ভৈরবে এলপি গ্যাস সংকটে দূর্ভোগ গ্রাহকদের। বাড়তি দাম দিয়েও মিলছেনা  চাহিদার গ্যাস।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৪০ Time View

১১ জানুয়ারি, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরবে এলপি গ্যাস সংকটে দূর্ভোগ গ্রাহকদের। বাড়তি দাম দিয়েও মিলছেনা চাহিদার গ্যাস। বাসা রেস্তোরার মালিকরা রান্না করতে চাহিদার গ্যাস কিনতে ডিলারদের দোকানে দোকানে ঘূরছে কিন্ত স্থানীয় সকল ডিলার মালিক বলছে তাদেরকে গত দুই সপ্তাহ যাবত কোম্পানীগুলি এলপি গ্যাস সরবরাহ দিচ্ছেনা। সকল ডিলারের মজুত এখন শূন্য। আবার সাব ডিলারগন তাদের গুদামে গোপনে মজুত করে প্রতিটি সিলিন্ডার এলপি গ্যাস ২ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ২ শ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ বাড়তি টাকা দিলেই কিছু কিছু বিক্রেতা গোপন গুদাম থেকে বের করে বিক্রি করছে গ্যাস। গ্রাহকরা জানান গত দুই সপ্তাহ আগে ভৈরব শহরে প্রতিটি সিলিন্ডার এলপি গ্যাস ১২৫০ টাকা থেকে ১৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ডিলারদের বক্তব্য তারা বাড়তি দামে কোন গ্যাস বিক্রি করছেনা। সাব ডিলার বা খুচরা দোকানদারগনের কাছে আগেই মজুত করা গ্যাস তারা অতিগোপনে  অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বলা যায় ভৈরবে এলপি গ্যাসের হাহাকার চলছে। ফলে গ্রাহকরা এলপি গ্যাসের সংকটে  চরম দূর্ভোগে পোহাচ্ছে। 

এবিষয়ে ভৈরব শহরের আদিয়ান রেস্টুরেন্ট মালিক মোঃ কাজল মিয়া বলেন, আমার রেস্টুরেন্টে সপ্তাহে দুটি, মাসে ৮ টি সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করি। দুই সপ্তাহ আগেও প্রতিটি এলপি গ্যাস ১৩৫০ টাকায় কিনতাম কিন্ত এখন বাড়তি দাম ২০০০/ ২২০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ডিলারগন বলছে সরবরাহ পাচ্ছেনা, তাই গ্যাস নেই। আরেক চায়ের দোকানদার নিজামুল একই কথা বলেন। তিনি বলেন আমরা তৈরি পণ্য বেশী দামে বিক্রি করতে পারছিনা। অথচ জ্বালানীর এলপি গ্যাস প্রতিটি ৭০০/৮০০ টাকা বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে পণ্য বিক্রিতে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এব্যাপারে সরকারের কোন মাথাব্যথা নেই তার দাবি। আগের সরকারের আমলে এলপি গ্যাস নিয়ে এত সংকট ছিলনা বলে তিনি জানান। 

শহরের বাসার মালিক আবদুর রশিদ বলেন, আমি স্বল্প আয়ের মানুষ, বাসায় এলপি গ্যাস ব্যবহার করি। দুই সপ্তাহ যাবত বাজারে গ্যাস না পেয়ে রান্নাবান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কোন দোকানে গ্যাস পাচ্ছেনা তার দাবি। গ্রাম থেকে আসা জমির হোসেন আজ রোববার বাজারে এসে কোথাও গ্যাসের সিলিন্ডার না পেয়ে হতাশ। তিনি বলেন গ্যাস না পেয়ে দুদিন যাবত লাকড়ির চুলায় রান্না করছেন। 

আবুল হোসেন নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ৭০০ টাকা বাড়তি দিয়ে ২০০০ টাকায় একটি সিলিন্ডার কিনেছি এক দোকানীর কাছ থেকে। শর্ত ছিল বাড়তি টাকার কথা বলা যাবেনা। 

স্থানীয় এলপি গ্যাস পদ্মা কোম্পানীর ডিলার মোঃ খলিলুর রহমান জানান, আমরা কোম্পানীতে আগে টাকা জমা দিয়েও দুই সপ্তাহ যাবত গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছিনা। তিনি বলেন আমার কাছে কোন মজুত নেই। বাড়তি দামে কারা গ্যাস বিক্রি করছে তা আমি জানিনা। কোম্পানী সাপ্লাই না দিলে আমরা কি করে গ্যাস বিক্রি করব। 

আরেক ডিলার জিল্লুর রহমান জানান, আমি ডেলটা কোম্পানীর ডিলার। গত ২০ দিন আগে কোম্পানীতে অগ্রিম টাকা জমা করার পরও এখনও কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ করছেনা। গোপন গুদামে মজুত করে কারা বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি করছে তা আমার জানা নেই। বসুন্ধুরা কোম্পানীর ডিলার হাজি ফুল মিয়া বলেন, কোম্পানী গ্যাস সরবরাহ না দিলে আমরা কি করব। গুদামে গ্যাসের কোন মজুত নেই বলে তিনি জানান। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ভৈরবে এলপি গ্যাস সংকটে দূর্ভোগ গ্রাহকদের। বাড়তি দাম দিয়েও মিলছেনা  চাহিদার গ্যাস।

