ভৈরবে ধর্ষন ও পর্নোগ্রাফী  মামলার ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার।।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ২১৩ Time View

১২ ডিসেম্বর, নিজস্ব  প্রতিনিধি:

ভৈরবে ধর্ষন ও পর্নোগ্রাফী মামলায় স্বামী স্ত্রী গ্রেফতার। তারা হলো স্বামী হুমায়ূন আহমেদ (৪১) ও স্ত্রী মৌসুমী বেগম (৩০)। ঘটনায় ধর্ষিতার মা নীলা আক্তার বাদী হয়ে গতকাল বুধবার রাতে নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফী আইনে  ভৈরব থানায় একটি মামলা করে ( মামলা নং ২১)। উপজেলা শিমুলকান্দি গ্রামের আতাউর রহমান ওরফে আফতাব মিয়ার ছেলে হুমায়ূন। মামলা করার পর রাতেই পুলিশ স্বামী – স্ত্রীকে তাদের বাসা থেকে গ্রেফতার করে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত দুইজনকে কিশোরগন্জ আদালতে চালান দেয়া হয়। ধর্ষিত মেয়েটিকে আজ বুধবার সকালে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য কিশোরগন্জ পাঠিয়েছে পুলিশ। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ূন বিবাহিত ও তাদের তিনটি সন্তান আছে। গত তিন বছর আগে সে দুবাই যান। সেখানে থাকার পর গত ৬ মাস আগে ফেসবুকে একটি মেয়ের সাথে পরিচয় হয়। মেয়েটির বাড়ী ভৈরব শহরের পঞ্চবটি এলাকায়। পরিচয়ের সূত্র ধরে ছয়মাস যাবত মেয়েটির সাথে ফোনে কথাবার্তাসহ ফেসবুকে  চ্যাট করত এবং অশ্লীল ছবি দুজনে আদান প্রদান করত। পরিচয়ের সময় হুমায়ূন নিজকে অবিবাহিত বলে পরিচিত দিত মেয়েটির কাছে। এরই মধ্য হুমায়ূন গত আড়াইমাস আগে দেশে এসে মেয়েটির সাথে দেখা করে তাকে টাকা-পয়সা ও উপহার দেয়। তারপর মেয়েটিকে ফুসলিয়ে গত ৩ অক্টোবর ও ৫ অক্টোবর ভৈরব বাজারের একটি বাসায় জোরপূর্বক ধর্ষন করে। পরে মেয়েটি তাকে বিবাহের জন্য চাপ দিলে সে বলে বিবাহিত, তাই বিয়ে করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এঘটনা মেয়েটির মা নীলা আক্তার জানার পর হুমায়ূনকে বিষয়টি মিটমাট করে কাউকে না জানাতে অনুরোধ করেছিল। কিন্ত হুমায়ূন মেয়েটিকে আবারও ধর্ষন করতে তাকে চাপসৃষ্টি ও হুমকি দিয়ে বলে তার কথায় রাজী না হলে ফেসবুকে মেয়ের অশ্লীল ছবি ছেড়ে দিবে। এমনকি তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগে বলা হয়। 

 এদিকে   স্বামীর এসব  ঘটনা গোপনে তার স্ত্রী মৌসুমী বেগম জানতে পেরে মেয়েটিকে ফোনে  গালাগালিসহ হুমকি প্রদান করে। মৌসুমী  তার  স্বামীর ফেসবুক থেকে মেয়েটির অশ্লীল ছবি সংগ্রহ করে মেয়েটির আত্মীয়- স্বজনসহ ফেসবুকে প্রচার করে স্ত্রী। পরে ঘটনা দেখে মেয়েটি তার মাকে নিয়ে বুধবার রাতে থানায় এসে পুলিশকে বিস্তারিত ঘটনা জানায়। এসময় থানার ওসিকে মেয়েটি বলে ঘটনায় মামলা না নিলে সে আত্মহত্যা করবে।  তারপর রাত ৯ টার দিকে থানায় মামলা নেয় পুলিশ এবং রাতেই স্বামী – স্ত্রীকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

এবিষয় ভিকটিমের মা ও মামলার বাদী নীলা আক্তার বলেন, হুমায়ূন আমার মেয়ের সাথে প্রতারণা করেছে। সে বিবাহিত হয়েও আমার মেয়েকে বিয়ের প্রভোলন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষন করে, অশ্লীল ছবি তুলেছে। এছবি তার স্ত্রী ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে আমার মেয়ের মানসন্মান নষ্ট করেছে। আমি বিচার পেতে থানায় মামলা করেছি।

ভৈরব থানার অফিসার ইসচার্জ ( ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শাহিন মিয়া জানান, ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে বুধবার  রাতে থানায় মামলা করেছে। নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফী আইনে এমামলা হয়। মামলার পর পর রাতেই তারা স্বামী – স্ত্রীকে পুলিশ গ্রেফতার করে এবং ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষা করতে আজ সকালে  কিশোরগন্জ পাঠানো হয়। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ভৈরবে ধর্ষন ও পর্নোগ্রাফী  মামলার ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার।।

