৯ ডিসেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরবের লুন্দিয়া গ্রামের দুই বংশের আধিপত্যকে বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ২৫ জন আহত হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাত ৭ টার দিকে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া গ্রামের শেখ বাড়ি ও মোল্লা বাড়ির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন, তামজিদ মোল্লা (১৬), রাজু মোল্লা (২২), বাবু মিয়া (২৫), বশির মিয়া (৫৫), ফয়সাল মোল্লা (৩৭), সাইফুল (২২), শফিকুল ইসলাম (১৬), হযরত আলী (৪০), আব্দুর রহমান (১৬), ফখর উদ্দিন ১৬ শোয়েব (৩৬), এছাড়াও বাকীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ নভেম্বর বিকালে আধিপত্যকে কেন্দ্র করে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া গ্রামের মোল্লা বাড়ি ও শেখ বাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মোল্লা বাড়ির নেতৃত্ব দেন ইউপি সদস্য হারুন মিয়া ও মুর্শিদ মিয়া, অপর দিকে শেখ বাড়ির নেতৃত্ব দেন মাইন উদ্দিন মিয়া ও দিলু মিয়া।
গত ৪ ডিসেম্বর আগানগর ইউনিয়নের টুকচাঁনপুর মেঘনা বাজারে একটি বন্ধ হোটেলের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতদের সহযোগিতার দেওয়ার বিষয় ও তাদের দেখতে যাওয়ার সময়ে লুন্দিয়া গ্রামের শেখ বাড়ি ও মোল্লা বাড়ির লোকদের মধ্য কথা তর্কাতর্কির জেরে উভয়পক্ষের মধ্য সংঘর্ষের রূপ নেয়। এই ঘটনায় ৮ ডিসেম্বর সোমবার সকাল থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৭ টার দিকে উভয় পক্ষ দা, বল্লম, লাঠি ও ইট পাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় উভয়পক্ষের ২৫ জনের বেশি আহত হয়েছে।
মোল্লা বাড়ির সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের ইউনিয়নের টুকচাঁনপুর গ্রামে গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণে গুরুতর আহতদের দেখতে গিয়েছিলাম আমরা। সেখানে যেতে মোটরসাইকেলে যেতে হয়। মোটরসাইকেল চালকরা ছিল আওয়ামী লীগ সমর্থক। এবিষয়ে আমাদের মোল্লা বাড়ির বিএনপির নেতাদের সাথে শেখ বাড়ির বিএনপির নেতাদের বাগ্বিতণ্ডায় জেরে প্রথমে দুইজনের মধ্য মারামারি পরে দুই বংশের সংঘর্ষে রুপ নেয়। এসময় আমিসহ সংঘর্ষে আমাদের মোল্লা বাড়ির ১৫ জনের মত আহত হয়েছে।
শেখ বাড়ির গোলাপ মিয়া বলেন, মোল্লা বাড়ির বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগের নেতার সাথে আঁতাত করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেছে। আমরা তাদের এবিষয়ে জিজ্ঞেস করতে গেলে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি সংঘর্ষে রুপ নেয়। সংঘর্ষের সময় আমাদের ১০ জন লোক আহত হয়।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক উম্মে হাবীবা জুঁই বলেন, লুন্দিয়া গ্রামের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় রাত ৮ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত ১১ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের মধ্যে ১ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
এবিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান আকদ জানান, লুন্দিয়া গ্রামের দুই বংশের সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ দুইটি টিম পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
Reporter Name 









