৪ ডিসেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরবে শ্রেণী শিক্ষক ছাড়া প্রশাসনের লোক দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার সিন্ধান্তে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসতে দিল অভিভাবকরা। এসময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন শ্লোগান তুলেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
আজ বৃহস্পতিবার বে়লা ১১টায় ভৈরব শহরের মোজাফফর বেপারী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দূর করা,সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির ব্যবস্থা করা- এমন তিন দফা দাবিতে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ফলে
সরকারের সিন্ধান্ত অনুযায়ী প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মোজাফফর বেপারী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে উপজেলা কৃষি অফিসের দুইজন কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা শ্রেণী শিক্ষক ছাড়া অন্য কারো কাছে পরীক্ষায় বসতে দিবে না। তাই বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এসময় তারা বিভিন্ন শ্লোগান তুলে প্রতিবাদ জানান।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, রুটিন অনুযায়ী ১ তারিখে আমাদের পরীক্ষা হওয়ার কথা কিন্তু সেদিন পরীক্ষা দিতে এসে জানলাম স্কুলের স্যারদের বেতন বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করছেন। দীর্ঘ ৫ বছর যাবত স্কুলের স্যাররা আমাদের পড়িয়েছেন তাদের ছাড়া আমরা অন্য কারো কাছে পরীক্ষা দিবো না। তাই সরকারের কাছে দাবি তারা যেন আমাদের স্যারদের দাবি মেনে আমাদের পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করে দেন।
আরেক অভিভাবক বলেন, হঠাৎ করে সরকার সিন্ধান্ত নিয়ে পরীক্ষা নিতে চাইলেই তো পরীক্ষা নেয়া যায় না। পরীক্ষার জন্য তো শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিতে হয়। এছাড়া যারা সারা বছর আমাদের বাচ্চাদের মনোযোগ সহকারে পড়িয়েছেন তাদের ছাড়া অন্য লোকদের কাছে আমাদের ছেলেদের পরীক্ষা দিতে দিবো না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা রত্না বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকতাদের নির্দেশ মতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিতে হয়। সেজন্যই আমরা সকালে পরীক্ষা শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এমন সময় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের শ্রেণী শিক্ষক ছাড়া অন্য কারো কাছে পরীক্ষা দিতে দিবে না। আমরা তাদেরকে অনেক বুঝিয়েছি এমনকি ভয়ও দেখেয়েছি তবুও তারা পরীক্ষায় বসেনি। এখন বিষয়টি আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি উনারা যে সিন্ধান্ত দেন সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করবো।
এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ভৈরব উপজেলায় ৯২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তাদের মধ্য সকল স্কুলে আজকে থেকে বিশেষভাবে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে তবে দুটি স্কুলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। এবিষয়ে আমরা অনুসন্ধান করছি এই ঘটনায় যদি কোন শ্রেনী শিক্ষকের ইন্দন থাকে তাহলে তা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।
Reporter Name 