Update Time : ০৪:২৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৪

১২ ডিসেম্বর, নিজস্ব  প্রতিনিধি:

ভৈরবে ধর্ষন ও পর্নোগ্রাফী মামলায় স্বামী স্ত্রী গ্রেফতার। তারা হলো স্বামী হুমায়ূন আহমেদ (৪১) ও স্ত্রী মৌসুমী বেগম (৩০)। ঘটনায় ধর্ষিতার মা নীলা আক্তার বাদী হয়ে গতকাল বুধবার রাতে নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফী আইনে  ভৈরব থানায় একটি মামলা করে ( মামলা নং ২১)। উপজেলা শিমুলকান্দি গ্রামের আতাউর রহমান ওরফে আফতাব মিয়ার ছেলে হুমায়ূন। মামলা করার পর রাতেই পুলিশ স্বামী – স্ত্রীকে তাদের বাসা থেকে গ্রেফতার করে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত দুইজনকে কিশোরগন্জ আদালতে চালান দেয়া হয়। ধর্ষিত মেয়েটিকে আজ বুধবার সকালে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য কিশোরগন্জ পাঠিয়েছে পুলিশ। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ূন বিবাহিত ও তাদের তিনটি সন্তান আছে। গত তিন বছর আগে সে দুবাই যান। সেখানে থাকার পর গত ৬ মাস আগে ফেসবুকে একটি মেয়ের সাথে পরিচয় হয়। মেয়েটির বাড়ী ভৈরব শহরের পঞ্চবটি এলাকায়। পরিচয়ের সূত্র ধরে ছয়মাস যাবত মেয়েটির সাথে ফোনে কথাবার্তাসহ ফেসবুকে  চ্যাট করত এবং অশ্লীল ছবি দুজনে আদান প্রদান করত। পরিচয়ের সময় হুমায়ূন নিজকে অবিবাহিত বলে পরিচিত দিত মেয়েটির কাছে। এরই মধ্য হুমায়ূন গত আড়াইমাস আগে দেশে এসে মেয়েটির সাথে দেখা করে তাকে টাকা-পয়সা ও উপহার দেয়। তারপর মেয়েটিকে ফুসলিয়ে গত ৩ অক্টোবর ও ৫ অক্টোবর ভৈরব বাজারের একটি বাসায় জোরপূর্বক ধর্ষন করে। পরে মেয়েটি তাকে বিবাহের জন্য চাপ দিলে সে বলে বিবাহিত, তাই বিয়ে করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এঘটনা মেয়েটির মা নীলা আক্তার জানার পর হুমায়ূনকে বিষয়টি মিটমাট করে কাউকে না জানাতে অনুরোধ করেছিল। কিন্ত হুমায়ূন মেয়েটিকে আবারও ধর্ষন করতে তাকে চাপসৃষ্টি ও হুমকি দিয়ে বলে তার কথায় রাজী না হলে ফেসবুকে মেয়ের অশ্লীল ছবি ছেড়ে দিবে। এমনকি তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগে বলা হয়। 

 এদিকে   স্বামীর এসব  ঘটনা গোপনে তার স্ত্রী মৌসুমী বেগম জানতে পেরে মেয়েটিকে ফোনে  গালাগালিসহ হুমকি প্রদান করে। মৌসুমী  তার  স্বামীর ফেসবুক থেকে মেয়েটির অশ্লীল ছবি সংগ্রহ করে মেয়েটির আত্মীয়- স্বজনসহ ফেসবুকে প্রচার করে স্ত্রী। পরে ঘটনা দেখে মেয়েটি তার মাকে নিয়ে বুধবার রাতে থানায় এসে পুলিশকে বিস্তারিত ঘটনা জানায়। এসময় থানার ওসিকে মেয়েটি বলে ঘটনায় মামলা না নিলে সে আত্মহত্যা করবে।  তারপর রাত ৯ টার দিকে থানায় মামলা নেয় পুলিশ এবং রাতেই স্বামী – স্ত্রীকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

এবিষয় ভিকটিমের মা ও মামলার বাদী নীলা আক্তার বলেন, হুমায়ূন আমার মেয়ের সাথে প্রতারণা করেছে। সে বিবাহিত হয়েও আমার মেয়েকে বিয়ের প্রভোলন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষন করে, অশ্লীল ছবি তুলেছে। এছবি তার স্ত্রী ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে আমার মেয়ের মানসন্মান নষ্ট করেছে। আমি বিচার পেতে থানায় মামলা করেছি।

ভৈরব থানার অফিসার ইসচার্জ ( ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শাহিন মিয়া জানান, ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে বুধবার  রাতে থানায় মামলা করেছে। নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফী আইনে এমামলা হয়। মামলার পর পর রাতেই তারা স্বামী – স্ত্রীকে পুলিশ গ্রেফতার করে এবং ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষা করতে আজ সকালে  কিশোরগন্জ পাঠানো হয়। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।