢাকাতে ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে পারেনি। ফলে নগদ টাকা নিয়ে রাতে আন্তঃনগর মহানগর ট্রেনে ভৈরবে আসতে রাত ১২ টা বেজে যায়। তখন ভৈরব রেলস্টেশন থেকে বাসায় যাওয়ার সময় পুলিশ আমাকে টাকাসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। টাকার উৎসের কথা বলা হলেও তৎক্ষনাত আমি বৈধতার কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরে বৃহস্পতিবার  সকল বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পর পুলিশ আমাকেসহ টাকা ফেরত দেয়। 

ভৈরব বাজারের স্বর্ন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি স্বপন দেবনাথ জানান, আমরা ব্যবসায়ীরা বৈধ লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করি। কখনও কখনও নানা কারনে নগদ টাকা বহন করতে হয়। স্বর্নের দাম অনেক বেশী, তাই টাকার পরিমান বেশী হয়। সিপু দেবনাথকে টাকাসহ আটকের পর তার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে দেরি হয়। পুলিশকে আমরা অনেকবার অনুরোধ সত্বেও বৈধ কাগজ না দেখানোর কারনে তাদেরকে ছাড়তে ২২ ঘন্টা বিলম্ব করে। 

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি)  আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘টাকার বৈধ উৎসের প্রমাণ পাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের টাকাসহ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা  যাচাই-বাছাই করতেই কিছুটা সময় লেগেছে। 

ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফয়জুল ইসলাম বলেন,  এত বিপুল পরিমান টাকার  বৈধ উৎস যাচাই-বাছাই করতে হয় ।  পুলিশতো তাকে চেনেনা। যাচাই বাছাই করে দেখা যায়  ঢাকার তাঁতীবাজারের বীথি নামক সোনার দোকানে ৪৫ ভরি সোনা বিক্রির টাকা এগুলো। তিনি বলেন, ঘটনার সময় টাকার সঙ্গে স্বর্ন  বিক্রির রসিদ ছিল না। এছাড়া স্বর্ন ব্যবসার বৈধ লাইসেন্স যাছাই করেছি।  বৃহস্পতিবার সকাল  ১১টায় স্বর্ন বিক্রির  রসিদ নিয়ে এলে তা যাচাই-বাছাই করার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে রাত ১০ টার দিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ও ভৈরব বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ীর জিম্মায় আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাদের সাকুল্য   টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।