বিজয়ের মাসে  ভৈরবে ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা ও উপহার প্রদান। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৯৯ Time View

২৯ ডিসেম্বর, নিজস্ব  প্রতিনিধি

বিজয়ের মাসে ভৈরবে ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা ও উপহার প্রদান করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, ভৈরব উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬ টায় স্থানীয় ফুড প্যালেস রেস্টুরেন্টের হলরুমে এই আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, যুগান্তর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান ফারুক। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, অতিথি ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ তোফাজ্জল হক, যুগ্ম- আহবায়ক হাবিবুল বাহার, সদস্য সচিব মোঃ ফজলুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজি শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার  সভাপতি সারোয়ার আলম মাসুদ, সা্ধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম আঙ্গুর, সহ-সভাপতি ফাতেমা বেগম।  সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দেলুয়ার হোসেন সুজন অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন।  অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান  মোঃ সজীব আহমেদ। 

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন ভৈরব পৌরসভার তিনবারের সফল মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল আলম আক্কাছ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি বীর মুক্তিযোদ্ধা এড, ফিরোজুর রহজমান মোল্লা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তোফাজ্জল হক, মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল বাহার,  ফরিদ আহমেদ,  মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোঃ মোস্তাক আহমেদ প্রমূখ। 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই দোয়া মিলাদ পড়ানোর পর শহীদ ও নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। তারপর বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এরপর উপস্থিত ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিজয়-২৫ লেখা ও মুক্তিযুদ্ধের লঘূ সম্বলিত একটি করে মাফলার এবং একটি করে গ্লাস মগ উপহার প্রদান করে সন্মানিত করা হয়। 

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাগন তাদের বক্তব্যে বলেন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ না হলে কখনও দেশ স্বাধীন হতনা। আর দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই আজ আমরা স্বাধীনভাবে বসবাস করছি। শিক্ষিতরা সরকারী বড় বড় পদে চাকরি করতে পারছে। ৫ আগেস্টের পর একটি কুচক্রি মহল মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নিয়ে নানা কুটুক্তি করছে, অনেক স্থানে শারীরিকভাবে লান্হিত করেছে। এই মহলটি প্রচার করছে ৫ আগস্ট তারা দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছে। দেশ কখনও দুইবার স্বাধীন হয়না। গণঅভর্থুনকে তারা নতুন স্বাধীনতা দাবি করছে। ইতিহাসকে বিকৃত করছে তারা। তারা বলেন, আমরা হাতিয়ার জমা দিলেও মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং জমা দেয়নি। কুচক্রি মহলটিকে আমরা প্রতিহত করব। 

সভাপতি আসাদুজ্জামান ফারুক বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা এখন বয়সের ভারে নিমজ্জিত। কিন্ত আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানগন এখনও বেঁচে আছি। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বাবা- চাচারা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যারা মুছে ফেলতে চাই এই কুচুক্রি মহলকে আমরা ছাড় দিবনা। 

সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি সারোয়ার আলম মাসুদ বলেন, আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। যখন পৃথিবীতে মুক্তিযোদ্ধাগন বেঁচে থাকবেনা তখন আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখব। 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা বিএনপির সভাপতি  মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের দল মুক্তিযুদ্ধাদের সন্মান করে ও ৭১ এর চেতনাকে বিশ্বাস করে। মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে আমরা আছি থাকব। 

রাত ৯ টায় অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত  মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ডিনার করানোর পর অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

বিজয়ের মাসে  ভৈরবে ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা ও উপহার প্রদান। 

Update Time : ০৫:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

২৯ ডিসেম্বর, নিজস্ব  প্রতিনিধি

বিজয়ের মাসে ভৈরবে ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা ও উপহার প্রদান করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, ভৈরব উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬ টায় স্থানীয় ফুড প্যালেস রেস্টুরেন্টের হলরুমে এই আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, যুগান্তর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান ফারুক। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, অতিথি ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ তোফাজ্জল হক, যুগ্ম- আহবায়ক হাবিবুল বাহার, সদস্য সচিব মোঃ ফজলুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজি শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার  সভাপতি সারোয়ার আলম মাসুদ, সা্ধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম আঙ্গুর, সহ-সভাপতি ফাতেমা বেগম।  সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দেলুয়ার হোসেন সুজন অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন।  অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান  মোঃ সজীব আহমেদ। 

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন ভৈরব পৌরসভার তিনবারের সফল মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল আলম আক্কাছ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি বীর মুক্তিযোদ্ধা এড, ফিরোজুর রহজমান মোল্লা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তোফাজ্জল হক, মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল বাহার,  ফরিদ আহমেদ,  মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোঃ মোস্তাক আহমেদ প্রমূখ। 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই দোয়া মিলাদ পড়ানোর পর শহীদ ও নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। তারপর বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এরপর উপস্থিত ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিজয়-২৫ লেখা ও মুক্তিযুদ্ধের লঘূ সম্বলিত একটি করে মাফলার এবং একটি করে গ্লাস মগ উপহার প্রদান করে সন্মানিত করা হয়। 

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাগন তাদের বক্তব্যে বলেন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ না হলে কখনও দেশ স্বাধীন হতনা। আর দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই আজ আমরা স্বাধীনভাবে বসবাস করছি। শিক্ষিতরা সরকারী বড় বড় পদে চাকরি করতে পারছে। ৫ আগেস্টের পর একটি কুচক্রি মহল মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নিয়ে নানা কুটুক্তি করছে, অনেক স্থানে শারীরিকভাবে লান্হিত করেছে। এই মহলটি প্রচার করছে ৫ আগস্ট তারা দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছে। দেশ কখনও দুইবার স্বাধীন হয়না। গণঅভর্থুনকে তারা নতুন স্বাধীনতা দাবি করছে। ইতিহাসকে বিকৃত করছে তারা। তারা বলেন, আমরা হাতিয়ার জমা দিলেও মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং জমা দেয়নি। কুচক্রি মহলটিকে আমরা প্রতিহত করব। 

সভাপতি আসাদুজ্জামান ফারুক বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা এখন বয়সের ভারে নিমজ্জিত। কিন্ত আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানগন এখনও বেঁচে আছি। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বাবা- চাচারা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যারা মুছে ফেলতে চাই এই কুচুক্রি মহলকে আমরা ছাড় দিবনা। 

সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি সারোয়ার আলম মাসুদ বলেন, আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। যখন পৃথিবীতে মুক্তিযোদ্ধাগন বেঁচে থাকবেনা তখন আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখব। 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা বিএনপির সভাপতি  মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের দল মুক্তিযুদ্ধাদের সন্মান করে ও ৭১ এর চেতনাকে বিশ্বাস করে। মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে আমরা আছি থাকব। 

রাত ৯ টায় অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত  মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ডিনার করানোর পর অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।