ভৈরবে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেয়ায় তীব্র প্রতিবাদ।। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২৯:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৬২ Time View

৫ ডিসেম্বর, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরবে কৃষি অফিসের প্যাড ব্যবহার করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার স্বাক্ষরে একটি ভূয়া প্রতিবেদন বা লেখা প্রকাশ হওয়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এক প্রতিবাদ করেছেন। এবিষয়ে উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম খলিল ভৈরব থানায় ওকটি জিডি করেছেন ( জিডি নং ১৬৮)। 

সারাদেশের মত ভৈরবেও সরকারী  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন চলছে। শিক্ষকরা ডিসেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলন করায় সরকার বিকল্প ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ ডিসেম্বর উপজেলার জগমোহনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়া হয়। এদিন উক্ত বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেয়ার দায়িত্বে ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম খলিল। পরীক্ষা শেষ করে এদিন তিনি বিদ্যালয় থেকে  ফেরার সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন জোরপূর্বক তাকে দিয়ে একটি লিখিত  প্যাডে  স্বাক্ষর নেয়া হয়। প্রতিবেদন মূলক লেখাটি ছিল মূলত শিক্ষকদের দাবির পক্ষে এবং তাদের দাবি সরকার মেনে নেয়ার জন্য। উপ-সহকারী কর্মকর্তার বক্তব্য হলো আমি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করে এমন প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করতে পারিনা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক মোঃ সোলাইমান মিয়া  জোর করে প্রতিবেদনটি আমাকে  পড়তে না দিয়ে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষরটি নেয়। 

এব্যাপারে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ সোলাইমান মিয়া বলেন, ঘটনার দিন পরীক্ষা শেষে উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম খলিল নিজেই ইচ্ছা করে লিখিত  প্যাডে স্বাক্ষর করেছেন। আমরা জোর করে স্বাক্ষর নেইনি। তবে আমি লেপটব দিয়ে গুগুল থেকে লুঘু নিয়ে  কৃষি অফিসের প্যাডটি তৈরি করেছি তার সম্মতিতে। এভাবে প্যাড  তৈরি করা আমার ভুল ছিল যা আমি স্বীকার করছি। 

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম বলেন, আমার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই বিদ্যালয়ের পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করেছে। সেখানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কৃষি   অফিসের প্যাড লেপটবে তৈরি করে তার কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নিতে পারেনা। প্যাডে লেখা প্রতিবেদনটি সরকারের বিরুদ্ধে লেখা হয়েছে যা অপরাধ। বিষয়টির লেখা ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আমাদের কৃষি অফিসের ভাবমূর্তি  ও সুনাম নষ্ট হয়েছে। একারনে বিষয়টি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আমার নির্দেশে  থানায় জিডি করেছে। ঘটনায় কৃষি অফিসের সুনাম ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ায় আমি বিষয়টির  তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ভৈরবে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেয়ায় তীব্র প্রতিবাদ।। 

Update Time : ০৯:২৯:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

৫ ডিসেম্বর, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরবে কৃষি অফিসের প্যাড ব্যবহার করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার স্বাক্ষরে একটি ভূয়া প্রতিবেদন বা লেখা প্রকাশ হওয়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এক প্রতিবাদ করেছেন। এবিষয়ে উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম খলিল ভৈরব থানায় ওকটি জিডি করেছেন ( জিডি নং ১৬৮)। 

সারাদেশের মত ভৈরবেও সরকারী  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন চলছে। শিক্ষকরা ডিসেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলন করায় সরকার বিকল্প ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ ডিসেম্বর উপজেলার জগমোহনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়া হয়। এদিন উক্ত বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেয়ার দায়িত্বে ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম খলিল। পরীক্ষা শেষ করে এদিন তিনি বিদ্যালয় থেকে  ফেরার সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন জোরপূর্বক তাকে দিয়ে একটি লিখিত  প্যাডে  স্বাক্ষর নেয়া হয়। প্রতিবেদন মূলক লেখাটি ছিল মূলত শিক্ষকদের দাবির পক্ষে এবং তাদের দাবি সরকার মেনে নেয়ার জন্য। উপ-সহকারী কর্মকর্তার বক্তব্য হলো আমি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করে এমন প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করতে পারিনা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক মোঃ সোলাইমান মিয়া  জোর করে প্রতিবেদনটি আমাকে  পড়তে না দিয়ে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষরটি নেয়। 

এব্যাপারে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ সোলাইমান মিয়া বলেন, ঘটনার দিন পরীক্ষা শেষে উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম খলিল নিজেই ইচ্ছা করে লিখিত  প্যাডে স্বাক্ষর করেছেন। আমরা জোর করে স্বাক্ষর নেইনি। তবে আমি লেপটব দিয়ে গুগুল থেকে লুঘু নিয়ে  কৃষি অফিসের প্যাডটি তৈরি করেছি তার সম্মতিতে। এভাবে প্যাড  তৈরি করা আমার ভুল ছিল যা আমি স্বীকার করছি। 

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম বলেন, আমার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই বিদ্যালয়ের পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করেছে। সেখানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কৃষি   অফিসের প্যাড লেপটবে তৈরি করে তার কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নিতে পারেনা। প্যাডে লেখা প্রতিবেদনটি সরকারের বিরুদ্ধে লেখা হয়েছে যা অপরাধ। বিষয়টির লেখা ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আমাদের কৃষি অফিসের ভাবমূর্তি  ও সুনাম নষ্ট হয়েছে। একারনে বিষয়টি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আমার নির্দেশে  থানায় জিডি করেছে। ঘটনায় কৃষি অফিসের সুনাম ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ায় আমি বিষয়টির  তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।