ভৈরবে শিক্ষার্থী খুনের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ ২ জন গ্রেফতার। হত্যার রহস্য উদঘাটন।।  

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৯৪ Time View

২ ফেব্রুয়ারি, নিজস্ব  প্রতিনিধি

 ভৈরবে রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে মেধাবী কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান ওরফে শাহ আলম (২১) নিহতের ঘটনায় প্রধান আসামীসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। 

গতকাল রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে  অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার  করা হয়। দুইজনকে গ্রেফতার  করার পর হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। 

গ্রেফতারকৃতরা  হলেন,ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামের মুর্শেদ মিয়ার ছেলে মিরাজ মিয়া (২৫), ভৈরব শহরের পঞ্চবটি এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম (২৪)।

এর আগে গত শনিবার রাতে নিহতের বাবা আবু তাহের বাদী হয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি  মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের একদিন পর পুলিশ দুই আসামীকে আটক করল। 

​নিহত আবু সুফিয়ান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াল ইউনিয়নের ভাদেকুরিয়াল গ্রামের অটোচালক আবু তাহেরের একমাত্র ছেলে। সে ঢাকার পল্লবী সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সুফিয়ান ছিল বড়। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ফুফার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল সুফিয়ান। সন্ধ্যা ৬:৪০ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সে আন্তঃনগর এগারসিন্ধু এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠে এবং মুঠোফোনে মাকে বাড়িতে আসার খবর জানায়।

​রাত ১২টা পার হয়ে গেলেও সে বাড়িতে না পৌঁছানোয় পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। ওই সময় থেকে তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের নিকটবর্তী নিউটাউন এলাকার সংলগ্ন রেললাইনের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে পিবিআইয়ের মাধ্যমে তার  পরিচয় শনাক্ত হয়। 

​উদ্ধারের সময় লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরদিন শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নিহতের হাতের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডারের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করে। পরে খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা মরদেহটি সুফিয়ানের বলে নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ জানান, গত ২৯  জানুয়ারি বৃহস্পতিবার  রাতে ষ্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারীর চক্রের কবলে পড়ে কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান নামের এক কিশোর নিহত হয়। এই ঘটনার তিনদিনের  মধ্য মূ্ল অপরাধীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধী মিরাজ হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়েই আবু সুফিয়ান খুন হয়। গ্রেফতারকৃত মিরাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপরাধের ১৪ টি মামলা আছে। ঘটনায় জড়িত অপর আসামীদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানান তিনি। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ভৈরবে শিক্ষার্থী খুনের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ ২ জন গ্রেফতার। হত্যার রহস্য উদঘাটন।।  

Update Time : ০৯:৪৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২ ফেব্রুয়ারি, নিজস্ব  প্রতিনিধি

 ভৈরবে রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে মেধাবী কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান ওরফে শাহ আলম (২১) নিহতের ঘটনায় প্রধান আসামীসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। 

গতকাল রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে  অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার  করা হয়। দুইজনকে গ্রেফতার  করার পর হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। 

গ্রেফতারকৃতরা  হলেন,ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামের মুর্শেদ মিয়ার ছেলে মিরাজ মিয়া (২৫), ভৈরব শহরের পঞ্চবটি এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম (২৪)।

এর আগে গত শনিবার রাতে নিহতের বাবা আবু তাহের বাদী হয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি  মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের একদিন পর পুলিশ দুই আসামীকে আটক করল। 

​নিহত আবু সুফিয়ান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াল ইউনিয়নের ভাদেকুরিয়াল গ্রামের অটোচালক আবু তাহেরের একমাত্র ছেলে। সে ঢাকার পল্লবী সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সুফিয়ান ছিল বড়। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ফুফার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল সুফিয়ান। সন্ধ্যা ৬:৪০ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সে আন্তঃনগর এগারসিন্ধু এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠে এবং মুঠোফোনে মাকে বাড়িতে আসার খবর জানায়।

​রাত ১২টা পার হয়ে গেলেও সে বাড়িতে না পৌঁছানোয় পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। ওই সময় থেকে তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের নিকটবর্তী নিউটাউন এলাকার সংলগ্ন রেললাইনের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে পিবিআইয়ের মাধ্যমে তার  পরিচয় শনাক্ত হয়। 

​উদ্ধারের সময় লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরদিন শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নিহতের হাতের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডারের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করে। পরে খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা মরদেহটি সুফিয়ানের বলে নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ জানান, গত ২৯  জানুয়ারি বৃহস্পতিবার  রাতে ষ্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারীর চক্রের কবলে পড়ে কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান নামের এক কিশোর নিহত হয়। এই ঘটনার তিনদিনের  মধ্য মূ্ল অপরাধীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধী মিরাজ হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়েই আবু সুফিয়ান খুন হয়। গ্রেফতারকৃত মিরাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপরাধের ১৪ টি মামলা আছে। ঘটনায় জড়িত অপর আসামীদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।