১ জানুয়ারী, বিশেষ প্রতিনিধি:
ভৈরবের শিশু সাহাল (৩) হত্যার নেপথ্যে মূল কারন মায়ের পরকীয়া। প্রতিবেশী হাছান মিয়ার সাথে ছিল মা মোমেনা বেগমের প্রেম-ভালবাসা। এই পরকীয়াই জীবন গেল শিশুটির। পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে শিশু সাহাল হত্যার রহস্য পাওয়া গেল। ঘটনায় শিশুর দাদী নাসিমা বেগম (৫০) গতকাল মঙ্গলবার রাতে বাদী হয়ে প্রেমিক হাছানকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা করেছে ( মামলা নং ৩৫)।
গত সোমবার রাতে শিশু সাহাল তার মায়ের বাসা থেকে নিখোঁজ হয়। পরে শিশুটির মা রাতেই থানায় জিডি করে। পরে পুলিশ এদিন গভীররাতে অনুসন্ধান করে প্রতিবেশী হাছানের বাসার ওয়্যারড্রব থেকে মৃত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে। এসময় শিশু সাহালের মুখে টেপ লাগানো ছিল। ঘটনাটি ঘটেছে শহরের পঞ্চবটি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায়। উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকার কাতার প্রবাসী সানাউল্লাহ বাবুর ছেলে সাহাল। তার মায়ের নাম মোমেনা বেগম। ঘটনার পর পর পুলিশ প্রেমিক হাছানকে গ্রেফতার করে। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করার পর মঙ্গলবার ময়না তদন্ত করে। ঘটনায় মামলা করে দাদী।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে শিশু সাহাল হত্যার পিছনে রহস্য হলো মায়ের দুটি পরকীয়া। প্রেমিক হাছান নির্মমভাবে হত্যা করে শিশুটিকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশী এক মহিলা জনপদ সংবাদ প্রতিনিধিকে বলেন, পরিবারটির বাড়ী কালিকাপ্রসাদ হলেও শিশুর বাবা সানাউল্লাহ বাবু কাতার প্রবাসী হওয়ায় তারা পঞ্চবটিতে ভাড়া থাকত। বাসায় মা -ছেলে ছাড়া কেউ থাকতনা। প্রতিবেশী হাছান মিয়ার বাড়ী আশুগন্জের তল্লা গ্রামে। তার বাবার নাম এরশাদ আলী। সে মাঝেমধ্য অটোরিক্সা চালাত। আবার কখনও গার্ডের কাজ করত । তার স্ত্রী না থাকাই একাই বাসা ভাড়া নিয়ে পঞ্চবটি থাকত। স্বামীর অবর্তমানে শিশুর মা মোমেনা বেগম পাশের বাসার তার সাথে ( হাছানের সাথে) পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। আরেক প্রতিবেশী জানান, ইদানীং কোন কারনে মোমেনা বেগম হাছানকে বাদ দিয়ে অন্য একটি ছেলের প্রেমের পড়ে। একারনে মোমেনা বেগম গত কয়েকদিন যাবত হাছানের সাথে যোগাযোগ করছিলনা। ঘটনাটি হাছান জানতে পেরে মোমেনার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে রাগে ক্ষোভে ঘটনার দিন রুমের বারান্দা থেকে শিশু নাহালকে অপহরণ করে নিজ বাসায় নিয়ে গলাটিপে বা নাকমুখে টেপ লাগিয়ে তাকে হত্যা করার পর ওয়্যারড্রবে লুকিয়ে রাখে। হাছান ভেবেছিল পরদিন রাতে সাহালকে কোন স্থানে ফেলে দিবে। পুলিশের হাতে হত্যার ঘটনা ধরা পড়বে সে কখনও ভাবেনি। এসব পরকীয়ার কাহিনী এলাকার লোকজনের মুখে মুখে ঘূরপাক করছে। কিন্ত ভয়ে কেউ মুখ খুলছেনা, কথা বলতে চায়না। তবে জনপদ প্রতিনিধি আজ বুধবার এলাকায় ঘূরে ও পুলিশের সাথে কথা বলে ঘটনার নেপথ্যে কাহিনী বের করেছে। স্থানীয়দের ধারনা পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত করলে থলের বিড়াল বের হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভৈরব থানার উপ- পরিদর্শক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঘটনার পর পর আমরা হাছানের বাসা থেকে লাশ উদ্ধারের পর তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আমরা শিশুর মাকেও মঙ্গলবার আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি তবে পরকীয়ার কথা তিনি স্বীকার করেননি। তবে স্থানীয়দের কাছ থেকে পরকীয়ার বিষয়টি অবগত হয়েছি। হাছান ঘটনার পর আবোলতাবুল কথা বলেছে। তাকে রিমান্ডে এনে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পরকীয়ার বিষয়টি তদন্ত করব। ঘটনায় শিশুটির দাদী বাদী হয়ে মামলা করেছে। মাকে সন্দেহজনক মনে করেছি বলে বাদী করা হয়নি জানান তিনি।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শাহিন মিয়া জানান, শিশু হত্যার বিষয়টি নিয়ে পুলিশ অধিকতর তদন্ত করবে। মাকে আমরা ছেড়ে দিলেও পুলিশ যখন ডাকবে তখন আসার শর্তে তাকে ছেড়েছি। পরকীয়ার প্রমান পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Reporter Name 









