৯ সেপ্টেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি:
ভৈরবে মেঘনা নদীতে ভাঙ্গনের কারনে বিএডিসি’র দুটি গুদামে ১৮ কোটি টাকা মূল্যের ৯ হাজার ৭৩ টন নন- ইউরিয়া সার মজুত ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকলেও কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই। গতকাল রোববার গভীর রাত তিনটায় এই ভাঙ্গন শুরু হলে আজ সোমবার পর্যন্ত ১৬০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। রোববার ঘটনার পর এপর্যন্ত কিশোরগন্জ জেলার যুগ্ম- পরিচালক ( সার) ইকবাল মোহাম্মদ মুত্তাকিন ছাড়া বিএডিসি’র প্রধান কার্যালয়ের উর্ধতন কোন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেনি। ভাঙ্গনরোধে এখনও প্রয়োজনীয় জরুরী কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ডিলার ও স্থানীয়দের মধ্য ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিএডিসি ভৈরব সার গুদামের দায়িত্ব পালনকারী সহকারী পরিচালক ( সার) শিপন সাহা ও যুগ্ম- পরিচালক ( সার) ইকবাল মোহাম্মদ মুত্তাকিন দুজনই পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশায় আছেন। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ দুদিন দুইশ জিও ( ২০০ বস্তা বালু) ফেলেছে যমুনা অয়েল কোম্পানীর অফিসের সামনে। বর্তমানে ভাঙ্গন অব্যাহত আছে। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে দুটি গুদামের ১৮ কোটি টাকার সার নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এমুহর্তে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ তাদের সার ক্ষতি থেকে বাচাঁতে নিজদের উদ্যেগে প্রতিষ্ঠানের ফান্ডের টাকা ব্যয় করে জিও ফেললে সহজেই ক্ষতি থেকে রক্ষা পেত। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে তাদের লেবার খরচের ফান্ড নেই, ফান্ড পেতে হলে অফিসিয়াল প্রসিসিংএ কয়েকদিন সময় লাগবে। তারা জিও ও বালু দিতে পারবে দ্রুত কিন্ত লেবার দিয়ে কাজ করাতে হলে ২৫ লাখ টাকার প্রয়োজন যা দ্রুত দেয়া সম্ভব নয়। বিএডিসির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জেনারেল ম্যানেজার ( সার ব্যবস্থাপনা) বা অন্য কোন উর্ধতন কর্তৃপক্ষ দুদিনের মধ্য কেউ ভৈরব গুদামের নিকটে ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে গুরুত্ব দেয়নি।

ভৈরব গুদাম থেকে ভৈরবসহ হাওরের তিনটি উপজেলায় ডিলারদেরকে সার সরবরাহ দিয়ে কৃষকের চাহিদা পূরণ করা হয়। দুটি গুদামের সার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে আগামী রবি ও বোরো মৌসুমে কৃষকরা সময়মত চাহিদার সার পাবেনা বলে স্থানীয় ডিলারগন জানান।
এখানে উল্লেখ্য ২০১৪ সালে বিএডিসির খামখেয়ালীপনা ও অবহেলায় ভৈরব বিএডিসির দুটি সার গুদাম থেকে ২৩ কোটি টাকা মূল্যের ৯৬ হাজার বস্তা ( ৪৮০০টন) সার চুরি হয়েছিল। যুগান্তরের অনুসন্ধানে তৎসময়ে চুরির রহস্য উদঘাটন হয়েছিল। পরে মামলা হলে গুদামের সহকারী পরিচালক ( সারর) রেজাউল করিম ও যুগ্ম- পরিচালক আহাদ আলীসহ ৭ জনের সাজা জরিমানা হলেও তারা এখন জামিনে আছে। চুরির ঘটনায় মুল আসামী গুদাম রক্ষক খোরশেদ আহমেদ মারা যাওয়ায় তার বিচার হয়নি।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন ( বিএফএ), কিশোরগন্জ জেলা ইউনিটের সভাপতি তারিক আহমেদ বলেন, ভাঙ্গনে গুদাম দুটি নদীগর্ভে বিলীন হলে ১৮ কোটি টাকার সার ক্ষতি হবে এবং ডিলার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়বে। বিএডিসি কর্তৃপক্ষ নিজদের ফান্ডের টাকা ব্যয় করে দ্রুত ভাঙ্গনরোধ করা উচিত। তানাহলে বিএডিসি মারাত্মক ক্ষতিতে পড়বে।
এবিষয়ে বিএডিসি’র কিশোরগন্জের যুগ্ম- পরিচালক ইকবাল মোহাম্মদ মুত্তাকিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে রোববার দুপুরে আমি ঘটনাস্থল ভৈরব পরিদর্শন করেছি, তবে প্রধান কার্যালয় থেকে কোন উর্ধতন কর্মকর্তা আসেননি বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকেসহ বিএডিসির উর্ধতন কর্মকর্তাকে ঘটনা অবহিত করেছি। কর্তৃপক্ষ নজর রাখছেন, তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যা করা হয় তা হবে। আমার কাছে কোন ফান্ড নেই টাকা দিয়ে আমি কাজ করাব। ১৮ কোটি টাকার সার বাঁচাতে ২৫ লাখ টাকা খরচ করা উচিত কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন এব্যাপারে খরচ করার কোন ফান্ড আমার কাছে নেই।
ভৈরব বিএডিসি’র গুদামের সহকারী পরিচালক ( সার) শিপন সাহা জানান, ভাঙ্গনের ঘটনায় আমি আতংকে আছি। ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেলে ১৮ কোটি টাকার সার ও অফিসঘর, গুদাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে আমি বার বার ফোন দিয়ে ঘটনা অবহিত করছি।
Reporter Name 









