উচ্চ আদালতের  নির্দেশে  ভৈরবে ওয়ার্কশপে হাত হারানো শিশুর ক্ষতিপূরণের আংশিক   টাকা  পরিশোধ করল আসামী পক্ষ। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮৪ Time View

১২ জানুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধি

ভৈরবে ওয়ার্কশপের মেশিনে হাত হারানো শিশু নাঈম হাসান নাহিদের (১০)  ক্ষতিপূরণের আংশিক ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করল আসামী পক্ষ। আরও বাকী ২৩ লাখ টাকা আগামী ২৬ জানুয়ারি পরিশোধ করার হলফনামা দেয়া হয়েছে আদালতে। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি)  দুপুরে সুপ্রীমকোর্টের প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরির  নেতৃত্বাধীন ৪  সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত  সুপ্রীম কোর্টের বেঞ্চে মামলার শুনানীকালে আসামী পক্ষ এই ক্ষতিপূরণের টাকার একটি চেক প্রদান করেন। আদালতে  বেঞ্চের অন্যান্য বিচারকগন ছিলেন বিচারপতি  এমডি রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি সারাহ মাহাবুব। এর আগে গত ৮ জানুয়ারি সুপ্রীমকোর্টের একই বেঞ্চ আসামী পক্ষকে ক্ষতিপূরনের পাওনা ২৮ লাখ টাকা ৫ দিনের মধ্য পরিশোধ করতে আদেশ দিয়েছিলেন। ৫ দিন পর  আজ সোমবার মামলাটি শুনানীর ধার্য তারিখ ছিল। 

২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভৈরবের ইয়াকুব ওয়ার্কশপে জোর করে শিশু নাহিদকে মেশিনে কাজ করাতে গিয়ে তার ডান হাত কব্জি পর্যন্ত কেটে যায়। পরে শিশুটির বাবা নিয়ামুল আনোয়ার ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরন দাবি করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন মামলা দায়ের করে। 

মামলাটি দীর্ঘদিন চলার পর  ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজি জিনাত হক এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের আদেশে বলা হয়েছিল ওই বছরের এপ্রিল মাসের মধ্য ১০ বছর মেয়াদী ১৫ লাখ টাকা ও ডিসেম্বর মাসের মধ্য ১৫ লাখ টাকার ব্যাংক এফডিআর করে দিতে হবে শিশু নাহিদের নামে। একই সঙ্গে শিশুর লেখাপড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত খরচ  বাবদ প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা তার ব্যাংক হিসেবে আসামী পক্ষ জমা দিতে হবে। 

এই আদেশের পর ওয়ার্কশপ মালিক ইয়াকুব আলী আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রীমকোর্টে আপীল করলে সুপ্রীমকোর্ট শুনানী শেষে হাইকোর্টের আদেশটি বহাল রাখে। এরপর আসামী পক্ষ আদালতের আদেশ অমান্য করে ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করতে গড়িমসি করতে থাকে। 

পরবর্তীতে শিশুটির বাবা ও মামলার বাদী নিয়ামুল আনোয়ার ক্ষতিপূরনের টাকা না পেয়ে সুপ্রীমকোর্ট আদালতে চলতি বছরের মে মাসে  আদালত  অবমাননার ( কন্টিমপ্ট অফ কোর্ট) একটি পিটিশন দাখিল করে। তার পিটিশনটি তখন শুনানী হলে আদালত ৮ মে-২৫  তারিখে ক্ষতিপূরণের  ১০ লাখ টাকা এবং ১৩ মে তারিখের মধ্য বাকী সব টাকা পরিশোশোধের আদেশ দেন। আসামী পক্ষ ৮ মে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও বাকী টাকা এখনও পর্যন্ত পরিশোধ না করে তালবাহানা করতে থাকে। 

তারপর আদালত অবমাননার  এই মামলাটির ধার্য তারিখ গত ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সুপ্রীমকোর্টে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চে শুনানী হয়। শুনানী শেষে আদালত আদেশ দেন আগামী ৫ দিনের মধ্য ( আগামী ১২ জানুয়ারি-২৫) আসামী পক্ষ ক্ষতিপূরণের বাকী পাওনা লেখাপড়া খরচসহ একসাথে ২৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে। এদিন বাদী পক্ষে শুনানীতে অংশ নেন ব্যারিস্টার ওমর ফারুক এবং আসামী পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার নিপুন। 

