ভৈরবে গ্যাস সিলিন্ডারে  ১৫ জন  অগ্নিদগ্ধ। মুমর্ষ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসা জন্য  ১২ জনকে ঢাকায় প্রেরণ। 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২০৯ Time View

৫ ডিসেম্বর, নিজস্ব  প্রতিনিধি

 ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের টুকচাঁনপুর চরপাড়া এলাকায়  গ্যাস সিলিন্ডারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ১৫ জন অগ্নিদগ্ধ হয়। গতকাল  বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়  লুন্দিয়া চরপাড়া মেঘনা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহতদেরকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তারগন গুরুতর আহত ১২ জনকে ঢাকা জাতীয়  বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ইনস্টিউটে   উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেয়। 

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার  প্রতিদিনের মত জহির মিয়া তার দোকানে সন্ধ্যায়  খাবার নাস্তা  বিক্রি শেষ করে বের হয়ে  যায়। এর আগে   ভুলক্রমে গ্যাস সিলিন্ডারের রেগুলেটরের সুইস   বন্ধ না করে দোকান তালা দিয়ে   চলে যায়। বন্ধ দোকানে   দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস বের হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় এক পর্যায়ে দোকানে  হঠাৎ আগুন লেগে গেলে আগুন ছড়িয়ে পরে। ঘটনার সময়  দোকানের সামনে রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা প্রাইমারী স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী  ও পথচারীদের শরীরে  গ্যাসের আগুন লেগে যায়।  এসময়  প্রায় ১৫ জন  আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদেরকে  শরীরে  লাগা আগুন নিভিয়ে তাদের সবাই কে উদ্ধার করে ভৈরব  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে এদের মধ্যে ১২জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত  চিকিৎসক তাদের ঢাকায় রেফার্ড করে। বাকি ৩জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। আহতরা হলো , হারুন মিয়া (৪০) পিতা-জয়ধর মিয়া ,সোহাগ মিয়া (১০)পিতা-বাতেন মিয়া, ওয়াসিবুল (১০) পিতা-আঙ্গুর মিয়া ,সামিউল (৯) পিতা তৌহিদ মিয়া, আল আমিন (৮) পিতা- মৃত জাহাঙ্গীর মিয়া, শুভ( ৮) পিতা-এরশাদ মিয়া ,নিরব (১৫)পিতা -উজ্জল মিয়া, রাহাত(১২) পিতা -জিয়া রহমান, ফাহিম (১০)পিতা- মনসুর মিয়া, আমিন (১০) পিতা -রতন মিয়া, হেকিম মিয়া (৫৫) পিতা -জব্বার মিয়া ,সেরাজুল (১০) পিতা- আসাদুল্লাহ, ছিদ্দিক মিয়া(৫৮)পিতা- খালেক মিয়া, মোর্শিদ মিয়া (৫৫) পিতা -আঃ মালেক, নাছির মিয়া(৪০) পিতা – মৃত মোমতাজ মেম্বার। আহতদের মধ্যে হারুন নামের একজনের শরীর প্রায় ৮০ % পুড়ে যায়।  বর্তমানের তার অবস্থা আশংকা জনক  রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানায়। 

এবিষয় এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ শফিকুল ইসলাম শেখ জানান, আমি দোকান থেকে কিছুটা দূরে দাড়িঁয়ে ছিলাম। হঠাৎ রাস্তায় আগুন দেখে ভয় পেলাম। পরে দেখলাম বেশ কয়েকজন আগুনে দগ্ধ হয়। তারপর জানতে পারি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ঘটনাটি ঘটে। এরপর এলাকাবাসী দ্রুত আহতদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য  পাঠায়।  

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ কিশোর কুমার ধর জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর গ্যাস সিলিন্ডারে অগ্নিদগ্ধ ১৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। তার মধ্য ১২ জনের অবস্থা খারাপ ছিল। হারুন নামের একজনের ৮০% এবং অন্যদের শরীর ২০%, ৩০% পুড়ে গেছে। এদের চিকিৎসা আমাদের হাসপাতালে করা সম্ভব নয় বলে ঢাকায় রেফার্ড করেছি। বাকী ৩ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়, তারা কিছুটা ভাল আছে। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভৈরবে সাবেক মেয়রের জানাজায় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ভৈরবে গ্যাস সিলিন্ডারে  ১৫ জন  অগ্নিদগ্ধ। মুমর্ষ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসা জন্য  ১২ জনকে ঢাকায় প্রেরণ। 

