সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের বাড়ীতে এখন কিন্ডারগার্ডেন স্কুল

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৮৫ Time View

১৩ অক্টোবর, নিজস্ব  প্রতিনিধি

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের বাড়ীতে এখন কিন্ডারগার্ডেন স্কুল। ভৈরবের কৃতি সন্তান জিল্লুর রহমানের জন্মস্থান শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকায়। তিনি স্বাধীনতার পর ৫ বার কিশোরগঞ্জ-৬ ( ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসন থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তারিখে সাবেক সরকারের পতন ঘটলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত পালিয়ে যায়। সেই সময়ে দেশে বিশৃংখল অবস্থায় সারা দেশের মত জিল্লুর রহমানের নিজ বাসভবনটি দুর্বত্তরা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতিসাধান করে। ঘটনার দিন  তার বাসভবনে কেউ ছিলনা। এমনিতেই তার বাসায় কেউ থাকতনা। তবে তিনি ২০০৯ সালে দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তার একমাত্র ছেলে নাজমুল হাসান পাপন  তার আসনে সংসদ সদস্য হন ৪ বার। পাপন বিসিবি সভাপতিও ছিলেন তখন। রাজনৈনিক কারনে পাপন মাঝেমধ্য ভৈরবের পৈতৃক বাসায় আসাযাওয়া করতেন। মূলত জিল্লুর রহমান ঢাকায় গুলশানের নিজ বাসভবনে থাকতেন রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে। একারনে তার পরিবারের সবাই গুলশানের বাসায় বসবাস করতেন। একজন কেয়ারটেকার ভৈরবের বাসভবন দেখাশুনা করত। তার বাসভবনটি আইভি ভবন নামে পরিচিত। তার স্ত্রী মরহুম আইভি রহমানের স্মৃতিস্বরুপ বাসভবনের নাম। 

৫ আগস্টের পর পাপনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। অনেকের ধারনা পাপন সপরিবারে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তার বাসভবনটি ৫ আগস্ট বিকেলে দুর্বত্তরা ভাঙচুর- লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করলে প্রায় এক বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। যদিও তার বংশধর আছে কিন্ত কেউ বাড়ীতে যায়নি বা সংস্কার করেনি বাসভবনটি। বাসার প্রধান গেইটটি তালাবদ্ধ থাকত। অনেক উৎসুক মানুষ বাড়ীর বাইরে থেকে পরিত্যক্ত বাড়ীটি দেখত। 

বর্তমানে হঠাৎ এলাকাবাসী ও গণমাধ্যম কর্মীদের চোখে পড়ল তার বাসভবনে কিন্ডারগার্ডেন স্কুল। পরে খবর নিয়ে জানা গেল তার বাসভবনটি সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্ডেন স্কুল কর্তৃপক্ষকে ভাড়া দেয়া হয়েছে। জিল্লুর রহমানের বংশধর মরহুম তারা মিয়ার ছেলে নইম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পার্টনার। কিন্ডারগার্ডেন স্কুলটির মূল মালিক ভৈরবের প্রবীণ শিক্ষক অধ্যক্ষ আবদুল বাসেত। তার পাটনারের সহায়তায় বাসভবনটি ভাড়া নেয়া হয়েছে। তবে নিচতলাটি ভাড়া নিয়ে স্কুল পরিচালনা করা হলেও দুতলা ভাড়া দেয়া হয়নি। 

এবিষয়ে কিন্ডারগার্ডেন মালিক অধ্যক্ষ আবদুল বাসেতের সাথে যুগান্তর প্রতিনিধির আজ সোমবার কথা হলে তিনি বলেন, আমার স্কুলটি ১৯৮৭ সাল প্রতিষ্ঠিত করি। তখন জিল্লুর রহমানের চাচাত ভাই তারা মিয়া  আমার পার্টনার ছিল। তিনি মারা গেছেন। এখন তার ছেলে নইম পার্টনার হিসেবে আমার সাথে আছে। নইম জিল্লুর রহমানের ওয়ারিশের কারো সাথে আলাপ করে বাড়ীটি ভাড়ার ব্যবস্থা করে দেয়। ৫ আগস্টের পর বাসভবনটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ করে দুর্বত্তরা। ভৈরবের কৃতি সন্তান জিল্লুর রহমান ছিলেন অহিংসু নেতা। তিনি কারো ক্ষতি করেছেন আমার জানা নেই। বাসভবনটির সংস্কার মেরামত করতে আমার অনেক টাকা খরচ হয়েছে।  এটাকা আমি ভাড়া থেকে কর্তন করে নিব। এভাবেই কথা হয়েছে। তবে আমি নিচতলা ভাড়া নিলেও দুতলা ভাড়া নেইনি। তিনি বলেন বাসভবনটি শিক্ষার্থীদের পদচারনায় এখন ভাল থাকবে এবং আমিও একটি ভাল বাড়ী পেলাম ভাড়া হিসেবে। একারনেই আমি বাসভবসটি ভাড়া নিয়েছি। 

স্কুলের পার্টনার নইমের সাথে এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। 

এবিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জিল্লুর রহমানের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। তার দুইজন মেয়ে আছে, কিন্ত তারা কোথায় আছে জানা নেই বা তাদের ফোন নাম্বার নেই। একারনে তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের বাড়ীতে এখন কিন্ডারগার্ডেন স্কুল