আদেশের ৫ দিন পর আজ সোমবার ধার্য তারিখে মামলাটি শুনানীকালে ওয়ার্কশপ মালিক ইয়াকুব আলী ক্ষতিপূরনের পুরা টাকা যোগার করতে না পেরে ৫ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক দিয়ে আবারও সময়ের প্রার্থনা করেন। এসময় আদালত আগামী ২৬ জানুয়ারি তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। উক্ত তারিখের মধ্য বাকী পাওনা টাকা পরিশোধ করতে এক আদেশ দিয়েছেন বলে বাদী পক্ষের আইনজীবি ব্যারিস্টার ওমর ফারুক যুগান্তরকে তথ্য নিশ্বিত করেছেন। 

এবিষয়ে আজ শনিবার সকালে শিশুটির বাবা নিয়ামুল আনোয়ার বলেন, ওয়ার্কশপ মালিক ইয়াকুব আলী আমার ছেলের জীবনটি ধ্বংস করে দিয়েছে। ঘটনার দিন তাকে জোর করে মেশিন চালানোের কাজ করাতে গিয়েই দূর্ঘটনাটি ঘটে। এরপর আমি ৫ বছর যাবত মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থসহ ব্যবসা- বানিজ্য শেষ হয়ে গেছে। আমার পরিবার নিয়ে আজ আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘূরলেও মালিক ইয়াকুব আলী আদালতের আদেশ অমান্য করে যাচ্ছে।

এব্যাপারে আজ সোমবার  বাদী পক্ষের আইনজীবি ব্যারিস্টার ওমর ফারুক আদালতের আদেশের বিষয়টি মোবাইলে  যুগান্তর প্রতিনিধির কাছে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মানবিক কারনে আমি তার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছি। এটা ছিল Contempt Of Court মামলা। গত বৃহস্পতিবার ( ৮ জানুয়ারি) আমি মামলাটি শুনানী করলে সুপ্রীমকোর্ট আদালতের প্রধান বিচারপতিসহ ফুল বেঞ্চের বিচারকগন ৫ দিনের মধ্য আসামী পক্ষকে ক্ষতিপূরণের সব টাকা পরিশোধের আদেশ দিয়েছিলেন। আজ  আসামী পক্ষ ৫ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক দিয়ে আবারও সময় চাইলে  আদালত আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্য ক্ষতিপূরণের বাকী পাওনা টাকা পরিশোধের আদেশ দেন। বাদী পক্ষে আজ ব্যারিস্টার ওমর ফারুক ও   আসামী পক্ষে শুনানীতে ছিলেন  আইনজীবি নিপুন। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

উচ্চ আদালতের  নির্দেশে  ভৈরবে ওয়ার্কশপে হাত হারানো শিশুর ক্ষতিপূরণের আংশিক   টাকা  পরিশোধ করল আসামী পক্ষ। 

Update Time : ০২:০৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

১২ জানুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধি

ভৈরবে ওয়ার্কশপের মেশিনে হাত হারানো শিশু নাঈম হাসান নাহিদের (১০)  ক্ষতিপূরণের আংশিক ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করল আসামী পক্ষ। আরও বাকী ২৩ লাখ টাকা আগামী ২৬ জানুয়ারি পরিশোধ করার হলফনামা দেয়া হয়েছে আদালতে। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি)  দুপুরে সুপ্রীমকোর্টের প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরির  নেতৃত্বাধীন ৪  সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত  সুপ্রীম কোর্টের বেঞ্চে মামলার শুনানীকালে আসামী পক্ষ এই ক্ষতিপূরণের টাকার একটি চেক প্রদান করেন। আদালতে  বেঞ্চের অন্যান্য বিচারকগন ছিলেন বিচারপতি  এমডি রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি সারাহ মাহাবুব। এর আগে গত ৮ জানুয়ারি সুপ্রীমকোর্টের একই বেঞ্চ আসামী পক্ষকে ক্ষতিপূরনের পাওনা ২৮ লাখ টাকা ৫ দিনের মধ্য পরিশোধ করতে আদেশ দিয়েছিলেন। ৫ দিন পর  আজ সোমবার মামলাটি শুনানীর ধার্য তারিখ ছিল। 

২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভৈরবের ইয়াকুব ওয়ার্কশপে জোর করে শিশু নাহিদকে মেশিনে কাজ করাতে গিয়ে তার ডান হাত কব্জি পর্যন্ত কেটে যায়। পরে শিশুটির বাবা নিয়ামুল আনোয়ার ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরন দাবি করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন মামলা দায়ের করে। 

মামলাটি দীর্ঘদিন চলার পর  ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজি জিনাত হক এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের আদেশে বলা হয়েছিল ওই বছরের এপ্রিল মাসের মধ্য ১০ বছর মেয়াদী ১৫ লাখ টাকা ও ডিসেম্বর মাসের মধ্য ১৫ লাখ টাকার ব্যাংক এফডিআর করে দিতে হবে শিশু নাহিদের নামে। একই সঙ্গে শিশুর লেখাপড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত খরচ  বাবদ প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা তার ব্যাংক হিসেবে আসামী পক্ষ জমা দিতে হবে। 

