রাষ্ট্রীয় নিয়মের বেড়াজালে আটকে  ভৈরবে গার্ড অব অনার পেলেন না বীর  মুক্তিযোদ্ধা আবু লায়েস। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ২৬৫ Time View

৭ মার্চ,  নিজস্ব  প্রতিনিধি

বীরের শেষ বিদায়ে নিয়মের বাধাতে আটকে গেল গার্ড অব অনার। একারনে ভৈরবের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু লায়েস মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার পেলনা। প্রশাসনের বিনম্র শ্রদ্ধা গার্ড অব অনার ছাড়াই তাকে দাফন করতে হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর ভৈরব শহরের জগনাথপুর গ্রামে। 

​একাত্তরের রণাঙ্গনে যে অকুতোভয় যোদ্ধা দেশের পতাকাকে সমুন্নত রাখতে মৃত্যুকে তুচ্ছ করেছিলেন, জীবনের শেষ বিদায় বেলায় সেই রাষ্ট্রের কাছ থেকেই পেলেন না কাঙ্ক্ষিত শেষ সম্মান। রাষ্ট্রীয় নিয়মের ‘সূর্যাস্ত’ আইনের বেড়াজালে পরে  বিউগলের শেষ সুর আর গার্ড অব অনার ছাড়াই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু লায়েস।

​শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে  ভৈরব উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই  ঘটনায় তার  পরিবার ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ  বিরাজ করছে।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ  আবু লায়েস গতকাল শুক্রবার  দুপুরে সিলেটে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ ৩০ বছর চাকরির সুবাদে তিনি সিলেটে স্বপরিবারে বসবাস করলেও তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল নিজ গ্রামে সমাহিত হওয়ার। কিন্তু সিলেট থেকে মরদেহ ভৈরবে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সূর্যাস্তের পর রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানের কোন  বিধান নেই। তার মৃত্যুর সংবাদটি দুপুরেই উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছিল। 

নিহতের নাতি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার দাদা দেশমাতৃকার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন। সারাজীবন দেশপ্রেম বুকে লালন করেছেন। আমাদের চাওয়া ছিল শেষ বিদায়ে তিনি যেন পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মান পান। কিন্তু সিলেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মরদেহ গ্রামে আনতে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় সেই সম্মানটুকু আর দেওয়া হলো না। নিয়মের দোহাই দিয়ে সব আয়োজন থমকে গেল। আমি দুপুরের দিকে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করি কিন্তু রাতে জানাযা হবে জেনে  সূর্যাস্তের পর রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানের বিধান নেই বলে তিনি  জানান।

​স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা কমান্ডার মোঃ তোফাজ্জল হক  জানান, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে  শেষ বিদায় জানানোর জন্য সূর্যাস্তের বিষয়টি বাধা হওয়া উচিত নয়। তিনি  বলেন, আবু লায়েস আমাদের গর্ব ছিলেন। সূর্যাস্তের পর গার্ড অব অনার দেয়া যায়না, এমন নিয়মে  একজন বীরের শেষ সম্মান কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। অন্ধকারে পতাকার  দোহাই নয়, বরং বীরের মহাপ্রয়াণে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আন্তরিকতাই হওয়া উচিত ছিল প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

এ বিষয়ে ​ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  কে.এম মামুনুর রশীদ জানান, রাষ্ট্রীয় নীতিমালা অনুযায়ী, গার্ড অব অনার সূর্যাস্তের আগে প্রদান করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কারণ পতাকা সূর্যাস্তের প্রদর্শন করার নিয়ম নেই।  মরদেহ পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যাওয়ায় এবং সূর্যাস্ত পরবর্তী সময় হওয়ায় আমাদের পক্ষে গার্ড অব অনার প্রদান করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, আমরা তার পরিবারকে বলেছিলাম পরদিন শনিবার সকালে দাফন করার ব্যবস্থা করা হলে গার্ড অব অর্নারের ব্যবস্থা করব। কিন্ত তার পরিবার একথা না মেনে রাতেই দাফন করে ফেলে। ইতিপূর্বে ভৈরবে এমন ঘটনায় পরদিন একজন  বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বিধানের বাইরে গিয়ে আমার কিছু করার সুযোগ নেই। 

