২১ নভেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিশেষজ্ঞসহ ৫ জন ডাক্তারের পদায়ন কর্মস্থল হাসপাতালে হলেও তারা বিভিন্নভাবে তদবির করে প্রেষনে ঢাকায় কর্মরত আছেন। প্রেষনে থাকা ডাক্তারগন বেতন উত্তোলন করেন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কিন্ত কাজ করেন ঢাকায়। ফলে এখানকার রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। স্বাস্থ্য বিভাগের এধরনের সিদ্ধান্ত কেন, জনগন জানতে চাই। এবিষয়ে সিভিল সার্জন বলেন এটা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।
যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়ন হয়ে প্রেষনে আছেন তারা হলো ডাঃ হ্যাপি বেগম ( শিশু বিশেষজ্ঞ), তিনি এক বছর যাবত কাজ করছেন সরকারী কর্মচারী হাসপাতাল, ঢাকাতে। ডাঃ সুমী বেগম ( গাইনি বিশেষজ্ঞ), তিনি গত ৯ মাস যাবত কাজ করছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ডাঃ নওশীন ( মেডিকেল অফিসার) , তিনি তিন বছর যাবত কাজ করছেন ঢাকার বিমানবন্দর হাসপাতালে। ডাঃ তাম্মি ( মেডিকেল অফিসার), তিনিও তিন বছর যাবত কাজ করছেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা। ডাঃ ফাতেমা জাহান শিমুল ( মেডিকেল অফিসার), তিনি গত দুই সপ্তাহ আগে ভৈরবে যোগদান করলেও তাকে কাজ করতে বলা হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ( স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডাঃ এ বি এম আবু হানিফ স্বাক্ষরিত চিঠিতে এমন নির্দেশ দেয়া হয়) । উল্লেখিত ৫ জন ডাক্তারকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ( মহাখালী) থেকে বিভিন্ন সময়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়ন করা হলেও তাদের বর্তমান কর্মস্থল হচ্ছে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। কিন্ত তারা বেতন নিচ্ছেন ভৈরব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে। কাগজেপত্রে তাদের পদায়ন দেখানো হচ্ছে ভৈরব স্বাস্থ্য বিভাগে, কিন্ত তারা কর্মরত ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ভৈরবে পদায়নকৃত এসব ডাক্তারগন নানাভাবে তদবির করে তারা ঢাকায় থাকতে প্রেষনে বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত আছেন। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের পদ আছে বিশেষজ্ঞসহ মোট ২১ টি। পদায়ন আছে ১৬ জন কিন্ত কর্মরত আছেন ১১ জন। বাকী ৫ জন প্রেষনে ঢাকায় কর্মরত।
এবিষয়ে সদ্য ভৈরবে পদায়নকৃত ( যিনি প্রেষনে চলে গেছেন) ডাঃ ফাতেমা জাহান শিমুল বলেন, আমি স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি করি। কর্তৃপক্ষ যেভাবে আদেশ দেন সেভাবে কর্মস্থলে যেতে হয়। তিনি কোন তদবির করেননি বলে জানান। শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ হ্যাপি বলেন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঢাকায় সরকারী কর্মচারী হাসপাতালে কাজ করছি। একই কথা বললেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুমি বেগম।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ কিশোর কুমার ধর জানান, প্রেষনের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। প্রেষনে থাকা ডাক্তারগন ভৈরব স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বেতন গ্রহন করেন বলে তিনি স্বীকার করেন। ডাক্তারের অভাবে চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে কথাটি অসত্য নয় বলে তিনি জানান। তবে আমরা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন অভিজিৎ শর্মা এবিষয়ে বলেন, জেলার একাধিক হাসপাতালে ডাক্তারের পদ শূন্য আছে। ভৈরবের ৫ জন ডাক্তার প্রেষনে আছেন যা তিনি স্বীকার করেন। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি বলেন আমিতো তাদেরকে প্রেষনে পাঠায়নি। ৫ ডাক্তার প্রেষনে থাকায় রোগীদের সেবা ব্যহত হচ্ছে এমনটা নয়। বিষয়টি হটকারী সিদ্ধান্ত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা হটকারী বলা যাবেনা, ঢাকার রোগীদের সেবা করতেই প্রেষন। তবে ভৈরবে পদায়ন করে তারা ঢাকায় কর্মরত এটা কেমন সিদ্ধান্ত, এপ্রশ্নের জবাব তিনি দিতে পারেননি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকার পরিচালক ( যিনি প্রেষন নির্দেশের চিঠি দেন) ডাঃ এ বি এম আবু হানিফের সাথে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। একারনে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
Reporter Name 









