ভৈরবের তিন ডিপোতে  জ্বালানী তেল সংকট।। তেল পেতে অফিস ঘেরাও করল ডিলারগন।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ১৪০ Time View

১১ মার্চ, নিজস্ব  প্রতিনিধিঃ

ভৈরবের তিনটি ডিপোতে গত চারদিন যাবত  জ্বালানী তেল সংকট দেখা দিয়েছে। গত রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে ডিলারদেরকে তেল দেয়া হচ্ছে। ডিপোগুলি হলো যমুনা, মেঘনা ও পন্মা ওয়েল কোম্পানী। এসব তেল ডিপো থেকে কিশোরগঞ্জসহ  ১০ টি জেলায়  জ্বালানী তেল সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় এজেন্ট ডিলারদেরকে আজ তেল সরবরাহ দেয়া বন্ধ করে দিলে তারা ডিপো অফিস ঘেরাও করে তেল দেয়ার দাবি জানায়। কর্তৃপক্ষ পাম্প মালিকদের ট্যাংকলরিতে তেল সরবরাহ করতে চাইলে এজেন্সি ডিলার সমিতির সদস্যগন  বাধা সৃষ্টি করে। পরে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে ঘটনা অবহিত করলে রেশনিং পদ্ধতিতে এজেন্সি ডিলারদেরকে তেল দিতে রাজী হয় ডিপো কর্তৃপক্ষ। এরপর  আজ বুধবার দুপুর ২ টায় তেল সরবরাহ শুরু হয়। 

জানা গেছে প্রতিদিন ভৈরবের তিনটি তেল ডিপো থেকে ১০ টি জেলায় জ্বালানী তেল সরবরাহ করা হয়। জেলাগুলি হলো কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, নরসিংদি, গাজীপুর, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া, হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম। এসব জেলার এজেন্সি ডিলার ও ফিলিং স্টেশনগুলিতে তেল সরবরাহ করে ডিপো কর্তৃপক্ষ। ইরান – ইজরাইল – যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হলে গত রোববার থেকে ভৈরবে তেল রেশনিং পদ্ধতি চালু করে। প্রথমে দুদিন বিভিন্ন জেলার পাম্পগুলিতে রেশনিংভাবে তেল সরবরাহ দিলেও এজেন্সি ডিলারগনকে তেল দেয়া হয়নি। পরে গতকাল মঙ্গলবার এজেন্সি ডিলারগনকে রেশনিংভাবে তেল দেয়া হলেও আজ বুধবার তাদেরকে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিলে তারা অফিসে গিয়ে হৈ চৈ শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা অফিস ঘেরাও করে। পরে তাদের দাবির মুখে রেশনিংভাবে তেল দিতে রাজী হয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে ভৈরব ডিপো থেকে তেল সরবরাহ নিতে শতাধিক ট্যাংকলরি অপেক্ষমান থাকতে দেখা গেছে। একাধিক ট্যাংকলরি চালক দুইতিনদিন যাবত অপেক্ষমান থেকেও চাহিদার তেল পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে। 

ভৈরব জ্বালানী তেল মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ হোসেন আলী জানান, আমাদের ভৈরবে ৩০ জন এজেন্সি ডিলার রয়েছে যারা সারা বছর ডিপোর মজুতের ৭০% তেলের ক্রেতা। এখন আমাদের চাহিদার  তেল দেয়া হচ্ছেনা। বরং তেল দেয়া বন্ধ রাখতে চায়। বর্তমানে বোরো মৌসুমে সেচের চাহিদার তেল হাওরসহ অন্যান্য স্থানে আমরা সরবরাহ করি। আমাদের তেল না দিলে সেচ কাজ ব্যহত হতে পারে। এতে ফসল উৎপাদনের ক্ষতি হবে। অপরদিকে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে জানান। একারনে আমরা অফিসে যৌক্তিক দাবি জানাচ্ছি। 

ভৈরবের যমুনা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ মোঃ মতিউর রহমান জানান, আমার ডিপোতে আজ ২৬ লাখ লিটার তেল মজুত আছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা রেশনিংভাবে তেল সরবরাহ দিচ্ছি। ফিলিং স্টেশনগুলির গুরুত্ব মনে করে কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের তেল সরবরাহ দিচ্ছে। আজ তাদের দাবি অনুযায়ী এজেন্ট ডিলারদেরকে তেল দেয়া হবে বলে জানান তিনি। 