Update Time : ০৯:৩১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

৫ ডিসেম্বর, নিজস্ব  প্রতিনিধি

 ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের টুকচাঁনপুর চরপাড়া এলাকায়  গ্যাস সিলিন্ডারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ১৫ জন অগ্নিদগ্ধ হয়। গতকাল  বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়  লুন্দিয়া চরপাড়া মেঘনা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহতদেরকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তারগন গুরুতর আহত ১২ জনকে ঢাকা জাতীয়  বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ইনস্টিউটে   উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেয়। 

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার  প্রতিদিনের মত জহির মিয়া তার দোকানে সন্ধ্যায়  খাবার নাস্তা  বিক্রি শেষ করে বের হয়ে  যায়। এর আগে   ভুলক্রমে গ্যাস সিলিন্ডারের রেগুলেটরের সুইস   বন্ধ না করে দোকান তালা দিয়ে   চলে যায়। বন্ধ দোকানে   দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস বের হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় এক পর্যায়ে দোকানে  হঠাৎ আগুন লেগে গেলে আগুন ছড়িয়ে পরে। ঘটনার সময়  দোকানের সামনে রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা প্রাইমারী স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী  ও পথচারীদের শরীরে  গ্যাসের আগুন লেগে যায়।  এসময়  প্রায় ১৫ জন  আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদেরকে  শরীরে  লাগা আগুন নিভিয়ে তাদের সবাই কে উদ্ধার করে ভৈরব  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে এদের মধ্যে ১২জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত  চিকিৎসক তাদের ঢাকায় রেফার্ড করে। বাকি ৩জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। আহতরা হলো , হারুন মিয়া (৪০) পিতা-জয়ধর মিয়া ,সোহাগ মিয়া (১০)পিতা-বাতেন মিয়া, ওয়াসিবুল (১০) পিতা-আঙ্গুর মিয়া ,সামিউল (৯) পিতা তৌহিদ মিয়া, আল আমিন (৮) পিতা- মৃত জাহাঙ্গীর মিয়া, শুভ( ৮) পিতা-এরশাদ মিয়া ,নিরব (১৫)পিতা -উজ্জল মিয়া, রাহাত(১২) পিতা -জিয়া রহমান, ফাহিম (১০)পিতা- মনসুর মিয়া, আমিন (১০) পিতা -রতন মিয়া, হেকিম মিয়া (৫৫) পিতা -জব্বার মিয়া ,সেরাজুল (১০) পিতা- আসাদুল্লাহ, ছিদ্দিক মিয়া(৫৮)পিতা- খালেক মিয়া, মোর্শিদ মিয়া (৫৫) পিতা -আঃ মালেক, নাছির মিয়া(৪০) পিতা – মৃত মোমতাজ মেম্বার। আহতদের মধ্যে হারুন নামের একজনের শরীর প্রায় ৮০ % পুড়ে যায়।  বর্তমানের তার অবস্থা আশংকা জনক  রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানায়। 

এবিষয় এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ শফিকুল ইসলাম শেখ জানান, আমি দোকান থেকে কিছুটা দূরে দাড়িঁয়ে ছিলাম। হঠাৎ রাস্তায় আগুন দেখে ভয় পেলাম। পরে দেখলাম বেশ কয়েকজন আগুনে দগ্ধ হয়। তারপর জানতে পারি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ঘটনাটি ঘটে। এরপর এলাকাবাসী দ্রুত আহতদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য  পাঠায়।  

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ কিশোর কুমার ধর জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর গ্যাস সিলিন্ডারে অগ্নিদগ্ধ ১৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। তার মধ্য ১২ জনের অবস্থা খারাপ ছিল। হারুন নামের একজনের ৮০% এবং অন্যদের শরীর ২০%, ৩০% পুড়ে গেছে। এদের চিকিৎসা আমাদের হাসপাতালে করা সম্ভব নয় বলে ঢাকায় রেফার্ড করেছি। বাকী ৩ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়, তারা কিছুটা ভাল আছে।