Update Time : ১০:১৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

১১ জানুয়ারি, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরবে এলপি গ্যাস সংকটে দূর্ভোগ গ্রাহকদের। বাড়তি দাম দিয়েও মিলছেনা চাহিদার গ্যাস। বাসা রেস্তোরার মালিকরা রান্না করতে চাহিদার গ্যাস কিনতে ডিলারদের দোকানে দোকানে ঘূরছে কিন্ত স্থানীয় সকল ডিলার মালিক বলছে তাদেরকে গত দুই সপ্তাহ যাবত কোম্পানীগুলি এলপি গ্যাস সরবরাহ দিচ্ছেনা। সকল ডিলারের মজুত এখন শূন্য। আবার সাব ডিলারগন তাদের গুদামে গোপনে মজুত করে প্রতিটি সিলিন্ডার এলপি গ্যাস ২ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ২ শ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ বাড়তি টাকা দিলেই কিছু কিছু বিক্রেতা গোপন গুদাম থেকে বের করে বিক্রি করছে গ্যাস। গ্রাহকরা জানান গত দুই সপ্তাহ আগে ভৈরব শহরে প্রতিটি সিলিন্ডার এলপি গ্যাস ১২৫০ টাকা থেকে ১৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ডিলারদের বক্তব্য তারা বাড়তি দামে কোন গ্যাস বিক্রি করছেনা। সাব ডিলার বা খুচরা দোকানদারগনের কাছে আগেই মজুত করা গ্যাস তারা অতিগোপনে  অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বলা যায় ভৈরবে এলপি গ্যাসের হাহাকার চলছে। ফলে গ্রাহকরা এলপি গ্যাসের সংকটে  চরম দূর্ভোগে পোহাচ্ছে। 

এবিষয়ে ভৈরব শহরের আদিয়ান রেস্টুরেন্ট মালিক মোঃ কাজল মিয়া বলেন, আমার রেস্টুরেন্টে সপ্তাহে দুটি, মাসে ৮ টি সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করি। দুই সপ্তাহ আগেও প্রতিটি এলপি গ্যাস ১৩৫০ টাকায় কিনতাম কিন্ত এখন বাড়তি দাম ২০০০/ ২২০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ডিলারগন বলছে সরবরাহ পাচ্ছেনা, তাই গ্যাস নেই। আরেক চায়ের দোকানদার নিজামুল একই কথা বলেন। তিনি বলেন আমরা তৈরি পণ্য বেশী দামে বিক্রি করতে পারছিনা। অথচ জ্বালানীর এলপি গ্যাস প্রতিটি ৭০০/৮০০ টাকা বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে পণ্য বিক্রিতে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এব্যাপারে সরকারের কোন মাথাব্যথা নেই তার দাবি। আগের সরকারের আমলে এলপি গ্যাস নিয়ে এত সংকট ছিলনা বলে তিনি জানান। 

শহরের বাসার মালিক আবদুর রশিদ বলেন, আমি স্বল্প আয়ের মানুষ, বাসায় এলপি গ্যাস ব্যবহার করি। দুই সপ্তাহ যাবত বাজারে গ্যাস না পেয়ে রান্নাবান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কোন দোকানে গ্যাস পাচ্ছেনা তার দাবি। গ্রাম থেকে আসা জমির হোসেন আজ রোববার বাজারে এসে কোথাও গ্যাসের সিলিন্ডার না পেয়ে হতাশ। তিনি বলেন গ্যাস না পেয়ে দুদিন যাবত লাকড়ির চুলায় রান্না করছেন। 

আবুল হোসেন নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ৭০০ টাকা বাড়তি দিয়ে ২০০০ টাকায় একটি সিলিন্ডার কিনেছি এক দোকানীর কাছ থেকে। শর্ত ছিল বাড়তি টাকার কথা বলা যাবেনা। 

স্থানীয় এলপি গ্যাস পদ্মা কোম্পানীর ডিলার মোঃ খলিলুর রহমান জানান, আমরা কোম্পানীতে আগে টাকা জমা দিয়েও দুই সপ্তাহ যাবত গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছিনা। তিনি বলেন আমার কাছে কোন মজুত নেই। বাড়তি দামে কারা গ্যাস বিক্রি করছে তা আমি জানিনা। কোম্পানী সাপ্লাই না দিলে আমরা কি করে গ্যাস বিক্রি করব। 

আরেক ডিলার জিল্লুর রহমান জানান, আমি ডেলটা কোম্পানীর ডিলার। গত ২০ দিন আগে কোম্পানীতে অগ্রিম টাকা জমা করার পরও এখনও কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ করছেনা। গোপন গুদামে মজুত করে কারা বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি করছে তা আমার জানা নেই। বসুন্ধুরা কোম্পানীর ডিলার হাজি ফুল মিয়া বলেন, কোম্পানী গ্যাস সরবরাহ না দিলে আমরা কি করব। গুদামে গ্যাসের কোন মজুত নেই বলে তিনি জানান।