১০ জানুয়ারি, বিশেষ প্রতিনিধি
ভৈরবে ওয়ার্কশপের মেশিনে হাত হারানো শিশু নাঈম হাসান নাহিদের (১০) ক্ষতিপূরণের পাওনা ২৮ লাখ টাকা ৫ দিনের মধ্য আসামী পক্ষকে পরিশোধ করতে উচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরির নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রীম কোর্টের বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার ( ৮ জানুয়ারি) এই আদেশ প্রদান করেছেন। বেঞ্চের অন্যান্য বিচারকগন ছিলেন বিচারপতি এমডি রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি একে এম আসাদুজ্জামান, বিচারপতি সারাহ মাহাবুব।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজি জিনাত হক এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের আদেশে বলা হয়েছিল ওই বছরের এপ্রিল মাসের মধ্য ১০ বছর মেয়াদী ১৫ লাখ টাকা ও ডিসেম্বর মাসের মধ্য ১৫ লাখ টাকার ব্যাংক এফডিআর করে দিতে হবে শিশু নাহিদের নামে। একই সঙ্গে শিশুর লেখাপড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত খরচ বাবদ প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা তার ব্যাংক হিসেবে আসামী পক্ষ জমা দিতে হবে।
এই আদেশের পর ওয়ার্কশপ মালিক ইয়াকুব আলী আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রীমকোর্টে আপীল করলে সুপ্রীমকোর্ট শুনানী শেষে হাইকোর্টের আদেশটি বহাল রাখে। এরপর আসামী পক্ষ আদালতের আদেশ অমান্য করে ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করতে গড়িমশি করতে থাকে।
পরবর্তীতে শিশুটির বাবা ও মামলার বাদী নিয়ামুল আনোয়ার ক্ষতিপূরনের টাকা না পেয়ে সুপ্রীমকোর্ট আদালতে চলতি বছরের মে মাসে আদালত অবমাননার ( কন্টিমপ্ট অফ কোর্ট) একটি পিটিশন দাখিল করে। তার পিটিশনটি তখন শুনানী হলে আদালত ৮ মে-২৫ তারিখে ক্ষতিপূরণের ১০ লাখ টাকা এবং ১৩ মে তারিখের মধ্য বাকী সব টাকা পরিশোশোধের আদেশ দেন। আসামী পক্ষ ৮ মে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও বাকী টাকা এখনও পর্যন্ত পরিশোধ না করে তালবাহানা করতে থাকে।
তারপর আদালত অবমাননার এই মামলাটির ধার্য তারিখ গত ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সুপ্রীমকোর্টে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চে শুনানী হয়। শুনানী শেষে আদালত আদেশ দেন আগামী ৫ দিনের মধ্য ( আগামী ১৩ জানুয়ারি-২৫) আসামী পক্ষ ক্ষতিপূরণের বাকী পাওনা লেখাপড়া খরচসহ একসাথে ২৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে। এদিন বাদী পক্ষে শুনানীতে অংশ নেন ব্যারিস্টার ওমর ফারুক এবং আসামী পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার নিপুন।

মামলার বিবরনে জানা গেছে ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভৈরবের ইয়াকুব ওয়ার্কশপে শিশু নাহিদকে জোর করে কাজ করাতে গিয়ে মেশিনে তার ডান হাতের কব্জি পর্যন্ত কেটে যায়। পরে চিকিৎসকরা তার কনুই পর্যন্ত কেটে তাকে প্রানে রক্ষা করে। পরে শিশু নাহিদের বাবা হাইকোর্টে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। মামলাটি দীর্ঘদিন চলার পর ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্ট ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও তার লেখাপড়ার খরচ বাবত আরও ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ দেন।
এবিষয়ে আজ শনিবার সকালে শিশুটির বাবা নিয়ামুল আনোয়ার বলেন, ওয়ার্কশপ মালিক ইয়াকুব আলী আমার ছেলের জীবনটি ধ্বংস করে দিয়েছে। ঘটনার দিন তাকে জোর করে মেশিন চালানোের কাজ করাতে গিয়েই দূর্ঘটনাটি ঘটে। এরপর আমি ৫ বছর যাবত মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থসহ ব্যবসা- বানিজ্য শেষ হয়ে গেছে। আমার পরিবার নিয়ে আজ আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘূরলেও মালিক ইয়াকুব আলী আদালতের আদেশ অমান্য করে যাচ্ছে। এখন আদালত আদেশ দিয়েছেন ৫ দিনের মধ্য ক্ষতিপূরণের পাওনা সব টাকা পরিশোধ করতে। তিনি আজ কথা বলার সময় জনপদ এর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন। কারন ২০২০ সাল থেকে জনপদ সংবাদ পত্রিকায় এবিষয়ে একাধিকবার নিউজ প্রকাশ করায় তিনি উপকৃত হয়েছেন বলে জানান।
এব্যাপারে আজ শনিবার মোবাইলে বাদী পক্ষের আইনজীবি ব্যারিস্টার ওমর ফারুক আদালতের আদেশের বিষয়টি জনপদ প্রতিনিধির কাছে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মানবিক কারনে আমি তার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছি। এটা ছিল Contempt Of Court মামলা। গত বৃহস্পতিবার ( ৮ জানুয়ারি) আমি মামলাটি শুনানী করলে সুপ্রীমকোর্ট আদালতের প্রধান বিচারপতিসহ ফুল বেঞ্চের বিচারকগন ৫ দিনের মধ্য আসামী পক্ষকে ক্ষতিপূরণের সব টাকা পরিশোধের আদেশ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
Reporter Name 









