ভৈরবে জ্বালানী তেলের সংকট থাকা সত্বেও  দুইদিনে ১০ জেলায় সাড়ে ১২ লাখ লিটার তেল সরবরাহ। বন্ধের দিন তেল সরবরাহ দেয়া হবে। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ১৭২ Time View

১২ মার্চ, নিজস্ব  প্রতিনিধিঃ

ভৈরবে জ্বালানী তেলের সংকট থাকা সত্বেও তিনটি ডিপো থেকে দুইদিনে ১০ জেলায় ১২ লাখ ৬৫ হাজার লিটার তেল সরবরাহ করা হয়েছে। ডিপোগুলি হলো যমুনা, মেঘনা ও পদ্মা ওয়েল কোম্পানী। এর আগে গতকাল বুধবার তেল সরবরাহের দাবিতে স্থানীয় এজেন্ট ডিলারগন অফিস ঘেরাও করেছিল। পরে তাদের দাবির প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ রেশনিং পদ্ধতিতে স্থানীয় ৩০ জন এজেন্ট ডিলারসহ ১০ জেলায় ফিলিং স্টেশন ডিলারদেরকে তেল সরবরাহ করে। 

জানা গেছে, গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার দুইদিনে ভৈরবের যমুনা ওয়েল ডিপো থেকে ৭ লাখ ৩৯ হাজার ৬০০ লিটার, মেঘনা ওয়েল ডিপো থেকে ৪ লাখ ৭৮ হাজার লিটার ও পদ্মা ওয়েল ডিপো থেকে ৪৮ হাজার লিটার তেল ডিলারদেরকে সরবরাহ দেয়া হয়। তার মধ্য ১০ জেলার ফিলিং স্টেশনসহ এজেন্ট ডিলারগনকে তেল সরবরাহ করা হয় বলে ডিপোর ইনচার্জগন জানিয়েছেন। তেলের সংকট দূর করতে  আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার বন্ধের দিনগুলিতে তেল সরবরাহ করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনটি ডিপোতে ২৮ লাখ লিটার তেল মজুত রয়েছে বলে ডিপো ইনচার্জগন জানান। জ্বালানী তেল নিয়ে কোন শংকার কারন নেই, একথা জাননিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। 

এবিষয়ে যমুনা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ মোঃ মতিউর রহমান জানান, আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক তালিকা অনুযায়ী রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করছি। তাদের  ডিপোতে আজ ১৬ লাখ লিটার তেল মজুত আছে। শুক্রবার ও শনিবার ডিপো অফিস খোলা থাকবে। এদুদিন ডিলারদেরকে তেল সরবরাহ করা হবে। তেল নিয়ে হৈ চৈ করতে হবেনা। তেলের কোন সংকট নেই বলে তিনি জানান। 

মেঘনা ওয়েল কোম্পানীর ডিপোর ইনচার্জ মোঃ নাজিম উদ্দিন জানান, আমার ডিপোতে আজ ১০ লাখ লিটার তেল মজুত আছে। সকল ডিলারকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ডিলারগন তাদের চাহিদা আগের তুলনায় বাড়িয়ে দিয়ে অতিরিক্ত তেল নিতে চাই। একারনে রেশনীং করে তেল সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। 

পদ্মা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ মোঃ মোমতাজ বলেন, আমার ডিপো ছোট। তারপরও দুদিনে ৪৮ হাজার লিটার তেল নদীপথে সরবরাহ করা হয়। এসব তেল হাওরে যাবে। আজ মজুত আছে ২ লাখ লিটার তেল। 

ভৈরব জ্বালানী তেল মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ অহিদ মিয়া বলেন, রেশনিং পদ্ধতিতে আমরা তেল পাচ্ছি। বিগত দিনে তিনটি ডিপোর ৭০% তেল আমরা ক্রয় করেছি, কিন্ত এখন পাম্পে তেল সরবরাহ করছে বেশী। আমাদের এজেন্ট ডিলারদেরকে তেল কম দেয়া হচ্ছে। গতকাল বুধবার আমাদেরকে  তেল না দেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। পরে আমাদের দাবির প্রক্ষিতে তেল দিচ্ছে, এতে আমরা আপাতত ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারব। 

ট্যাংকলরি মালিক  সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরা প্রতিদিন তেল চাই। কারন ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ না করলে একদিকে ব্যবসার ক্ষতি , অপরদিকে ১০ জেলায় পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। সামনে ঈদ আসছে, তাই পরিবহন বন্ধ হয়ে গেলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। তিনি বলেন তেল নিয়ে আমরা অসাধু হতে চাইনা। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ভৈরবে জ্বালানী তেলের সংকট থাকা সত্বেও  দুইদিনে ১০ জেলায় সাড়ে ১২ লাখ লিটার তেল সরবরাহ। বন্ধের দিন তেল সরবরাহ দেয়া হবে। 

