৯ নভেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি
ভৈরবে এক পরিবারে ৬ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। স্বাস্থ্য বিভাগের নেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোন কার্যক্রম। তাছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে পাচ্ছে না পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা, শুধু স্যালাইন আর নাপা দিয়ে চলছে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা। দরিদ্র ডেঙ্গু রোগীদের আলাদাভাবে কোন খাবার দিচ্ছেনা হাসপাতালে। আজ ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডেঙ্গু রোগী ১৭ জন ভর্তি আছে চিকিৎসা নিতে।
জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় অর্ধশতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু আক্রান্ত হচ্ছেন ডেঙ্গু জ্বরে। ইতোমধ্যে হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী মৃত্যু হয়েছে। অথচ, মশা নিধনে নেই পৌর প্রশাসনের তেমন কোন জোরালো কার্যক্রম। ফলে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত মানুষজন।
আজ রোববার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী মহিলা ওয়ার্ডে গিয়ে কথা হয় পৌর শহরের ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া বেগমের সাথে। তিনি বলেন, আমার ৪ ছেলে মেয়ে নাতি ও আমি নিজে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছি। এক সপ্তাহ যাবত পরিবারের ৬ জন সদস্য ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসাপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্বাস মিয়া ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত তার মেয়ে সুমি বেগমকে নিয়ে দুদিন আগে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। কিন্তু হাসপাতালের নার্সরাই স্যালাইন আর নাপা দিয়ে চিকিৎসা করছেন। আজ সকালে এক নার্স এসে বললো আপনার মেয়েকে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সংখ্যা। চলতি মৌসুমে আশংকাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে এই ডেঙ্গু জ্বর। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দুই থেকে তিনগুণ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য খোলা হয়েছে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা দুটি ওয়ার্ড। তবে এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু রোগে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো.আবদুল করিম জানান, এবছর ভৈরবে অন্যান্য বছরের তুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশী। প্রতিদিনই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। আজ রোববার পর্যন্ত হাসপাতালে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ জন রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। আক্রান্তদের মাঝে গত সেপ্টেম্বর – অক্টোবর মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন ১২০ জন।
ভৈরবের বেসরকারী হাসপাতালের মালিক ডাঃ এবি সিদ্দিক এবিষয়ে বলেন, আমার হাসপাতালে গত একমাসে কমপক্ষে অর্ধশত ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। আবেদীন হাসপাতালের মালিক ডাঃ আমিন উদ্দিন বলেন প্রতিদিন তার হাসপাতালে ৫/৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিতে আসে।
ভৈরব পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শবনম শারমিন জানান, পৌরসভার পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি প্রতিদিনই পৌর এলাকায় প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসচেতনতা লক্ষ্যে সভা সমাবেশসহ মশা রোধে বিভিন্ন কার্যক্রম করছেন বলে তিনি জানান।
Reporter Name 