Update Time : ১১:১৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

১৩ অক্টোবর, নিজস্ব  প্রতিনিধি

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের বাড়ীতে এখন কিন্ডারগার্ডেন স্কুল। ভৈরবের কৃতি সন্তান জিল্লুর রহমানের জন্মস্থান শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকায়। তিনি স্বাধীনতার পর ৫ বার কিশোরগঞ্জ-৬ ( ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসন থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তারিখে সাবেক সরকারের পতন ঘটলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত পালিয়ে যায়। সেই সময়ে দেশে বিশৃংখল অবস্থায় সারা দেশের মত জিল্লুর রহমানের নিজ বাসভবনটি দুর্বত্তরা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতিসাধান করে। ঘটনার দিন  তার বাসভবনে কেউ ছিলনা। এমনিতেই তার বাসায় কেউ থাকতনা। তবে তিনি ২০০৯ সালে দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তার একমাত্র ছেলে নাজমুল হাসান পাপন  তার আসনে সংসদ সদস্য হন ৪ বার। পাপন বিসিবি সভাপতিও ছিলেন তখন। রাজনৈনিক কারনে পাপন মাঝেমধ্য ভৈরবের পৈতৃক বাসায় আসাযাওয়া করতেন। মূলত জিল্লুর রহমান ঢাকায় গুলশানের নিজ বাসভবনে থাকতেন রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে। একারনে তার পরিবারের সবাই গুলশানের বাসায় বসবাস করতেন। একজন কেয়ারটেকার ভৈরবের বাসভবন দেখাশুনা করত। তার বাসভবনটি আইভি ভবন নামে পরিচিত। তার স্ত্রী মরহুম আইভি রহমানের স্মৃতিস্বরুপ বাসভবনের নাম। 

৫ আগস্টের পর পাপনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। অনেকের ধারনা পাপন সপরিবারে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তার বাসভবনটি ৫ আগস্ট বিকেলে দুর্বত্তরা ভাঙচুর- লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করলে প্রায় এক বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। যদিও তার বংশধর আছে কিন্ত কেউ বাড়ীতে যায়নি বা সংস্কার করেনি বাসভবনটি। বাসার প্রধান গেইটটি তালাবদ্ধ থাকত। অনেক উৎসুক মানুষ বাড়ীর বাইরে থেকে পরিত্যক্ত বাড়ীটি দেখত। 

বর্তমানে হঠাৎ এলাকাবাসী ও গণমাধ্যম কর্মীদের চোখে পড়ল তার বাসভবনে কিন্ডারগার্ডেন স্কুল। পরে খবর নিয়ে জানা গেল তার বাসভবনটি সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্ডেন স্কুল কর্তৃপক্ষকে ভাড়া দেয়া হয়েছে। জিল্লুর রহমানের বংশধর মরহুম তারা মিয়ার ছেলে নইম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পার্টনার। কিন্ডারগার্ডেন স্কুলটির মূল মালিক ভৈরবের প্রবীণ শিক্ষক অধ্যক্ষ আবদুল বাসেত। তার পাটনারের সহায়তায় বাসভবনটি ভাড়া নেয়া হয়েছে। তবে নিচতলাটি ভাড়া নিয়ে স্কুল পরিচালনা করা হলেও দুতলা ভাড়া দেয়া হয়নি। 

এবিষয়ে কিন্ডারগার্ডেন মালিক অধ্যক্ষ আবদুল বাসেতের সাথে যুগান্তর প্রতিনিধির আজ সোমবার কথা হলে তিনি বলেন, আমার স্কুলটি ১৯৮৭ সাল প্রতিষ্ঠিত করি। তখন জিল্লুর রহমানের চাচাত ভাই তারা মিয়া  আমার পার্টনার ছিল। তিনি মারা গেছেন। এখন তার ছেলে নইম পার্টনার হিসেবে আমার সাথে আছে। নইম জিল্লুর রহমানের ওয়ারিশের কারো সাথে আলাপ করে বাড়ীটি ভাড়ার ব্যবস্থা করে দেয়। ৫ আগস্টের পর বাসভবনটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ করে দুর্বত্তরা। ভৈরবের কৃতি সন্তান জিল্লুর রহমান ছিলেন অহিংসু নেতা। তিনি কারো ক্ষতি করেছেন আমার জানা নেই। বাসভবনটির সংস্কার মেরামত করতে আমার অনেক টাকা খরচ হয়েছে।  এটাকা আমি ভাড়া থেকে কর্তন করে নিব। এভাবেই কথা হয়েছে। তবে আমি নিচতলা ভাড়া নিলেও দুতলা ভাড়া নেইনি। তিনি বলেন বাসভবনটি শিক্ষার্থীদের পদচারনায় এখন ভাল থাকবে এবং আমিও একটি ভাল বাড়ী পেলাম ভাড়া হিসেবে। একারনেই আমি বাসভবসটি ভাড়া নিয়েছি। 

স্কুলের পার্টনার নইমের সাথে এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। 

এবিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জিল্লুর রহমানের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। তার দুইজন মেয়ে আছে, কিন্ত তারা কোথায় আছে জানা নেই বা তাদের ফোন নাম্বার নেই। একারনে তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।