ভৈরবকে জেলা ঘোষনার দাবিতে রেলস্টেশনে ছাত্র-জনতার ট্রেন অবরোধ। প্রায় দেড়ঘন্টা আটক রাখার পর পুলিশের সহায়তায় ছাড়ল ট্রেন।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ১২২ Time View

২৭ অক্টোবর, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরবকে ৬৫ তম জেলা ঘোষনার দাবিতে রেলস্টেশনে ছাত্র-জনতা একটি আন্তঃনগর ট্রেন অবরোধ করে প্রায় দেড়ঘন্টা আটক করে রাখে। আজ সোমবার সকাল ১০.২৩ মিনিটে নোয়াখালী-ঢাকাগামী আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করলে জেলার দাবিতে আন্দোলনকারীরা লাল সালু কাপড় দেখিয়ে ট্রেনটি  আটকে দেয়। ভৈরব স্টেশনে ট্রেনটির কোন বিরতি ছিলনা। কিন্ত ট্রেনের চালক স্টেশনে রেললাইনের উপর শত শত লোকজন দাঁড়িয়ে থাকা ও কয়েকটি লালু সালু কাপড় ছাত্র-জনতার হাতে দেখে ট্রেনটি থামাতে বাধ্য করে। এসময় ছাত্ররা ট্রেনের ইন্জিনের উপর উঠে শ্লোগান দিতে থাকে ভৈরব জেলা চাই। ঘটনার সময় রেলওয়ে পুলিশ ও স্টেশনের নিরাপত্তা কর্মীরা অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এছাড়া স্টেশনের বাইরে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করলেও তারা ভিতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। ট্রেনটি আটকা পড়ার কারনে ট্রেনের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছিল দেড়ঘন্টা। 

ছাত্র-জনতা সোমবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে রেললাইন অবরোধ করে রাখে। তাদের দাবি ছিল ভৈরবকে অবিলম্বে জেলা ঘোষনা করতে হবে। তারা শ্লোগানে মুখরিত করে তুলে জেলা বাস্তবায়ন করতে হবে। নইলে তারা আন্দোলন থেকে ফিরবেনা। গতকাল রোববারও ছাত্র-জনতা ভৈরবের ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ব্যারিকেট দিয়ে দুইঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখে। ভৈরব রেলস্টেশন অবরোধের খবর পেয়ে  উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজি শাহিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ রেলস্টেশন এসে আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্তঘোষনা করে বক্তব্য রাখেন। তারা ভৈরবকে অবিলম্বে জেলা ঘোষনার দাবি করেন। ভৌগোলিক কারনে ভৈরবকে জেলা করতে হবে। ২০০৯ সালে ভৈরব ৬৫ তম জেলার গেজেট প্রকাশিত হলেও একটি কুচক্রি মহলের বিরোধীতায় জেলা বাস্তবায়ন হয়নি বলে তারা তাদের বক্তব্যে বলেন। এসময় ছাত্রনেতা জোনায়েতসহ কয়েকজন ছাত্র বক্তব্য দেয়। তাদের বক্তব্য শেষ হলে সকাল ১১.৪২ মিনিটে রেলওয়ে  পুলিশসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দের সহায়তায় ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়। তবে আন্দোলনকারীদের মধ্য কিছু উছৃংখল ছাত্র-জনতা ট্রেনটি ছাড়ার মূহর্তে রেললাইন থেকে তুলে  অসংখ্য পাথর ইন্জিনের দিকে ছুঁড়ে মারে। এতে ইন্জিনের সামনের গ্লাস কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কোন হতাহত হয়নি। 

এদিকে ভৈরব রেলস্টেশনে ট্রেন অবরোধের কারনে চট্রগ্রাম-ঢাকাগামী চট্রলা ট্রেনটি আশুগন্জের তালশহর রেলস্টেনে ও একটি কন্টিনার ট্রেন ভৈরবের নিকটে দৌলতকান্দি রেলস্টেশনে আটকা পড়ে যথাসময়ে গন্তব্যে যেতে পারেনি। 

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোঃ ইউছুফ  জানান, প্রায় হাজার খানেক ছাত্র-জনতা ঢাকাগামী  উপকুল আন্তঃনগর ট্রেনটি ১ ঘন্টা ২০ মিনিট স্টেশনে  আটকে রাখে। ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনে বিরতি ছিলনা। ভৈরবকে জেলা করার দাবিতে তারা স্টেশনের রেললাইন অবরোধ করে। পরে সকাল ১১.৪২ মিনিটে ট্রেনটি পুলিশের সহায়তায়  স্টেশন ত্যাগ করে। অবরোধের কারনে কয়েকটি ট্রেন তালশহর ও দৌলতকান্দি রেলস্টেশনে আটকা পড়ে ছিল। ট্রেনটি ছাড়ার সময় উছৃংখল ছাত্র-জনতা ট্রেনের ইন্জিনের দিকে পাথর ছুড়ে মারলে ইন্জিনটি কিছুটা ক্ষতি হয় বলে তিনি জানান। 

ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাঈদ জানান, ভৈরবকে জেলা করার দাবিতে ছাত্র-জনতা উপকুল এক্সপ্রেসটি স্টেশনে দেড়ঘন্টা আটকে রাখে। এসময় উছৃংখল জনতা ইন্জিনে পাথর ছুঁড়ে মারে বলে তিনি স্বীকার করেন।  পরে পুলিশের সহায়তায় ট্রেনটি দেড়ঘন্টা পর স্টেশন ছেড়ে যায়। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ভৈরবকে জেলা ঘোষনার দাবিতে রেলস্টেশনে ছাত্র-জনতার ট্রেন অবরোধ। প্রায় দেড়ঘন্টা আটক রাখার পর পুলিশের সহায়তায় ছাড়ল ট্রেন।