এই আদেশের পর ওয়ার্কশপ মালিক ইয়াকুব আলী আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রীমকোর্টে আপীল করলে সুপ্রীমকোর্ট শুনানী শেষে হাইকোর্টের আদেশটি বহাল রাখে। এরপর আসামী পক্ষ আদালতের আদেশ অমান্য করে ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করতে গড়িমসি করতে থাকে। 

পরবর্তীতে শিশুটির বাবা ও মামলার বাদী নিয়ামুল আনোয়ার ক্ষতিপূরনের টাকা না পেয়ে সুপ্রীমকোর্ট আদালতে চলতি বছরের মে মাসে  আদালত  অবমাননার ( কন্টিমপ্ট অফ কোর্ট) একটি পিটিশন দাখিল করে। তার পিটিশনটি তখন শুনানী হলে আদালত ৮ মে-২৫  তারিখে ক্ষতিপূরণের  ১০ লাখ টাকা এবং ১৩ মে তারিখের মধ্য বাকী সব টাকা পরিশোশোধের আদেশ দেন। আসামী পক্ষ ৮ মে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও বাকী টাকা এখনও পর্যন্ত পরিশোধ না করে তালবাহানা করতে থাকে। 

তারপর আদালত অবমাননার  এই মামলাটির ধার্য তারিখ গত ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সুপ্রীমকোর্টে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চে শুনানী হয়। শুনানী শেষে আদালত আদেশ দেন আগামী ৫ দিনের মধ্য ( আগামী ১২ জানুয়ারি-২৫) আসামী পক্ষ ক্ষতিপূরণের বাকী পাওনা লেখাপড়া খরচসহ একসাথে ২৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে। এদিন বাদী পক্ষে শুনানীতে অংশ নেন ব্যারিস্টার ওমর ফারুক এবং আসামী পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার নিপুন। 

আদেশের ৫ দিন পর আজ সোমবার ধার্য তারিখে মামলাটি শুনানীকালে ওয়ার্কশপ মালিক ইয়াকুব আলী ক্ষতিপূরনের পুরা টাকা যোগার করতে না পেরে ৫ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক দিয়ে আবারও সময়ের প্রার্থনা করেন। এসময় আদালত আগামী ২৬ জানুয়ারি তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। উক্ত তারিখের মধ্য বাকী পাওনা টাকা পরিশোধ করতে এক আদেশ দিয়েছেন বলে বাদী পক্ষের আইনজীবি ব্যারিস্টার ওমর ফারুক যুগান্তরকে তথ্য নিশ্বিত করেছেন। 

এবিষয়ে আজ শনিবার সকালে শিশুটির বাবা নিয়ামুল আনোয়ার বলেন, ওয়ার্কশপ মালিক ইয়াকুব আলী আমার ছেলের জীবনটি ধ্বংস করে দিয়েছে। ঘটনার দিন তাকে জোর করে মেশিন চালানোের কাজ করাতে গিয়েই দূর্ঘটনাটি ঘটে। এরপর আমি ৫ বছর যাবত মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থসহ ব্যবসা- বানিজ্য শেষ হয়ে গেছে। আমার পরিবার নিয়ে আজ আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘূরলেও মালিক ইয়াকুব আলী আদালতের আদেশ অমান্য করে যাচ্ছে।

এব্যাপারে আজ সোমবার  বাদী পক্ষের আইনজীবি ব্যারিস্টার ওমর ফারুক আদালতের আদেশের বিষয়টি মোবাইলে  যুগান্তর প্রতিনিধির কাছে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মানবিক কারনে আমি তার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছি। এটা ছিল Contempt Of Court মামলা। গত বৃহস্পতিবার ( ৮ জানুয়ারি) আমি মামলাটি শুনানী করলে সুপ্রীমকোর্ট আদালতের প্রধান বিচারপতিসহ ফুল বেঞ্চের বিচারকগন ৫ দিনের মধ্য আসামী পক্ষকে ক্ষতিপূরণের সব টাকা পরিশোধের আদেশ দিয়েছিলেন। আজ  আসামী পক্ষ ৫ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক দিয়ে আবারও সময় চাইলে  আদালত আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্য ক্ষতিপূরণের বাকী পাওনা টাকা পরিশোধের আদেশ দেন। বাদী পক্ষে আজ ব্যারিস্টার ওমর ফারুক ও   আসামী পক্ষে শুনানীতে ছিলেন  আইনজীবি নিপুন।