১৪ অক্টোবর, নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রস্তাবিত নতুন সার ডিলার নীতিমালা -২৫ পেছানো ও যৌক্তিক কমিশনসহ একাধিক দাবিতে কিশোরগঞ্জ জেলার সার ডিলারগন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে কৃষি উপদেষ্টার নিকট এক স্মারকলিপি প্রদান করেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন ( বিএফএ), কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিটের পক্ষ থেকে সার ডিলারগন এই স্মারকলিপি দেয়া হয়। এসময় জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপিটি গ্রহন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মিজাবে রহমত। এসময় সংগঠনের সভাপতি তারিক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ খালেকুজ্জামান, বিএফএ’র সাবেক পরিচালক আসাদুজ্জামান ফারুক সহ একাধিক সার ডিলার উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত নতুন সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২৫ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে জেলায় সার বিতরণ ও সরবরাহে বিশৃংখলা, সংকট সৃষ্টি হতে পারে। কারন নীতিমালাটি ডিলার সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা বা মতামত না নিয়েই করার উদ্যেগ গ্রহন করেছে সরকার। নতুন নীতিমালাতে প্রতিটি ইউনিয়নে তিনজন করে সার ডিলার নিয়োগ এবং প্রতি ডিলারের তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র থাকতে হবে। কিন্ত সারের বরাদ্দ বাড়বেনা। এতে ডিলারদের খরচ বাড়লেও বরাদ্দ বাড়বেনা। ফলে ডিলারগন ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এছাড়া গত ২০ বছর যাবত ডিলারদের কমিশন বাড়ানো হচ্ছেনা। ২০০৮ সালের পর জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধির কারনে সার পরিবহনে খরচ বেড়েছে। এছাড়াও অফিস – গুদাম ভাড়া, কর্মচারি বেতন, ব্যাংক সুদসহ অন্যান্য খরচ বেড়েছে। তাই তাদের দাবি ডিলারদের সারের কমিশন বাড়াতে হবে। তারা নতুন নীতিমালায় যেখানে সারের বরাদ্দ বেশী সেখানে ২ জন ডিলার নিয়োগের পক্ষে মত দেন। নতুন নীতিমালায় ডিলারদের জামানত ২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। ১৯৯৫ সালে নিয়োগকৃত ডিলারগন জামানত বাড়ানোর বিষয়টি অযৌক্তিক দাবি করেন তারা। বর্তমান বিদ্যমান ২০০৯ সালের নীতিমালায় খুচরা ডিলার ছিল যারা ডিলারদের কাছ থেকে সার নিয়ে কৃষকদের নিকট বিক্রি করত। নতুন নীতিমালাতে খুচরা ডিলার থাকবেনা। খুচরা ডিলারদের কাছে ডিলারগন লাখ লাখ টাকা বকেয়া পাওনা আছে। তাই খুচরা ডিলার বাতিলের পক্ষে নন তারা। নতুন নীতিমালা করার আগে ডিলার সংগঠনের নেতাদের সাথে আলোচনা মতামত নিয়ে মে – জুন মাসে করার দাবি করেন ডিলারগন। কারন বর্তমানে রবি মৌসুম চলছে, সামনে বোরো মৌসুম, তাই তাড়াহুরা করে নতুন নীতিমালা করা হলে জেলার সর্বত্র সার সংকট, বিতরণ, নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে।
এবিষয়ে সংগঠনের সভাপতি তারিক আহমেদ বলেন, সরকার আমাদের বিএফএ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা বা মতামত না নিয়েই তাড়াহুরা করে নতুন নীতিমালা করতে উদ্যেগ গ্রহন করেছে। বিদ্যমান ২০০৯ সালের নীতিমালাতে দেশেসহ কিশোরগঞ্জ জেলায় কোন সারের সংকট নেই। বোরো মৌসুমের পর নতুন নীতিমালা করতে আমরা দাবি জানাই। এছাড়া নীতিমালায় ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি করা হয়নি যা আমাদের দাবি ছিল। তাই আজ আমরা স্মারকলিপিটি দিলাম। সাধারণ সম্পাদক মোঃ খালেকুজ্জামান বলেন জেলায় কোন সারের সংকট নেই, দেশেও নেই। হঠাৎ করে আমাদের মতামত ছাড়া নতুন নীতিমালা করলে ডিলারগন ক্ষতিগ্রস্থ হবে, অপরদিকে সার নিয়ে বিশৃংখল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। তখন কৃষকরা সময়মত সার না পেলে ফসল উৎপাদনে ব্যহত হতে পারে।
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত বলেন, কিশোরগঞ্জের সার ডিলার সংগঠনের পক্ষ থেকে আজ একটি স্মারকলিপি গ্রহন করেছি। জেলা প্রশাসক মহোদয় অফিসে না থাকায় তার পক্ষে স্মারকলিপি আমি গ্রহন করলাম। কৃষি উপদেষ্টার নিকট পাঠানোর জন্য স্মারকলিপিটি দেয়া হয়। জেলা প্রশাসক মহোদয় অফিসে আসলে তার সাথে কথা বলে আমরা ডিলারদের স্মারকলিপিটি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিব।
Reporter Name 