পরে ​রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতেই নিজ গ্রাম জগন্নাথপুরে জানাজা শেষে লক্ষীপুর কবরস্থানে তাকে  দাফন করা হয়। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রীয় নিয়মের বেড়াজালে আটকে  ভৈরবে গার্ড অব অনার পেলেন না বীর  মুক্তিযোদ্ধা আবু লায়েস। 

Update Time : ০১:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

৭ মার্চ,  নিজস্ব  প্রতিনিধি

বীরের শেষ বিদায়ে নিয়মের বাধাতে আটকে গেল গার্ড অব অনার। একারনে ভৈরবের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু লায়েস মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার পেলনা। প্রশাসনের বিনম্র শ্রদ্ধা গার্ড অব অনার ছাড়াই তাকে দাফন করতে হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর ভৈরব শহরের জগনাথপুর গ্রামে। 

​একাত্তরের রণাঙ্গনে যে অকুতোভয় যোদ্ধা দেশের পতাকাকে সমুন্নত রাখতে মৃত্যুকে তুচ্ছ করেছিলেন, জীবনের শেষ বিদায় বেলায় সেই রাষ্ট্রের কাছ থেকেই পেলেন না কাঙ্ক্ষিত শেষ সম্মান। রাষ্ট্রীয় নিয়মের ‘সূর্যাস্ত’ আইনের বেড়াজালে পরে  বিউগলের শেষ সুর আর গার্ড অব অনার ছাড়াই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু লায়েস।

​শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে  ভৈরব উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই  ঘটনায় তার  পরিবার ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ  বিরাজ করছে।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ  আবু লায়েস গতকাল শুক্রবার  দুপুরে সিলেটে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ ৩০ বছর চাকরির সুবাদে তিনি সিলেটে স্বপরিবারে বসবাস করলেও তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল নিজ গ্রামে সমাহিত হওয়ার। কিন্তু সিলেট থেকে মরদেহ ভৈরবে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সূর্যাস্তের পর রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানের কোন  বিধান নেই। তার মৃত্যুর সংবাদটি দুপুরেই উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছিল। 

নিহতের নাতি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার দাদা দেশমাতৃকার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন। সারাজীবন দেশপ্রেম বুকে লালন করেছেন। আমাদের চাওয়া ছিল শেষ বিদায়ে তিনি যেন পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মান পান। কিন্তু সিলেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মরদেহ গ্রামে আনতে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় সেই সম্মানটুকু আর দেওয়া হলো না। নিয়মের দোহাই দিয়ে সব আয়োজন থমকে গেল। আমি দুপুরের দিকে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করি কিন্তু রাতে জানাযা হবে জেনে  সূর্যাস্তের পর রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানের বিধান নেই বলে তিনি  জানান।

​স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা কমান্ডার মোঃ তোফাজ্জল হক  জানান, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে  শেষ বিদায় জানানোর জন্য সূর্যাস্তের বিষয়টি বাধা হওয়া উচিত নয়। তিনি  বলেন, আবু লায়েস আমাদের গর্ব ছিলেন। সূর্যাস্তের পর গার্ড অব অনার দেয়া যায়না, এমন নিয়মে  একজন বীরের শেষ সম্মান কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। অন্ধকারে পতাকার  দোহাই নয়, বরং বীরের মহাপ্রয়াণে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আন্তরিকতাই হওয়া উচিত ছিল প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

এ বিষয়ে ​ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  কে.এম মামুনুর রশীদ জানান, রাষ্ট্রীয় নীতিমালা অনুযায়ী, গার্ড অব অনার সূর্যাস্তের আগে প্রদান করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কারণ পতাকা সূর্যাস্তের প্রদর্শন করার নিয়ম নেই।  মরদেহ পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যাওয়ায় এবং সূর্যাস্ত পরবর্তী সময় হওয়ায় আমাদের পক্ষে গার্ড অব অনার প্রদান করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, আমরা তার পরিবারকে বলেছিলাম পরদিন শনিবার সকালে দাফন করার ব্যবস্থা করা হলে গার্ড অব অর্নারের ব্যবস্থা করব। কিন্ত তার পরিবার একথা না মেনে রাতেই দাফন করে ফেলে। ইতিপূর্বে ভৈরবে এমন ঘটনায় পরদিন একজন  বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বিধানের বাইরে গিয়ে আমার কিছু করার সুযোগ নেই। 

পরে ​রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতেই নিজ গ্রাম জগন্নাথপুরে জানাজা শেষে লক্ষীপুর কবরস্থানে তাকে  দাফন করা হয়।