১৫ জানুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধি
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর-তামাবিল অংশে ৪ (চার) লেনে উন্নীতকরণ ও উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি ও অবকাঠামোর মূল্য বর্তমান বাজারদরে প্রদানের দাবিতে ভৈরবে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় ভূমি মালিকরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব বাসস্ট্যান্ড দুর্জয়মোড় এলাকায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচীতে ভৈরবপুর, কমলপুর, লক্ষ্মীপুর মৌজার বসবাসকারি কয়েকশ ভূমি ও স্থাপনার মালিক এবং তাদের পরিবারের নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করেন।

এই সময় তারা দাবি করেন, উল্লেখিত এলাকাগুলির ভূমি, অবকাঠামো ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মূল্য বর্তমান বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্য না রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ক্ষতি পূরণের টাকা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের বসবাসের ভিটা, অবকাঠানো ও প্রতিষ্ঠানের চার ভাগের এক ভাগও তৈরি করতে পারবেন না। ফলে এই শত শত পরিবার অদূর ভবিষ্যতে ভিটে ও কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হবেন।
তাই তারা সরকার কর্তৃক ঘোষিত বর্তমান মূল্য পরিবর্তন করে, বাজারদর বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভূমির মূল্য পূণনির্ধাণের দাবি জানান।
তারা এ সময় হুশিয়ারি দিয়ে জানান, যদি তাদের ন্যায্য দাবি না মানা হয়, তবে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে কাফনের কাপড় পরে এই মহাসড়কে আমরণ অনশনে নামতে বাধ্য হবেন এবং দাবির পক্ষে আগামী সোমবার একই স্থানে অবস্থান কর্মসূচী ঘোষণা করেন তারা।
পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারক লিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপি পাওয়ার কথা ইউএনও কে এম মামুনুর রশীদ স্বীকার করেন।
এবিষয়ে ভৈরবপুর এলাকার ভূমি মালিক আবদুল মালেক বলেন, আমার বাড়ীর বর্তমান ভূমির মূল্য প্রতি শতক ৫০ লাখ টাকা, সেখানে ভূমি অধিগ্রহনে মূল্য ধরা হয় ১৩ লাখ টাকা। এটাকা পেলে আমি নতুন করে ভূমি কিনতে পারবনা। পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে। আরেক ভূমি মালিক আবদুর রউফ একই কথা বলেন। সাজ্জাদ হোসেন নামের এক ভূমি মালিক বলেন, স্থানীয় সাব-রেজিষ্টার অফিসে এক বছর রেজিঃ দলিল মূল্য দেখে গড় করে ভূমির দাম নির্ধারণ করে কর্তৃপক্ষ। কেউ যদি বেশী দামে ভূমি বিক্রি করে কম মূল্যে রেজিঃ করে এটা আমরা কি করব। আমরাতো আমাদের ভূমি কখনই বিক্রি করি নাই। হানিফ মিয়া নামের এক ভূমি মালিক বলেন, আমরা ন্যয্য মূল্য না পেলে বাড়ীঘর ছাড়বনা। প্রয়োজনে কা্ফনের কাপড় পরে রাস্তায় আন্দোলন করব। আরেক স্থাপনা মালিক বলেন, আমার বিশাল দোকানের ক্ষতিপূরণ পাব ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অথচ আমি স্থাপনার ক্ষতিগ্রস্থ হব ৩০ লাখ টাকা।
এবিষয়ে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) মোঃ নাহিদ হাসান খান জানান, ভূমি হুকুম দখল আইন অনুযায়ী, সরকার স্থানীয় জমি এক বছরের বিক্রির গড় মূল্য দেখে জমির দাম নির্ধারণ করেন। এখানে ভূমি মালিকদের দাবি আইন অনুযায়ী চলবেনা। আর স্থাপনার দাম নির্ধারণ করে থাকে পি ডব্লিউ। তারা সরজমিনে তদন্ত করেই মূল্য নির্ধারণ করেছে। এখন সকল তদন্ত করার পর ভূমি অধিগ্রহনের ৮ ধারা অনুযায়ী ভূমির ক্ষতিগ্রস্থদের মূল্যের বিল পরিশোধের চেক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রেডি হয়ে গেছে। এতদিন কিছু না বলে এখন তারা আন্দোলন বিক্ষোভ সমাবেশ করলেও আমাদের কিছুই করার নেই বলে তিনি জানান।
Reporter Name 