Update Time : ০৯:২১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

২৭ অক্টোবর, নিজস্ব  প্রতিনিধি

ভৈরবকে ৬৫ তম জেলা ঘোষনার দাবিতে রেলস্টেশনে ছাত্র-জনতা একটি আন্তঃনগর ট্রেন অবরোধ করে প্রায় দেড়ঘন্টা আটক করে রাখে। আজ সোমবার সকাল ১০.২৩ মিনিটে নোয়াখালী-ঢাকাগামী আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করলে জেলার দাবিতে আন্দোলনকারীরা লাল সালু কাপড় দেখিয়ে ট্রেনটি  আটকে দেয়। ভৈরব স্টেশনে ট্রেনটির কোন বিরতি ছিলনা। কিন্ত ট্রেনের চালক স্টেশনে রেললাইনের উপর শত শত লোকজন দাঁড়িয়ে থাকা ও কয়েকটি লালু সালু কাপড় ছাত্র-জনতার হাতে দেখে ট্রেনটি থামাতে বাধ্য করে। এসময় ছাত্ররা ট্রেনের ইন্জিনের উপর উঠে শ্লোগান দিতে থাকে ভৈরব জেলা চাই। ঘটনার সময় রেলওয়ে পুলিশ ও স্টেশনের নিরাপত্তা কর্মীরা অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এছাড়া স্টেশনের বাইরে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করলেও তারা ভিতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। ট্রেনটি আটকা পড়ার কারনে ট্রেনের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছিল দেড়ঘন্টা। 

ছাত্র-জনতা সোমবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে রেললাইন অবরোধ করে রাখে। তাদের দাবি ছিল ভৈরবকে অবিলম্বে জেলা ঘোষনা করতে হবে। তারা শ্লোগানে মুখরিত করে তুলে জেলা বাস্তবায়ন করতে হবে। নইলে তারা আন্দোলন থেকে ফিরবেনা। গতকাল রোববারও ছাত্র-জনতা ভৈরবের ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ব্যারিকেট দিয়ে দুইঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখে। ভৈরব রেলস্টেশন অবরোধের খবর পেয়ে  উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজি শাহিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ রেলস্টেশন এসে আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্তঘোষনা করে বক্তব্য রাখেন। তারা ভৈরবকে অবিলম্বে জেলা ঘোষনার দাবি করেন। ভৌগোলিক কারনে ভৈরবকে জেলা করতে হবে। ২০০৯ সালে ভৈরব ৬৫ তম জেলার গেজেট প্রকাশিত হলেও একটি কুচক্রি মহলের বিরোধীতায় জেলা বাস্তবায়ন হয়নি বলে তারা তাদের বক্তব্যে বলেন। এসময় ছাত্রনেতা জোনায়েতসহ কয়েকজন ছাত্র বক্তব্য দেয়। তাদের বক্তব্য শেষ হলে সকাল ১১.৪২ মিনিটে রেলওয়ে  পুলিশসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দের সহায়তায় ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়। তবে আন্দোলনকারীদের মধ্য কিছু উছৃংখল ছাত্র-জনতা ট্রেনটি ছাড়ার মূহর্তে রেললাইন থেকে তুলে  অসংখ্য পাথর ইন্জিনের দিকে ছুঁড়ে মারে। এতে ইন্জিনের সামনের গ্লাস কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কোন হতাহত হয়নি। 

এদিকে ভৈরব রেলস্টেশনে ট্রেন অবরোধের কারনে চট্রগ্রাম-ঢাকাগামী চট্রলা ট্রেনটি আশুগন্জের তালশহর রেলস্টেনে ও একটি কন্টিনার ট্রেন ভৈরবের নিকটে দৌলতকান্দি রেলস্টেশনে আটকা পড়ে যথাসময়ে গন্তব্যে যেতে পারেনি। 

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোঃ ইউছুফ  জানান, প্রায় হাজার খানেক ছাত্র-জনতা ঢাকাগামী  উপকুল আন্তঃনগর ট্রেনটি ১ ঘন্টা ২০ মিনিট স্টেশনে  আটকে রাখে। ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনে বিরতি ছিলনা। ভৈরবকে জেলা করার দাবিতে তারা স্টেশনের রেললাইন অবরোধ করে। পরে সকাল ১১.৪২ মিনিটে ট্রেনটি পুলিশের সহায়তায়  স্টেশন ত্যাগ করে। অবরোধের কারনে কয়েকটি ট্রেন তালশহর ও দৌলতকান্দি রেলস্টেশনে আটকা পড়ে ছিল। ট্রেনটি ছাড়ার সময় উছৃংখল ছাত্র-জনতা ট্রেনের ইন্জিনের দিকে পাথর ছুড়ে মারলে ইন্জিনটি কিছুটা ক্ষতি হয় বলে তিনি জানান। 

ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাঈদ জানান, ভৈরবকে জেলা করার দাবিতে ছাত্র-জনতা উপকুল এক্সপ্রেসটি স্টেশনে দেড়ঘন্টা আটকে রাখে। এসময় উছৃংখল জনতা ইন্জিনে পাথর ছুঁড়ে মারে বলে তিনি স্বীকার করেন।  পরে পুলিশের সহায়তায় ট্রেনটি দেড়ঘন্টা পর স্টেশন ছেড়ে যায়।