৬ ডিসেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরবে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজের ঘটনায় আগুনে দগ্ধ ১৯ জনের মধ্য ৫ জন ঢাকার জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তাদের মধ্য হারুনুর রশিদ (৫০) নামের এক চায়ের দোকানীর অবস্থা গুরুতর। তাকে আইসিওতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অপর আহত যারা ঢাকার বার্ণ হাসপাতালে আছে তারা হলো আবদুল হেকিম (৫৫), শিক্ষার্থী সামিউল (১২), নিরব (১৬) ও রাহাত (১৪)। আজ শনিবার আহতদের পারিবারিক সূত্রে এখবর জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভৈরবের আগানগর ইউনিয়নের টুকচাঁনপুর মেঘনা বাজার এলাকায় একটি হোটেলে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ হয়ে এই দূর্ঘটনাটি ঘটেছে।
ঘটনার দিন দূর্ঘটনার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ ১৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়। পরে তাদেরকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে ১২ জনকে ঢাকায় রেফার্ড করে ডাক্তারগন। ৭ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। ঢাকার বার্ণ ইনস্টিটিউটে ১২ জনের মধ্য ৫ জনের অবস্থা গুরুতর ছিল। তার মধ্য বাকী ৭ জনকে একদিন চিকিৎসার পর শুক্রবার হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিলে তারা এখন ভৈরবে চিকিৎসা নিচ্ছে। গুরুতর ৫ জনের মধ্য বেশী খারাপ অবস্থায় আছে হারুন উর রশিদ। তার শরীর ৮০% দগ্ধ হয়েছে। বাকী ৪ জনের কারো ৬০%, কারো ৫০% দগ্ধ হয়েছে। তারা সবাই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে বলে পারিবারিক সূত্র জানায়।
আহত হারুনের নিকটআত্মীয় ফারুক মিয়া আজ শনিবার এই প্রতিনিধিকে বলেন, এলাকার চায়ের দোকানদার ছিল হারুন । তার পরিবারটি দরিদ্র। ঘটনার সময় সিলিন্ডারের আগুন দেখে সে লিকেজ বন্ধ করে অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই গুরুতর দগ্ধ হয়ে এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্য অনেকেই খুব দরিদ্র। তাদের অনেক পরিবারের চিকিৎসার টাকা নেই। এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগীতায় কয়েকজন চিকিৎসা নিচ্ছে। ৫ জন ছাড়া বাকী ১৪ জনের শরীর কারো ২০% কারো ২৫% দগ্ধ হয়েছে। ঢাকা থেকে চিকিৎসা নিয়ে ভৈরবে শুক্রবার ফিরে আসা আরও দুইজনকে আজ শনিবার আবারও ঢাকায় নেয়া হয়েছে। দুজনের শরীর পুড়ে যাওয়ায় ভৈরবের ডাক্তারগনের পরামর্শে আবারও তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়।
প্রতিবেশী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার চোখের সামনে ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে যারা বাড়ীতে চিকিৎসা নিচ্ছে তারাও অর্থের অভাবে রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের সন্তান। এলাকাবাসীর সহায়তায় অনেকে চিকিৎসা নিলেও সরকারীভাবে আর্থিক সহায়তা দেয়া প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমি শুক্রবার ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এদিন সব খবরাখবর নিয়েছি। এসময় কেউ আর্থিক সহযোগীতার কথা আমাকে বলেনি। তারপরও আমি আবারও খোজঁখবর নিব। আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ আর্থিক সহযোগীতার আবেদন করলে আমি সরকারীভাবে বিধি মোতাবেক সহযোগীতার জন্য চেষ্টা করব।
Reporter Name 