পন্মা ওয়েল কোম্পানীর এজেন্সি ডিলার মোঃ কবির হোসেন বলেন তিনদিন যাবত আমাকে তেল দিচ্ছেনা। সারা বছর তেল নিলাম কিন্ত এখন তেল পায়না। 

মেঘনা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ মোঃ নাজিম উদ্দিন জানান, গত রোববার থেকে হেড অফিস থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী আমরা তেল সরবরাহ করছি। আমার ডিপোতে আজ প্রায় ১৫ লাখ লিটার তেল মজুত আছে। তবে মজুত তেল রেশনিংভাবে সরবরাহ দিচ্ছি। আগে যারা সারা বছর তেল নেয়নি তারাও এখন অতিরিক্ত তেল নিতে চাই। সবারই চাহিদা বেড়ে গেছে কেন তার প্রশ্ন । একারনে তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। 

পন্মা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ মোঃ মোমতাজ জানান, আমার ডিপো ছোট। মজুত আছে ২ লাখ লিটার। আমি এজেন্সি ডিলারদেরকে রেশনিংএ তেল সরবরাহ করছি। ট্যাংকলরিতে তেল দেয়ার সুযোগ নেই আমার। কারন আমার ডিপো নদীতে অবস্থিত। 

এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম মামুনুর রশীদ জানান, ডিপোতে তেল সংকট ও সরবরাহ নিয়ে জটিলতার খবর পেয়ে আমি এবিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে ফোনে কথা বলি। এজেন্সি ডিলারগন যাতে তেল পায় সেই ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করার পর কর্তৃপক্ষ সম্মতি দেন। এখন আপাতত সমস্যা সমাধান হয়েছে। আজ পাম্প মালিকসহ এজেন্ট ডিলারগন সবাইকে তেল সরবরাহ করা হবে। এই নির্দেশনা আমি ডিপো ইনচার্জদেরকে জানিয়ে দিয়েছি। এই সংকটময় মূহর্তে সবাইকে ধৈর্য ধারন করার অনুরোধ করেন তিনি। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ভৈরবের তিন ডিপোতে  জ্বালানী তেল সংকট।। তেল পেতে অফিস ঘেরাও করল ডিলারগন।

Update Time : ১১:৫৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

১১ মার্চ, নিজস্ব  প্রতিনিধিঃ

ভৈরবের তিনটি ডিপোতে গত চারদিন যাবত  জ্বালানী তেল সংকট দেখা দিয়েছে। গত রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে ডিলারদেরকে তেল দেয়া হচ্ছে। ডিপোগুলি হলো যমুনা, মেঘনা ও পন্মা ওয়েল কোম্পানী। এসব তেল ডিপো থেকে কিশোরগঞ্জসহ  ১০ টি জেলায়  জ্বালানী তেল সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় এজেন্ট ডিলারদেরকে আজ তেল সরবরাহ দেয়া বন্ধ করে দিলে তারা ডিপো অফিস ঘেরাও করে তেল দেয়ার দাবি জানায়। কর্তৃপক্ষ পাম্প মালিকদের ট্যাংকলরিতে তেল সরবরাহ করতে চাইলে এজেন্সি ডিলার সমিতির সদস্যগন  বাধা সৃষ্টি করে। পরে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে ঘটনা অবহিত করলে রেশনিং পদ্ধতিতে এজেন্সি ডিলারদেরকে তেল দিতে রাজী হয় ডিপো কর্তৃপক্ষ। এরপর  আজ বুধবার দুপুর ২ টায় তেল সরবরাহ শুরু হয়। 