Update Time : ১১:১৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

১২ মার্চ, নিজস্ব  প্রতিনিধিঃ

ভৈরবে জ্বালানী তেলের সংকট থাকা সত্বেও তিনটি ডিপো থেকে দুইদিনে ১০ জেলায় ১২ লাখ ৬৫ হাজার লিটার তেল সরবরাহ করা হয়েছে। ডিপোগুলি হলো যমুনা, মেঘনা ও পদ্মা ওয়েল কোম্পানী। এর আগে গতকাল বুধবার তেল সরবরাহের দাবিতে স্থানীয় এজেন্ট ডিলারগন অফিস ঘেরাও করেছিল। পরে তাদের দাবির প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ রেশনিং পদ্ধতিতে স্থানীয় ৩০ জন এজেন্ট ডিলারসহ ১০ জেলায় ফিলিং স্টেশন ডিলারদেরকে তেল সরবরাহ করে। 

জানা গেছে, গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার দুইদিনে ভৈরবের যমুনা ওয়েল ডিপো থেকে ৭ লাখ ৩৯ হাজার ৬০০ লিটার, মেঘনা ওয়েল ডিপো থেকে ৪ লাখ ৭৮ হাজার লিটার ও পদ্মা ওয়েল ডিপো থেকে ৪৮ হাজার লিটার তেল ডিলারদেরকে সরবরাহ দেয়া হয়। তার মধ্য ১০ জেলার ফিলিং স্টেশনসহ এজেন্ট ডিলারগনকে তেল সরবরাহ করা হয় বলে ডিপোর ইনচার্জগন জানিয়েছেন। তেলের সংকট দূর করতে  আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার বন্ধের দিনগুলিতে তেল সরবরাহ করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনটি ডিপোতে ২৮ লাখ লিটার তেল মজুত রয়েছে বলে ডিপো ইনচার্জগন জানান। জ্বালানী তেল নিয়ে কোন শংকার কারন নেই, একথা জাননিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। 

এবিষয়ে যমুনা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ মোঃ মতিউর রহমান জানান, আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক তালিকা অনুযায়ী রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করছি। তাদের  ডিপোতে আজ ১৬ লাখ লিটার তেল মজুত আছে। শুক্রবার ও শনিবার ডিপো অফিস খোলা থাকবে। এদুদিন ডিলারদেরকে তেল সরবরাহ করা হবে। তেল নিয়ে হৈ চৈ করতে হবেনা। তেলের কোন সংকট নেই বলে তিনি জানান। 

মেঘনা ওয়েল কোম্পানীর ডিপোর ইনচার্জ মোঃ নাজিম উদ্দিন জানান, আমার ডিপোতে আজ ১০ লাখ লিটার তেল মজুত আছে। সকল ডিলারকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ডিলারগন তাদের চাহিদা আগের তুলনায় বাড়িয়ে দিয়ে অতিরিক্ত তেল নিতে চাই। একারনে রেশনীং করে তেল সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। 

পদ্মা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ মোঃ মোমতাজ বলেন, আমার ডিপো ছোট। তারপরও দুদিনে ৪৮ হাজার লিটার তেল নদীপথে সরবরাহ করা হয়। এসব তেল হাওরে যাবে। আজ মজুত আছে ২ লাখ লিটার তেল। 

ভৈরব জ্বালানী তেল মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ অহিদ মিয়া বলেন, রেশনিং পদ্ধতিতে আমরা তেল পাচ্ছি। বিগত দিনে তিনটি ডিপোর ৭০% তেল আমরা ক্রয় করেছি, কিন্ত এখন পাম্পে তেল সরবরাহ করছে বেশী। আমাদের এজেন্ট ডিলারদেরকে তেল কম দেয়া হচ্ছে। গতকাল বুধবার আমাদেরকে  তেল না দেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। পরে আমাদের দাবির প্রক্ষিতে তেল দিচ্ছে, এতে আমরা আপাতত ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারব। 

ট্যাংকলরি মালিক  সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরা প্রতিদিন তেল চাই। কারন ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ না করলে একদিকে ব্যবসার ক্ষতি , অপরদিকে ১০ জেলায় পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। সামনে ঈদ আসছে, তাই পরিবহন বন্ধ হয়ে গেলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। তিনি বলেন তেল নিয়ে আমরা অসাধু হতে চাইনা।