জানা গেছে প্রতিদিন ভৈরবের তিনটি তেল ডিপো থেকে ১০ টি জেলায় জ্বালানী তেল সরবরাহ করা হয়। জেলাগুলি হলো কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, নরসিংদি, গাজীপুর, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া, হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম। এসব জেলার এজেন্সি ডিলার ও ফিলিং স্টেশনগুলিতে তেল সরবরাহ করে ডিপো কর্তৃপক্ষ। ইরান – ইজরাইল – যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হলে গত রোববার থেকে ভৈরবে তেল রেশনিং পদ্ধতি চালু করে। প্রথমে দুদিন বিভিন্ন জেলার পাম্পগুলিতে রেশনিংভাবে তেল সরবরাহ দিলেও এজেন্সি ডিলারগনকে তেল দেয়া হয়নি। পরে গতকাল মঙ্গলবার এজেন্সি ডিলারগনকে রেশনিংভাবে তেল দেয়া হলেও আজ বুধবার তাদেরকে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিলে তারা অফিসে গিয়ে হৈ চৈ শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা অফিস ঘেরাও করে। পরে তাদের দাবির মুখে রেশনিংভাবে তেল দিতে রাজী হয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে ভৈরব ডিপো থেকে তেল সরবরাহ নিতে শতাধিক ট্যাংকলরি অপেক্ষমান থাকতে দেখা গেছে। একাধিক ট্যাংকলরি চালক দুইতিনদিন যাবত অপেক্ষমান থেকেও চাহিদার তেল পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে। 

ভৈরব জ্বালানী তেল মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ হোসেন আলী জানান, আমাদের ভৈরবে ৩০ জন এজেন্সি ডিলার রয়েছে যারা সারা বছর ডিপোর মজুতের ৭০% তেলের ক্রেতা। এখন আমাদের চাহিদার  তেল দেয়া হচ্ছেনা। বরং তেল দেয়া বন্ধ রাখতে চায়। বর্তমানে বোরো মৌসুমে সেচের চাহিদার তেল হাওরসহ অন্যান্য স্থানে আমরা সরবরাহ করি। আমাদের তেল না দিলে সেচ কাজ ব্যহত হতে পারে। এতে ফসল উৎপাদনের ক্ষতি হবে। অপরদিকে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে জানান। একারনে আমরা অফিসে যৌক্তিক দাবি জানাচ্ছি। 

ভৈরবের যমুনা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ মোঃ মতিউর রহমান জানান, আমার ডিপোতে আজ ২৬ লাখ লিটার তেল মজুত আছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা রেশনিংভাবে তেল সরবরাহ দিচ্ছি। ফিলিং স্টেশনগুলির গুরুত্ব মনে করে কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের তেল সরবরাহ দিচ্ছে। আজ তাদের দাবি অনুযায়ী এজেন্ট ডিলারদেরকে তেল দেয়া হবে বলে জানান তিনি। 

পন্মা ওয়েল কোম্পানীর এজেন্সি ডিলার মোঃ কবির হোসেন বলেন তিনদিন যাবত আমাকে তেল দিচ্ছেনা। সারা বছর তেল নিলাম কিন্ত এখন তেল পায়না। 

মেঘনা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ মোঃ নাজিম উদ্দিন জানান, গত রোববার থেকে হেড অফিস থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী আমরা তেল সরবরাহ করছি। আমার ডিপোতে আজ প্রায় ১৫ লাখ লিটার তেল মজুত আছে। তবে মজুত তেল রেশনিংভাবে সরবরাহ দিচ্ছি। আগে যারা সারা বছর তেল নেয়নি তারাও এখন অতিরিক্ত তেল নিতে চাই। সবারই চাহিদা বেড়ে গেছে কেন তার প্রশ্ন । একারনে তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। 

পন্মা ওয়েল কোম্পানীর ডিপো ইনচার্জ মোঃ মোমতাজ জানান, আমার ডিপো ছোট। মজুত আছে ২ লাখ লিটার। আমি এজেন্সি ডিলারদেরকে রেশনিংএ তেল সরবরাহ করছি। ট্যাংকলরিতে তেল দেয়ার সুযোগ নেই আমার। কারন আমার ডিপো নদীতে অবস্থিত। 

এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম মামুনুর রশীদ জানান, ডিপোতে তেল সংকট ও সরবরাহ নিয়ে জটিলতার খবর পেয়ে আমি এবিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে ফোনে কথা বলি। এজেন্সি ডিলারগন যাতে তেল পায় সেই ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করার পর কর্তৃপক্ষ সম্মতি দেন। এখন আপাতত সমস্যা সমাধান হয়েছে। আজ পাম্প মালিকসহ এজেন্ট ডিলারগন সবাইকে তেল সরবরাহ করা হবে। এই নির্দেশনা আমি ডিপো ইনচার্জদেরকে জানিয়ে দিয়েছি। এই সংকটময় মূহর্তে সবাইকে ধৈর্য ধারন করার অনুরোধ করেন তিনি।